সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভূমিকম্প মোকাবিলায় খাল-নদী খননে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি Logo চুকনগর গণহত্যা দিবস: সরকারি হিসেবে ১০-১২ হাজার মানুষকে হত্যা, স্থানীয়দের দাবি ২০ হাজার Logo কোরবানির পশুর প্রতি অবহেলা-নিষ্ঠুরতা থেকে প্রতিকারের উপায় Logo লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড Logo পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন Logo চীনে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক বন্যা, ২২ প্রাণহানি, নিখোঁজ ২০ Logo কোরবানির গরু কি সত্যিই কাঁদে? Logo তুলা উৎপাদন বাড়াতে ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার Logo টানা দ্বিতীয়বার পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত রামিসার পরিবার ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশ বলছে, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি জাকির যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় তার স্বামী সোহেল রানা। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, সোহেল নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমিকম্প মোকাবিলায় খাল-নদী খননে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আপডেট সময় ০৬:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত রামিসার পরিবার ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশ বলছে, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি জাকির যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় তার স্বামী সোহেল রানা। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, সোহেল নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।