সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো Logo ‘স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব’ প্রতিপাদ্যে এবছরের আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস Logo ‘ভুট্টি’ বা ভুটানি গরুর আড়ালে বামনত্বের বাণিজ্যিকীকরণ! Logo ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Logo ১১ জেলায় তাপপ্রবাহ, আরও বিস্তৃত হয়ে থাকতে পারে কয়েকদিন Logo শিশু রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর Logo বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ পুনর্বহাল হচ্ছে, জলছাপে আসছে পরিবর্তন Logo ভূমিকম্প মোকাবিলায় খাল-নদী খননে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি Logo চুকনগর গণহত্যা দিবস: সরকারি হিসেবে ১০-১২ হাজার মানুষকে হত্যা, স্থানীয়দের দাবি ২০ হাজার

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো

যশোর ও খুলনা অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষের দুঃখ লাঘবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ভবদহ এলাকায় বেশ কয়েকটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

নদী পুনঃখনন প্রকল্প: প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের আওতায় ভবদহ অঞ্চলের প্রায় ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি নদীর (হরি, হরি-তেলিগাতি, আপারভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীসহ) খননকাজ চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৫৫ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বরত আব্দুল মোমিন আরও জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নদীগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ খনন কাজ শেষ হবে। বাকি কাজ শেষ হতে আগামী বছর জুন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বছরের ভারী বৃষ্টিপাত এবং সাম্প্রতিক ডিজেল সংকটের কারণে খনন কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে যশোর সেনানিবাসের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ওই অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।

পলি ব্যবস্থাপনা ও জোয়ারাধার (TRM): নদী খননের পাশাপাশি জোয়ারের সময় সাগর থেকে আসা পলি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২৮০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী পরিকল্পিত জোয়ারাধার (TRM – Tidal River Management) চালুর মাধ্যমে পলি অপসারণের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।

আমডাঙা খাল সংস্কার: পানি নিষ্কাশনের গতি বাড়াতে আমডাঙা খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ।

১৯৮১ সালের পর থেকেই মূলত এই জলাবদ্ধতার শুরু। ২১টি জলকপাটের মধ্যে ১৮টিতে পলি জমে বন্ধ হওয়ায় এখানকার নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। যদিও সাগরের লবণাক্ত পানি যাতে জনপদে আসতে না পারে এজন্য এসব জলকপাটের প্রয়োজনীয়তাও নেহায়েত কম নয়।

টিআরএম ২০২২ সালে ভবদহের স্লুইচগেটের পাশে পাওয়ার পাম্প বসায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেচ প্রকল্পের আওয়তায় এসব বসানো হলেও তেমন কোনো উপকারে আসছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সমাজসেবী জিন্নাত আলী বলন, ‘পানি নিয়ে যে ব্যবসা এখানে হয়েছে সেটা মেনে নেয়ার মতো না। জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কাজ, নদী খনন এবং পরিকল্পিত জনবান্ধব টিআরএম বাস্তবায়ন না করা গেলে এই জলাবদ্ধতা পিছু ছাড়বে না।

ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, আমডাঙ্গা খালকে বর্ধিত করে ভবদহের টেকা নদীর সঙ্গে সংযোগ দিতে হবে। পানি কোনোমতে যাওয়া শুরু করলে, পানি নিজেই জায়গা তৈরি করে নিবে।’

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো

আপডেট সময় ০৬:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

যশোর ও খুলনা অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষের দুঃখ লাঘবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ভবদহ এলাকায় বেশ কয়েকটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

নদী পুনঃখনন প্রকল্প: প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের আওতায় ভবদহ অঞ্চলের প্রায় ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি নদীর (হরি, হরি-তেলিগাতি, আপারভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীসহ) খননকাজ চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৫৫ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বরত আব্দুল মোমিন আরও জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নদীগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ খনন কাজ শেষ হবে। বাকি কাজ শেষ হতে আগামী বছর জুন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বছরের ভারী বৃষ্টিপাত এবং সাম্প্রতিক ডিজেল সংকটের কারণে খনন কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে যশোর সেনানিবাসের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ওই অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।

পলি ব্যবস্থাপনা ও জোয়ারাধার (TRM): নদী খননের পাশাপাশি জোয়ারের সময় সাগর থেকে আসা পলি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২৮০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী পরিকল্পিত জোয়ারাধার (TRM – Tidal River Management) চালুর মাধ্যমে পলি অপসারণের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।

আমডাঙা খাল সংস্কার: পানি নিষ্কাশনের গতি বাড়াতে আমডাঙা খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ।

১৯৮১ সালের পর থেকেই মূলত এই জলাবদ্ধতার শুরু। ২১টি জলকপাটের মধ্যে ১৮টিতে পলি জমে বন্ধ হওয়ায় এখানকার নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। যদিও সাগরের লবণাক্ত পানি যাতে জনপদে আসতে না পারে এজন্য এসব জলকপাটের প্রয়োজনীয়তাও নেহায়েত কম নয়।

টিআরএম ২০২২ সালে ভবদহের স্লুইচগেটের পাশে পাওয়ার পাম্প বসায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেচ প্রকল্পের আওয়তায় এসব বসানো হলেও তেমন কোনো উপকারে আসছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সমাজসেবী জিন্নাত আলী বলন, ‘পানি নিয়ে যে ব্যবসা এখানে হয়েছে সেটা মেনে নেয়ার মতো না। জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কাজ, নদী খনন এবং পরিকল্পিত জনবান্ধব টিআরএম বাস্তবায়ন না করা গেলে এই জলাবদ্ধতা পিছু ছাড়বে না।

ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, আমডাঙ্গা খালকে বর্ধিত করে ভবদহের টেকা নদীর সঙ্গে সংযোগ দিতে হবে। পানি কোনোমতে যাওয়া শুরু করলে, পানি নিজেই জায়গা তৈরি করে নিবে।’