১৯৪৩ সালে “মিসেস মিনিভার” সিনেমার জন্য, ব্রিটিশ অভিনেত্রী গ্রির গারসনের হাতে উঠে আসে সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার। অস্কারের মঞ্চে সাড়ে ৫ মিনিটের স্বীকৃতি বক্তব্য রেখে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। গিনেস বুকেও নাম উঠেছিলো গারসনের সেই স্পিচের।
মূলত এরপর থেকেই অস্কারে পুরষ্কার গ্রহণের স্বীকৃতি বক্তব্যের জন্য ৪৫ সেকেন্ড সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অনেকে ৪৫ সেকেন্ডের অধিক সময় নিলেও, সাধারণত সেটা খুব বেশি দীর্ঘ হয় না।
তবে এবারের ৯৭ তম অস্কারের আসরে, প্রায় আট দশক পরে গ্রির গারসনের রেকর্ড ভেঙ্গে গেলো। “দা ব্রুটালিস্ট” সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার পুরষ্কার উঠেছে অভিনেতা অ্যাড্রিয়েন ব্রডির হাতে। আর সেটা গ্রহণ করতে মঞ্চে ওঠার পরে, টানা ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের বক্তব্য রেখেছেন ব্রডি!
“এটা আমার প্রথমবার নয়, তবে আমি ছোট করেই বলব।“ এমন বলার পরেও আরো ৯০ সেকেন্ড কথা চালিয়ে যান ব্রডি। অনেকেই বলছেন ব্রডির দীর্ঘ বক্তৃতা হয়তো “দ্য ব্রুটালিস্ট” সিনেমার জন্য যথাযথই ছিল, যেটি সাড়ে তিন ঘন্টার একটি সিনেমা। “দা ব্রুটালিস্ট” ছিলো এই বছরের অস্কার মনোনীত সবচেয়ে দীর্ঘ চলচ্চিত্র।

ব্রডি তার বক্তব্যে বেশ কয়েকজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যার মধ্যে ছিলেন তার মা-বাবা, “ব্রুটালিস্ট” চলচ্চিত্রের পরিচালক ব্র্যাডি কোরবেট, সহ-অভিনেতা গাই পিয়ার্স ও ফেলিসিটি জোন্স এবং তার প্রেমিকা জর্জিনা চ্যাপম্যান।
অস্কারে রেকর্ড ভাঙ্গার মতো কাজ কিন্তু ব্রডি এই প্রথম করেন নি। এর আগে ২০০৩ সালে “দা পিয়ানিস্ট” চলচ্চিত্রের জন্য, প্রথমবারের মতো সেরা অভিনেতার অস্কার উঠেছিলো ব্রডির হাতে। সেসময় তিনি ছিলেন অস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ সেরা অভিনেতার পুরষ্কার বিজয়ী।
২০০৩ সালে সেরা অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ করার সময়, ব্রডি অস্কারের সংগীত বিরতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, “এক সেকেন্ড। দয়া করে, এক সেকেন্ড। বন্ধ করুন। আমার জীবনে একবারই এই সুযোগ এসেছে। আমি পাঁচটির বেশি নাম বলিনি, আমার মনে হয় না।”
তখন প্রায় চার মিনিটের বক্তব্যে রেকর্ড গড়তে না পারলেও, ২২ বছর পরে আবার সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করেননি ব্রডি।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















