সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে জরুরি ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলার তাগিদ Logo বিপন্ন পৃথিবী, বিপন্ন বাংলাদেশ: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আর কত দেরি? Logo প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রকৃতি রক্ষা: রাবি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে আসছে ‘বায়োব্লিটজ’ Logo তাপপ্রবাহের মাঝে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি Logo শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে দাঁড়াবেন ঢাকা বারের না কোন আইনজীবী Logo শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী, নিয়েছেন বোনের দায়িত্ব Logo ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো Logo ‘স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব’ প্রতিপাদ্যে এবছরের আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস Logo ‘ভুট্টি’ বা ভুটানি গরুর আড়ালে বামনত্বের বাণিজ্যিকীকরণ! Logo ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে জরুরি ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলার তাগিদ

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে জরুরি ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলার তাগিদ

দেশের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ‘জিন পুল’ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (২২ মে) উপলক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন ও শিল্প দূষণের কারণে দেশের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদজগৎ এখন তীব্র সংকটে। এই পরিস্থিতিতে প্রজাতিগুলোর জিনগত বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে জিন পুল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

জিন পুলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ জানান, জিন পুল হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের উদ্ভিদ, প্রাণী বা কীটপতঙ্গের সব ধরনের জিনগত উপাদানের (অ্যালিল) সমাহার। এটি একটি প্রজাতির সামগ্রিক বৈচিত্র্যকে ধারণ করে, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম সরওয়ার আলম বলেন:

“সংকরায়ন এবং নানামুখী হুমকির কারণে আমাদের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ আজ ঝুঁকিতে। কোন প্রজাতিটি সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের দেশের, তা নিশ্চিত করতে জিন পুলের বিকল্প নেই।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি দেশের নদ-নদীর ঘড়িয়ালের কথা উল্লেখ করেন, যা নিয়ে ভারত দাবি উত্থাপন করে থাকে। জিন পুল থাকলে এ ধরনের প্রজাতির দেশীয় উৎস বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা সহজ হতো।

 

সংকটের মুখে বাংলাদেশের প্রকৃতি

আইইউসিএন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড, বনাঞ্চল উজাড় এবং জলাভূমি ধ্বংসের কারণে দেশের প্রকৃতি আজ বিপর্যস্ত।

ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি: দেশে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর মিলিয়ে প্রায় ১৫৬টি প্রজাতি বর্তমানে হুমকির মুখে।

উদ্ভিদের বিলুপ্তি: দেশের প্রায় ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আঞ্চলিক ক্ষতি: সুন্দরবন ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে মাছ ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

 

টেকসই সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ

বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের কথা বলেন:

কমিউনিটি অংশীদারিত্ব: বনাঞ্চল রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের জন্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

মনোকালচার নিয়ন্ত্রণ: জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে একক প্রজাতির চাষ বা মনোকালচার পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও, তা চাহিদার ভিত্তিতে সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

আইন প্রয়োগ ও জনবল বৃদ্ধি: বন ধ্বংস রোধে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

মূল প্রতিবেদন: বাসস

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে জরুরি ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলার তাগিদ

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে জরুরি ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলার তাগিদ

আপডেট সময় ০৩:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

দেশের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ‘জিন পুল’ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (২২ মে) উপলক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন ও শিল্প দূষণের কারণে দেশের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদজগৎ এখন তীব্র সংকটে। এই পরিস্থিতিতে প্রজাতিগুলোর জিনগত বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে জিন পুল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

জিন পুলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ জানান, জিন পুল হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের উদ্ভিদ, প্রাণী বা কীটপতঙ্গের সব ধরনের জিনগত উপাদানের (অ্যালিল) সমাহার। এটি একটি প্রজাতির সামগ্রিক বৈচিত্র্যকে ধারণ করে, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম সরওয়ার আলম বলেন:

“সংকরায়ন এবং নানামুখী হুমকির কারণে আমাদের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ আজ ঝুঁকিতে। কোন প্রজাতিটি সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের দেশের, তা নিশ্চিত করতে জিন পুলের বিকল্প নেই।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি দেশের নদ-নদীর ঘড়িয়ালের কথা উল্লেখ করেন, যা নিয়ে ভারত দাবি উত্থাপন করে থাকে। জিন পুল থাকলে এ ধরনের প্রজাতির দেশীয় উৎস বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা সহজ হতো।

 

সংকটের মুখে বাংলাদেশের প্রকৃতি

আইইউসিএন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড, বনাঞ্চল উজাড় এবং জলাভূমি ধ্বংসের কারণে দেশের প্রকৃতি আজ বিপর্যস্ত।

ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি: দেশে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর মিলিয়ে প্রায় ১৫৬টি প্রজাতি বর্তমানে হুমকির মুখে।

উদ্ভিদের বিলুপ্তি: দেশের প্রায় ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আঞ্চলিক ক্ষতি: সুন্দরবন ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে মাছ ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

 

টেকসই সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ

বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের কথা বলেন:

কমিউনিটি অংশীদারিত্ব: বনাঞ্চল রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের জন্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

মনোকালচার নিয়ন্ত্রণ: জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে একক প্রজাতির চাষ বা মনোকালচার পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও, তা চাহিদার ভিত্তিতে সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

আইন প্রয়োগ ও জনবল বৃদ্ধি: বন ধ্বংস রোধে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

মূল প্রতিবেদন: বাসস