এলডিসি জোটের বিবৃতি: জলবায়ু তহবিল ঋণ নয়, অনুদান হতে হবে

এলডিসি জোটের বিবৃতি: জলবায়ু তহবিল ঋণ নয়, অনুদান হতে হবে

উন্নত দেশগুলোর ব্যাপক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের কারণে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তন। যার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, অতি বৃষ্টি-বন্যা, ঝড়ে ভুগছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষ। অথচ এই ক্ষতির দায় যাদের তারা কৌশলে ক্ষতিপূরণ এড়িয়ে গিয়ে তহবিলের অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভুক্তভোগী দেশগুলো অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছে। কপ ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ছাড় করা অর্থ কোনো ঋণ নয় বরং অনুদান হিসেবে দেওয়ার দাবি করেছে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশগুলোর জোট। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শুরুর আগে সম্প্রতি এমন দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এলডিসি জোট।

এতে স্বল্পোন্নত দেশগুলো নতুন, জরুরি ও সহজসাধ্য জলবায়ু অর্থায়ন দাবি করে। সেই সঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ হিসেবে যে অর্থ দেয়া হচ্ছে, তাতে এলডিসি দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়  ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। যদি এই পরিমাণ অর্থ দেশগুলো না পায় তাহলে এলডিসি দেশগুলোতে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে।

আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হচ্ছে কপ ২৯

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বন্যা ও ভূমিধসের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাড়াও মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ, ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি হয়েছে। এতে দেশগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বছরটিতে বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চল ভীষণ বিপর্যস্থ হয়েছে বন্যায়

বিবৃতিতে জলবায়ু সম্মেলনে ৪৫টি দেশ ও ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা এলডিসি জলবায়ু গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, অনেক দিন ধরে ঋণের বোঝা আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং আমাদের দুর্বলতা আরও গভীর করেছে। একটি সাহসী নতুন আর্থিক লক্ষ্য ছাড়া কপ-২৯ সমাপ্ত হলে তা পৃথিবী ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য দুঃখজনক হবে।

প্রসঙ্গত, আজারবাইজানের বাকুতে আগামীকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) থেকে ২২ নভেম্বরে পর্যন্ত কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনের সফরে এ সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

এলডিসি জোটের বিবৃতি: জলবায়ু তহবিল ঋণ নয়, অনুদান হতে হবে

আপডেট সময় ০৪:৩২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০২৪

উন্নত দেশগুলোর ব্যাপক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের কারণে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তন। যার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, অতি বৃষ্টি-বন্যা, ঝড়ে ভুগছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষ। অথচ এই ক্ষতির দায় যাদের তারা কৌশলে ক্ষতিপূরণ এড়িয়ে গিয়ে তহবিলের অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভুক্তভোগী দেশগুলো অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছে। কপ ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ছাড় করা অর্থ কোনো ঋণ নয় বরং অনুদান হিসেবে দেওয়ার দাবি করেছে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশগুলোর জোট। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শুরুর আগে সম্প্রতি এমন দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এলডিসি জোট।

এতে স্বল্পোন্নত দেশগুলো নতুন, জরুরি ও সহজসাধ্য জলবায়ু অর্থায়ন দাবি করে। সেই সঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ হিসেবে যে অর্থ দেয়া হচ্ছে, তাতে এলডিসি দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়  ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। যদি এই পরিমাণ অর্থ দেশগুলো না পায় তাহলে এলডিসি দেশগুলোতে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে।

আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হচ্ছে কপ ২৯

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বন্যা ও ভূমিধসের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাড়াও মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ, ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি হয়েছে। এতে দেশগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বছরটিতে বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চল ভীষণ বিপর্যস্থ হয়েছে বন্যায়

বিবৃতিতে জলবায়ু সম্মেলনে ৪৫টি দেশ ও ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা এলডিসি জলবায়ু গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, অনেক দিন ধরে ঋণের বোঝা আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং আমাদের দুর্বলতা আরও গভীর করেছে। একটি সাহসী নতুন আর্থিক লক্ষ্য ছাড়া কপ-২৯ সমাপ্ত হলে তা পৃথিবী ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য দুঃখজনক হবে।

প্রসঙ্গত, আজারবাইজানের বাকুতে আগামীকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) থেকে ২২ নভেম্বরে পর্যন্ত কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনের সফরে এ সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।