ইউরোপসহ পাশ্চত্যের অনেক দেশেই ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এসব বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা এখন তুঙ্গে। ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে চীনও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জার্মানির রাজপথে দেড় কোটি ইলেকট্রিক যান চলবে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হালনাগাদ প্রযুক্তির নতুন নতুন মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করছে। কিন্তু এসব গাড়ির ব্যাটারির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য শিল্পোন্নত ইউরোপের দেশ জার্মানি ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের জন্য বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায়ও বড় ভূমিকা রাখবে।

কয়েক মাস আগে ইউরোপে ইলেকট্রিক যানের সবচেয়ে বড় রি-সাইক্লিং কারখানা চালু হয়েছে। একটি রিসাইক্লিং প্লান্টের প্রসেস ইঞ্জিনিয়ার লার্স মুন্ডিন বলেন, ‘‘আমরা মূলত নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করি এবং নিজেরাই ব্যবহার করি। আমরা রিসাইক্লিং শিক্ষাকে যতটা সম্ভব গুরুত্ব দেই। পুরানো ব্যাটারি গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে আমরা রিসাইক্লিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নেই। জরুরি অবস্থায় বিদ্যুৎচালিত গাড়ির অকেজো ব্যাটারি যত দ্রুত সম্ভব পানিতে ডুবিয়ে রাখি। ব্যাটারি রিসাইক্লিং করতে গেলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি মেনে চলতে হয়। কারণ ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্যাটারি অত্যন্ত দাহ্য এবং বিস্ফোরকযোগ্য। এসব ব্যাটারির মধ্যে কোবাল্ট ও নিকেলের মতো মূল্যবান ধাতু রয়েছে।’’
তাঁর মতে ‘‘ইলেকট্রিক যানগুলোর ব্যাটারি বাতিল হওয়ার পর বিশাল পরিমাণে রিসাইক্লিং শুরু হবে। তখন বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাটারির মধ্যেকার ধাতু উদ্ধার করার জন্য কারখানা খুলবে। সবচেয়ে দামী ধাতু হিসেবে ৯৫ শতাংশ নিকেল, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা উদ্ধার করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
গোটা বিশ্ব আজ ইলেকট্রিক যানের দিকে ঝুঁকছে। ব্যাটারির জন্য এই ধাতুগুলোর চাহিদা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিগুলোও কাঁচামালের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক খনির উপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। খনি থেকে এসব মূল্যবান উপাদান উত্তোলনের ফলে চাপ বাড়ছে পরিবেশের উপর। এসব ব্যাটারি রিসাইক্লিং করতে পারলে প্রস্তুতকারকদের কাঁচামালের জন্য খনির উপর নির্ভরতা কমবে।

জার্মানির রিসাইক্লিং প্লান্টে অকেজো ব্যাটারির উপাদান ইউরোপের অন্য একটি দেশের পাইলট প্লান্টে জমা হচ্ছে। ব্যাটারি শ্রেডিং করে এক ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘ব্ল্যাক মাস’ নামে পরিচিত অবস্থায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। একেই রিসাইক্লিং শিল্পের কালো সোনা বলা হয়। সেই মিশ্রণ থেকে নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ ও কোবাল্টের সবুজ ‘বার’ বের করা হয়। সেই বার নতুন ব্যাটারিতে কাজে লাগানো যায়। এমন সফলতায় জার্মান গাড়ি কোম্পানিগুলো আরো বেশি করে রিসাইক্লিংয়ের কথা ভেবে নিজেদের পণ্য ডিজাইন করছে।
অ্যালুমিনিয়াম মতো ধাতু রিসাইক্লিং নিশ্চিত করতে পারলে আরেকটি বাড়তি সুবিধাও পাওয়া যাবে। সেটি শেষ পর্যন্ত জলবায়ুর জন্যও ইতিবাচক হবে। ইউরোপের এসব রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের পরিচালনকারীরা কারখানায় কোটি কোটি ইউরো বিনিয়োগ করছেন। এই চমৎকার উদ্যোগ পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য নিরাপদ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
মাসুদুর রহমান 










