পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর পালিত হবে আজ রাতে। দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হবে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠতম রজনি। পবিত্র এ রাতেই নবীজির ওপর অবতীর্ণ হয় পবিত্র কুরআন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কুরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কী জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম’ (সুরা কদর, আয়াত : ১-৩)।
শবে কদর উপলক্ষে আগামীকাল ২৭ রমজান (১৭ মার্চ, মঙ্গলবার) সরকারি ছুটি।
শবে কদর উম্মতে মুহাম্মদির জন্য বিশেষ এক নেয়ামত। মহান আল্লাহ এ নেয়ামত অন্য কোনো নবীর উম্মতকে দেননি। পূর্ববর্তী নবীগণের উম্মত কয়েকশ বছর জীবন লাভকরে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারত। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদির জীবন খুবই কম। আমাদের গড় আয়ু ৬০-৭০ বছর। তাই আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে শবে কদর দিয়েছেন এবং এক রাতের ইবাদতের ফজিলত এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে বেশি করে দিয়েছেন।
এ রাতে লাওহে মাহফুজে মহান আল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সেই সিদ্ধান্তাবলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফেরেশতারা রহমত, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে রাতেই পৃথিবীতে অবতরণ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে-’এ রাতে ফেরেশতাগণ ও জিবরাইল (আ.) অবতরণ করেন প্রত্যেক কাজের জন্য তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময়, এ রাত ফজরের উদয় পর্যন্ত।’ (সুরা কদর, আয়াত : ৪-৫)
কুরআনে শবে কদরকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলা হলেও তা কোন রাত-নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে এর বর্ণনা রয়েছে হাদিসে। হাদিসের ভাষ্যমতে লাইলাতুল কদর হলো রমজান মাসের শেষ দশকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবে কদর তালাশ করবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে’ (বুখারি, হাদিস : ২০৫৬)।
লাইলাতুল কদর হচ্ছে একটি অতি সম্মানিত ও মহত্ত্বপূর্ণ রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। তাফসিরে এসেছে, হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিশাল এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং প্রতিটি মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে রহমতের দোয়া করেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পরপরই মহান আল্লাহ তাঁর আরশ থেকে প্রথম আকাশে নেমে আসেন। তাঁর অসীম মায়া ও দয়া নিয়ে তিনি পৃথিবীবাসীকে পরম মমতায় ডাকতে থাকেন।
মহান আল্লাহর সেই আহ্বানটি হলো-‘কে আছ পাপী! তুমি ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। কে আছ দুঃখী! আমি তোমার দুঃখমোচন করব। কে আছ রোগী! আমি তোমাকে সুস্থ করে দেব। কে আছ দায়গ্রস্ত! আমি তোমাকে দায়মুক্ত করে দেব। তোমাদের কার রিজিকের প্রয়োজন! আমার কাছে চাও, আমি তার রিজিক বৃদ্ধি করব।’ ফজর পর্যন্ত আল্লাহর এ করুণাময় ডাক অব্যাহত থাকে।
এ ডাক কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, বরং ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সব গোনাহগার বান্দার জন্য এক উন্মুক্ত আমন্ত্রণ। যারা এ ডাক শুনে সিজদাবনত হয়, চোখের পানিতে বুক ভাসায়, তারাই প্রকৃত সৌভাগ্যবান ও কল্যাণকামী।
অধিক পুণ্যময় এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার ইত্যাদি আমলে নিজেকে মশগুল রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাস রেখে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়’ (বুখারি ও মুসলিম)।
কেউ যদি পুণ্য অর্জনের এমন বড় সুযোগ পেয়ে অমনোযোগী থাকে তা হলে তার মতো হতভাগা আর কে হতে পারে? আয়েশা (রা.) বলেন, ‘একবার আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বলুন, যদি আমি বুঝতে পারি লাইলাতুল কদর কোনো রাতে, তবে তখন আমি কী বলব? তিনি বললেন, তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’, অর্থ-আল্লাহ তুমি ক্ষক্ষমাশীল, ক্ষক্ষমাকে ভালোবাস। অতএব আমাকে ক্ষক্ষমা করো (ইবনে মাজা, হাদিস : ৩৯৮২)।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে পরেরদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সব মসজিদেই তারাবির নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















