বিশ্বের পরিবেশ-জলবায়ুকে সংকটে দাঁড় করিয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পেট্রোলিয়ামের উপজাত প্লাস্টিক বিশ্বকে সরাসরি হুমকিতে ফেলেছে। বিশ্বের সব জায়গা থেকে শুরু করে প্রাণীদেহেও মিলছে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিককণা। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক উৎপাদন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক চুক্তি বাস্তবায়নের আশ্বাসের আশায় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের প্লাস্টিক হ্রাসকরণ বিষয়ক সংলাপ। কিন্তু এই সংলাপে প্রবল সক্রিয়তা দেখাচ্ছে প্লাস্টিক উৎপাদকদের পক্ষের লবিস্টরা, সোজা বাংলায় বললে প্লাস্টিকের পক্ষে থাকা বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষার পেশাদার লোকেরা। বিশ্বের প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জাতিসংঘ উদ্যোগের সাফল্যকে সংশয়ে ফেলেছে এই লবিস্টরাই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, বুসান সংলাপে প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রুখে দিতে ভীষণ সক্রিয় প্লাস্টিক উৎপাদক বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ও দেশগুলোর লবিস্টরা। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল- এর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে বুসান সংলাপে জীবাশ্ম জ্বালানি এবং রাসায়নিক কোম্পানির ২২০ জন প্রতিনিধি সক্রিয় আছে। এখন পর্যন্ত এমন সংলাপে এটাই প্লাস্টিক উৎপাদক পক্ষের সর্বোচ্চ উপস্থিতি। গোষ্ঠী হিসেবে প্লাস্টিক লবিস্টরাই বুসানে সবচেয়ে বড় গ্রুপ। তারা সংলাপে অংশ নেয়া ইউরোপ এমনকি আয়োজক দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদের চেয়েও বেশি।

চীন, ডমিনিকান রিপাবলিক, মিসর, ফিনল্যান্ড, ইরান, কাজাখস্তান এবং মালয়েশিয়ার প্লাস্টিক উৎপাদকদের হয়ে সংলাপে নিজ স্বার্থরক্ষায় বেশ সক্রিয় ১৬ লবিস্ট। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে সংলাপে প্লাস্টিক কমিয়ে আনার চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষের বিজ্ঞানীদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে প্লাস্টিক উৎপাদনের পক্ষের লবিস্টরা। উপস্থিতির হার বলছে বুসানে প্লাস্টিকের পক্ষে থাকা ৩ জন লবিস্টের বিপরীতে বিপক্ষে আছেন মাত্র এক জন করে বিশেষজ্ঞ।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, বছরে আনুমানিক ৪৬০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয় এবং ২০৬০ সাল নাগাদ ব্যবসায়িক-স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে এই উৎপাদন তিনগুণ হবে!
এই শঙ্কা জাগানো প্রেক্ষাপটে ২০৪০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করার জন্য শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে একটি ব্যাপক এবং উচ্চাভিলাষী বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার তাগিদ দিয়ে ৯০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্লাস্টিক দূষণে জর্জরিত বিশ্বকে বুসান সংলাপ অস্তিত্বের আশা কতটুকু জাগাবে সেটা জানা যাবে সংলাপের শেষ দিন ১ ডিসেম্বর।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















