রবীন্দ্রসাধক ওয়াহিদুল হক বলেছেন, ‘কথা মানুষকে কাছে টানে, কথা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়। কথা মানুষকে বন্ধু করে। কথা মানুষকে শত্রু করে।’ এই বক্তব্যের সত্যতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত হয়। সুন্দর ও সাবলীল কথা ব্যক্তিত্বে সৌকর্য যোগ করে, আর জড়ানো ও অসম্পূর্ণ কথা ব্যক্তিত্বকে ম্লান করে দেয়।
সুন্দরভাবে কথা বলতে না পারার নেতিবাচক প্রভাব পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে পড়তে পারে। নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন ও মনের ভাব প্রকাশের প্রথম ধাপই হলো কথা বলা। কথা মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সুশৃঙ্খল অনুশীলনের মাধ্যমে সুন্দর কথা বলার অভ্যাস করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন কৃত্রিম না হয়।
সুন্দরভাবে কথা বলার কিছু কৌশলঃ
শুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণ: ভুল উচ্চারণ ও অস্পষ্টতা শব্দের অর্থ বদলে দেয়। সঠিক উচ্চারণ শ্রোতার বিরক্তি কমায়।
আরামদায়ক গতি: বাক্প্রত্যঙ্গে জড়তা বা তাড়াহুড়া এড়িয়ে আরামদায়ক গতিতে কথা বলুন। বেশি ধীরগতিও একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে।
পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য: দীর্ঘ বর্ণনা ও অপ্রাসঙ্গিক বিবরণ এড়িয়ে চলুন। সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য শ্রোতার আগ্রহ ধরে রাখে।
কথার ফাঁকে রসবোধ: একটানা গুরুগম্ভীর কথার বদলে ফাঁকে ফাঁকে হালকা হাসির কথা, মজার ঘটনা বা কৌতুক যোগ করুন। তবে তা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক ও শালীন হতে হবে।
বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা: বই পড়া, লেখা, গান শোনা ইত্যাদি মানুষের রুচিবোধ, ভাষা ও শব্দ চয়ন উন্নত করে। সুন্দর কথা বলার জন্য রুচিশীল জিনিস শোনা ও নিজের কণ্ঠ শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
আপনি যখন কথা বলছেন, শ্রোতা কী শুনতে চান এবং কীভাবে শুনতে চান, তা বোঝা জরুরি। শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে যেকোনো কথার উপস্থাপন ফলপ্রসূ হয়।
শাহিন মাহফুজ 




















