সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভূমিকম্প মোকাবিলায় খাল-নদী খননে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি Logo চুকনগর গণহত্যা দিবস: সরকারি হিসেবে ১০-১২ হাজার মানুষকে হত্যা, স্থানীয়দের দাবি ২০ হাজার Logo কোরবানির পশুর প্রতি অবহেলা-নিষ্ঠুরতা থেকে প্রতিকারের উপায় Logo লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড Logo পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন Logo চীনে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক বন্যা, ২২ প্রাণহানি, নিখোঁজ ২০ Logo কোরবানির গরু কি সত্যিই কাঁদে? Logo তুলা উৎপাদন বাড়াতে ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার Logo টানা দ্বিতীয়বার পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। পৃথক দুটি মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে পৃথক অস্ত্র মামলায়ও আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দলের হানা দেওয়ার খবর পায় যৌথ বাহিনী। খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযানে যায়।

অভিযান চলাকালীন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাত দলের এক সদস্যকে তাড়া করে ধরে ফেলেন তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। ডাকাত দলের ওই সদস্য এবং তার সহযোগীরা লে. নির্জনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রামু সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) নেওয়ার পথে তিনি মারা যান

ঘটনার পরদিন চকরিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ডাকাতির প্রস্তুতি ও সেনা কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল হারুণুর রশীদ বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর মামলাটি দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর চকরিয়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রধান অর্থদাতা মো. বাবুল প্রকাশসহ সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজন আসামিকে দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ছুরিসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ ঘটনার প্রায় ২০ মাসের মাথায় এই রায় ঘোষিত হলো।

নিহত তরুণ সেনা কর্মকর্তা তানজিম সারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেছিলেন। তাঁর দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেটকা গ্রামে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমিকম্প মোকাবিলায় খাল-নদী খননে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। পৃথক দুটি মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে পৃথক অস্ত্র মামলায়ও আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দলের হানা দেওয়ার খবর পায় যৌথ বাহিনী। খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযানে যায়।

অভিযান চলাকালীন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাত দলের এক সদস্যকে তাড়া করে ধরে ফেলেন তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। ডাকাত দলের ওই সদস্য এবং তার সহযোগীরা লে. নির্জনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রামু সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) নেওয়ার পথে তিনি মারা যান

ঘটনার পরদিন চকরিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ডাকাতির প্রস্তুতি ও সেনা কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল হারুণুর রশীদ বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর মামলাটি দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর চকরিয়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রধান অর্থদাতা মো. বাবুল প্রকাশসহ সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজন আসামিকে দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ছুরিসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ ঘটনার প্রায় ২০ মাসের মাথায় এই রায় ঘোষিত হলো।

নিহত তরুণ সেনা কর্মকর্তা তানজিম সারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেছিলেন। তাঁর দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেটকা গ্রামে।