২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি বলছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ১৯ শতকের শেষের দিকের তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক পাঁচ-চার সেন্টিগ্রেড বেশি। আজারবাইজানের বাকুতে ১২ দিনের (১১ থেকে ২২ নভেম্বর) জলবায়ু বিষয়ক, কপ ২৯ সম্মেলনের প্রথমদিন এ সতর্কবার্তা দেয় জাতিসংঘ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সোমবার উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সিমন স্টিল বলেন, এবার সম্মেলনে নতুন জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের একমত হতে হবে। একই সঙ্গে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ দেশ কার্বন দ্রুত নিঃসরণ কমাতে না পারলে, প্রতিটি দেশকেই মূল্য চোকাতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

২০১৫ সালে প্যারিসে এমন এক সম্মেলন থেকে উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল দেশগুলো। সেই লক্ষ্য পূরণে করণীয় ঠিক হতে পারে এবারের বাকু সম্মেলনে। প্রাকশিল্প যুগের চেয়ে এই বছরই বৈশি^ক উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রির বেশি হতে দেখা গেছে। তবু জাতিসংঘ মনে করে সময় ফুরিয়ে যায়নি।
গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন যে, ২০২৪ বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হবে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) জানিয়েছে, তাপমাত্রা রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে এটি। উষ্ণতায় এই বছরটি ২০২৩ সালকে যে পেছনে ফেলে দেবে এ বিষয়ে ‘কার্যত নিশ্চিত’ তারা। জলবায়ু পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দেশটিতে পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত নানা আইন বাতিল করেন ট্রাম্প। তখন প্রথম দেশ হিসেবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ২০২৪ সালই হবে প্রথম বছর, যখন প্রাকশিল্প যুগের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় বিশ্ব ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উষ্ণ হবে। প্রাকশিল্প যুগে মানুষ শিল্প খাতে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে শুরু করেছিল। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে নির্গমন হওয়া কার্বন-ডাই অক্সাইড বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধান কারণ। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধের চেষ্টা করতে সম্মত হয়েছিল। বিশ্ব সেই লক্ষ্যমাত্রায় এখনও পৌঁছায়নি।
এবারের আজারবাইজানের বাকু শহরে ২০০ মতো দেশ থেকে রাষ্ট্রনেতা ও বিজ্ঞানীরা কপ ২৯ সম্মেলনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ৭০ হাজারের বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে এই সম্মেলন চলবে। আলোচনায় থাকছে, ইউক্রেন ও গাজায় যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ইস্যুও।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















