শুক্রবার-শনিবারে অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ধান, আলুসহ সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিতে বেশ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা আমন ধান ও আগাম জাতের রোপন করা আলুর ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে কৃষকের পাকা আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
গত শুক্রবার-শনিবারে অসময়ে বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে যায়। এরপর বৃষ্টির সাথে সাথে হালকা বাতাস হওয়ায় ধানগুলো জমিতে নুইয়ে পড়ে এবং পানিতে ভাসতে থাকে।
অনেক কৃষক গত বছরের আলুর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাল দামের আশায় আগাম জাতের আলু রোপন করেছিলেন। কিন্তু এই বৃষ্টিতে কৃষকের সে আশায় গুড়েবালি। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন।
উপজেলার ধরঞ্জী, রতনপুর, আটাপাড়া, নওদা, আয়মারসুলপুর সহ বিভিন্ন এলাকায়, আধা-পাকা এবং পাকা ধানগাছ গুলো মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অধিক নিচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমেছে এবং সেই পানির মধ্যে পাকা ধানের শীষগুলো ডুবে আছে। আবার অনেক জমির আগাম রোপন করা আলু পানিতে ভাসছে।
এছাড়াও পেঁয়াজ, মুলা, পালং শাক, লাল শাক সহ আগাম শীতকালীন শাক-সবজি ও রবিশস্যেরও ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে টানা চার দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন শুধু জল আর নুইয়ে পড়া ফসল। আধাপাকা আমন ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে আছে, সদ্য রোপণ করা বীজ আলু পানিতে তলিয়ে গেছে, আর আগাম শীতকালীন সবজি পচে যাওয়ার পথে।
গত বুধবার ২৯ অক্টোবর বিকেল থেকে শনিবার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর, রায়পুর, মোহাম্মদপুর, চিলারংসহ পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ এলাকার আমন ক্ষেত ও আলুর জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৯৪৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমন ধানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৯৮ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ১০৯ হেক্টর জমির আলু এবং ৪০ হেক্টর শাক-সবজি ক্ষতির শিকার হয়েছে। গত তিন দিনে জেলায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















