সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনসহ পর্যটন অব্যাহত রাখার দাবি

সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনসহ পর্যটন অব্যাহত রাখার দাবিতে মানববন্ধন

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন খাতকে উন্নত করা, দ্বীপে পর্যটক সীমিত করা এবং রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ না করে, দ্বীপটিতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করাসহ ১৮ দাবি জানিয়েছে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা উন্নয়ন জোট’। মানবন্ধনকারীদের দাবি তারা সেন্টমার্টিন সংশ্লিষ্ট ১৩ সংগঠনের একটি জোট।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা জোটের ব্যানারে মানবন্ধন করেন। এসময় জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশী সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন বন্ধের সুপারিশকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি করেন। এছাড়া টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলে মানুষের জীবিকা বাঁচিয়ে রাখা ও সেন্ট মার্টিনে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে পর্যটন অব্যাহত রাখার ১৮ দফা দাবি পেশ করেন।

সেন্ট মার্টিন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর এই জোটের চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিবছর সিজনের শুরুতে সেন্ট মার্টিন নিয়ে একটা তালবাহানা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত সরকারের করা নীতিকে বাস্তবায়নের জন্য যে ঘোষণা পরিবেশ উপদেষ্টা দিয়েছেন সেটা আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। আমরা পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে নয়। আমরা পরিবেশকে রক্ষা করে চলতে চাই। সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনসহ পর্যটনকে অব্যাহত রাখতে হবে। এটা না করলে জাতির জন্য একটা বড় বিপর্যয় হবে।’

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টোয়াক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করব এবং স্মারকলিপি দেব। পরিবেশ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করে রাত্রিযাপনের অনুমতি দিতে হবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ দুই রাতের অনুমতি দেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে অনেক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে পরিবেশবিদরা খুবই সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছেন। আমরাও চাই আপনারা পরিবেশ রক্ষার পর্যবেক্ষণ জোরদার করে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেন।’

পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।

বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপ ঘোষণা করার পর থেকে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বিশ্ব রোল মডেল পর্যটন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় গিয়ে বারবার অনুরোধ করেছিলাম যে আপনাদেরকে মাস্টার প্ল্যানের রোল মডেলের ম্যাপটি দেখান। কিন্তু পরিবেশ মন্ত্রণালয় আমাদেরকে বারবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা বলতে চাই, একটা সেক্টরকে মেরে ফেলে আরেকটা সেক্টরকে উন্নয়ন করা যায় না।’

প্রসঙ্গত, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটন সীমিত করাসহ নানা সুপারিশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচিত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা, দ্বীপে রাত্রিযাপন এবং পর্যটকের সংখ্যা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলে গত ৮ অক্টোবর জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সেই সিদ্ধান্ত আসার আগে গত ১৬ অক্টোবর কক্সবাজারে এবং ১৭ অক্টোবর ঢাকায় মানববন্ধন করলো ওই এলাকার পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনসহ পর্যটন অব্যাহত রাখার দাবি

আপডেট সময় ০৫:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন খাতকে উন্নত করা, দ্বীপে পর্যটক সীমিত করা এবং রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ না করে, দ্বীপটিতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করাসহ ১৮ দাবি জানিয়েছে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা উন্নয়ন জোট’। মানবন্ধনকারীদের দাবি তারা সেন্টমার্টিন সংশ্লিষ্ট ১৩ সংগঠনের একটি জোট।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা জোটের ব্যানারে মানবন্ধন করেন। এসময় জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশী সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন বন্ধের সুপারিশকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি করেন। এছাড়া টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলে মানুষের জীবিকা বাঁচিয়ে রাখা ও সেন্ট মার্টিনে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে পর্যটন অব্যাহত রাখার ১৮ দফা দাবি পেশ করেন।

সেন্ট মার্টিন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর এই জোটের চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিবছর সিজনের শুরুতে সেন্ট মার্টিন নিয়ে একটা তালবাহানা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত সরকারের করা নীতিকে বাস্তবায়নের জন্য যে ঘোষণা পরিবেশ উপদেষ্টা দিয়েছেন সেটা আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। আমরা পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে নয়। আমরা পরিবেশকে রক্ষা করে চলতে চাই। সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনসহ পর্যটনকে অব্যাহত রাখতে হবে। এটা না করলে জাতির জন্য একটা বড় বিপর্যয় হবে।’

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টোয়াক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করব এবং স্মারকলিপি দেব। পরিবেশ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করে রাত্রিযাপনের অনুমতি দিতে হবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ দুই রাতের অনুমতি দেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে অনেক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে পরিবেশবিদরা খুবই সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছেন। আমরাও চাই আপনারা পরিবেশ রক্ষার পর্যবেক্ষণ জোরদার করে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেন।’

পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।

বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপ ঘোষণা করার পর থেকে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বিশ্ব রোল মডেল পর্যটন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় গিয়ে বারবার অনুরোধ করেছিলাম যে আপনাদেরকে মাস্টার প্ল্যানের রোল মডেলের ম্যাপটি দেখান। কিন্তু পরিবেশ মন্ত্রণালয় আমাদেরকে বারবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা বলতে চাই, একটা সেক্টরকে মেরে ফেলে আরেকটা সেক্টরকে উন্নয়ন করা যায় না।’

প্রসঙ্গত, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটন সীমিত করাসহ নানা সুপারিশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচিত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা, দ্বীপে রাত্রিযাপন এবং পর্যটকের সংখ্যা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলে গত ৮ অক্টোবর জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সেই সিদ্ধান্ত আসার আগে গত ১৬ অক্টোবর কক্সবাজারে এবং ১৭ অক্টোবর ঢাকায় মানববন্ধন করলো ওই এলাকার পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা।