সংবাদ শিরোনাম ::

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা

সমুদ্র তলদেশ থেকে শুরু করে অতিকায় পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়া সর্বত্র পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। জলবায়ু ও পরিবেশকে গ্রাস করে ফেলায় প্রাণীজগতের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নগণ্য কণাগুলো। এই আশঙ্কা থেকে মানুষও মুক্ত নয়, বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোর গবেষণায় মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে এই কণাগুলোর উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। প্লাস্টিকের বিপদ নিয়ে এর আগে বহুবার সতর্ক করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তাতেও মানুষের হুঁশ ফেরেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এর ব্যবহার যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, দেখিয়ে দিল নতুন রিসার্চ।

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে।

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা prokritibarta

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়। তারা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে গর্ভবতী মায়েদের শরীরে পলিঅ্যামাইড-১২ নামক একটি মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করিয়েছিল। সন্তানের জন্মের পরে তাদের শরীর পরীক্ষা করে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মানুষের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি দীর্ঘ মেয়াদি ভাবে সন্তানের শরীরের কলাকোষে থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইঁদুরের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শাবক জন্মের দীর্ঘসময় পর পর্যন্ত তাদের কোষের মধ্যে সেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকে। মানবসন্তানের ক্ষেত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্থায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গর্ভস্থ মানবশিশুও আর নিরাপদ নয়।

গবেষণাটি ‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা বর্তমান পরিবেশগত সমস্যার একটি নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। ‘সায়েন্স অফ দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হেলথ স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। ফলে, মাইক্রো এবং ন্যানো-প্লাস্টিক পার্টিকেলস নিঃশ্বাসের সঙ্গে খুব সহজে মানবশরীরে ঢোকে। এমনকি প্লাস্টিক প্যাকেট-বন্দি খাবার থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকতে পারে। আর সেই সব প্লাস্টিকের কণা প্লাসেন্টার প্রাচীর ভেদ করে গর্ভস্থ ভ্রূণের কোষের মধ্যে ঢুকে যায়।

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা prokritibarta

মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কী কী হতে পারে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়তে পারে, যার ফলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ফুলে যেতে পারে। এর জেরে পরবর্তীতে কার্ডিওভাসকুলার রোগ হতে পারে। এছাড়া প্রাণীর ওপর একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উর্বরতা সমস্যা, নানা ধরনের ক্যানসার, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য; প্লাস্টিকের যেসব কণার আকার ৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের কম, সেগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো পাওয়া যায় পোশাক, প্রসাধনী, খাদ্যের মোড়ক এবং শিল্প কারখানায় নানা ধরনের প্রক্রিয়ার উৎপাদ হিসেবে। মূলত উচ্ছিষ্ট হিসেবে উদ্বৃত্ত হয়ে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে এগুলো পরিবেশকে দূষিত করে থাকে। মানুষের শরীরে প্রতিনিয়ত এই অতিক্ষুদ্র কণার পরিমাণ বাড়ছে। এর আগে মাইক্রোপ্লাস্টিক যে মস্তিষ্কের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঙ্গেও প্রবেশ করছে, তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলছে।

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা

আপডেট সময় ০৫:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

সমুদ্র তলদেশ থেকে শুরু করে অতিকায় পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়া সর্বত্র পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। জলবায়ু ও পরিবেশকে গ্রাস করে ফেলায় প্রাণীজগতের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নগণ্য কণাগুলো। এই আশঙ্কা থেকে মানুষও মুক্ত নয়, বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোর গবেষণায় মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে এই কণাগুলোর উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। প্লাস্টিকের বিপদ নিয়ে এর আগে বহুবার সতর্ক করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তাতেও মানুষের হুঁশ ফেরেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এর ব্যবহার যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, দেখিয়ে দিল নতুন রিসার্চ।

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে।

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা prokritibarta

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়। তারা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে গর্ভবতী মায়েদের শরীরে পলিঅ্যামাইড-১২ নামক একটি মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করিয়েছিল। সন্তানের জন্মের পরে তাদের শরীর পরীক্ষা করে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মানুষের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি দীর্ঘ মেয়াদি ভাবে সন্তানের শরীরের কলাকোষে থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইঁদুরের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শাবক জন্মের দীর্ঘসময় পর পর্যন্ত তাদের কোষের মধ্যে সেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকে। মানবসন্তানের ক্ষেত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্থায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গর্ভস্থ মানবশিশুও আর নিরাপদ নয়।

গবেষণাটি ‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা বর্তমান পরিবেশগত সমস্যার একটি নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। ‘সায়েন্স অফ দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হেলথ স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। ফলে, মাইক্রো এবং ন্যানো-প্লাস্টিক পার্টিকেলস নিঃশ্বাসের সঙ্গে খুব সহজে মানবশরীরে ঢোকে। এমনকি প্লাস্টিক প্যাকেট-বন্দি খাবার থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকতে পারে। আর সেই সব প্লাস্টিকের কণা প্লাসেন্টার প্রাচীর ভেদ করে গর্ভস্থ ভ্রূণের কোষের মধ্যে ঢুকে যায়।

এবার সদ্যোজাতের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা prokritibarta

মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কী কী হতে পারে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়তে পারে, যার ফলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ফুলে যেতে পারে। এর জেরে পরবর্তীতে কার্ডিওভাসকুলার রোগ হতে পারে। এছাড়া প্রাণীর ওপর একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উর্বরতা সমস্যা, নানা ধরনের ক্যানসার, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য; প্লাস্টিকের যেসব কণার আকার ৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের কম, সেগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো পাওয়া যায় পোশাক, প্রসাধনী, খাদ্যের মোড়ক এবং শিল্প কারখানায় নানা ধরনের প্রক্রিয়ার উৎপাদ হিসেবে। মূলত উচ্ছিষ্ট হিসেবে উদ্বৃত্ত হয়ে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে এগুলো পরিবেশকে দূষিত করে থাকে। মানুষের শরীরে প্রতিনিয়ত এই অতিক্ষুদ্র কণার পরিমাণ বাড়ছে। এর আগে মাইক্রোপ্লাস্টিক যে মস্তিষ্কের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঙ্গেও প্রবেশ করছে, তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলছে।