কোরবানির জন্য আনা গরুটির চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। যা দেখে বাড়ির শিশু-নারীসহ সবাই আবেগআপ্লুত। আসলেই কি গরুটি কাঁদছে? অনেকে বলেন বা প্রচলিত ধারণা যে, কোরবানির পশু ঈদের আগের রাতে কাঁদে। ফেরেশতারা কোরবানির পশুকে জানিয়ে দেন তাদের ঈদের সকালে জবাই করা হবে। তাই নিজ মৃত্যুশোকে কাঁদে পশুটি।
কোরবানির গরুর কাঁদার বিষয়টি মূলত মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় লোকবিশ্বাসের অংশ। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পশুর কান্নার পেছনে ফেরেশতাদের মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার কথাটি কোরআন বা সহিহ হাদিসে প্রমাণিত নয়। এটি সমাজে প্রচলিত একটি আবেগনির্ভর ধারণা। অবশ্য পশুর প্রতি সদয় আচরণ করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।
আচ্ছা, গরু এজন্য কাঁদে না। সেটা নাহয় বোঝা গেল। তাহলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন? আসলে এর পেছনে বিজ্ঞান ও বাস্তবসম্মত কারণগুলো হতে পারে:
শারীরিক সমস্যা: গরুর চোখের নেত্রনালী (tear duct) ব্লক হয়ে গেলে স্বাভাবিক পানি চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে, যা মানুষ কান্না মনে করে। এছাড়া পরিবহনের সময় অথবা হাঁটের ধুলাবালিতে চোখের সংক্রমণ হলে চোখ থেকে পানি ঝরে।
ভয় ও আতঙ্ক: অপরিচিত পরিবেশ, কোলাহল, বা নতুন মানুষের ভিড়ে গরু ভয় পায় বা মানসিক চাপে থাকে। এই অস্বস্তি ও ভীতি থেকে তারা চোখ দিয়ে পানি ফেলে বা চিৎকার করে।
মৃত্যুর অনুভূতি: গবেষণায় দেখা গেছে, গরু তার চারপাশের বিপদ ও অস্বাভাবিক পরিবেশের উপস্থিতি বুঝতে পারে। নিজের সামনে অন্য পশুদের দেখে বা কসাইয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















