এই পৃথিবী কেবলই মানুষের এমনটা ভাবলে পৃথিবীর অস্তিত্বই বিপন্ন হয়। অথচ মানুষের আগ্রাসী মনোভাব আর জীবজগতের বাকী সদস্যদের জন্য একচুল ছাড় না দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় সর্বত্র। তাই বিলুপ্ত হয়েছে অনেক জীব এবং বাকী অনেকগুলো আছে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। তবে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে চাইলে পৃথিবীর মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ভূমি সংরক্ষণ করাই নাকি যথেষ্ট! জীববৈচিত্র্যবিষয়ক সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটি দাবি করা হয়েছে।
গবেষণাটি তুলে ধরে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট কিছু বনাঞ্চল সংরক্ষিত রাখতে পারলেই হাজার হাজার স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, উভচর এবং উদ্ভিদের বিলুপ্তি রোধ করা যাবে। আর্জেন্টিনা থেকে পাপুয়া নিউগিনি পর্যন্ত এই গবেষক দল ১৬ হাজার ৮২৫টি অঞ্চল শনাক্ত করেছে। তারা বলেন, এই সব অঞ্চল আগামী পাঁচ বছর সংরক্ষণের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এতে করে বিশ্বের অধিকাংশ বিপন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদকে রক্ষা করা যাবে।
গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক ড. এরিক ডিনারস্টেইন বলেন, অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে এমন সব আবাসস্থল সঙ্গে বিশ্বের বিপন্ন এবং বিরল প্রজাতির সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছেন তারা। দলটি পিয়োট ক্যাকটাসের উদাহরণ টেনে বলে, উত্তর আমেরিকার চিহুয়াহুয়ান মরুভূমির একটি মাত্র ছোট্ট অংশে এই বিরল প্রজাতির ক্যাকটাসটির অস্তিত্ব এখনও টিকে আছে।
পৃথিবীতে বেশিরভাগ প্রজাতিই বিরল এর অর্থ হলো প্রজাতিগুলোর আবাসস্থল ভীষণভাবে সংকচিত হয়ে পড়েছে বা হুমকির মুখোমুখি অথবা এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
এই গবেষণাটি কীভাবে বিপন্ন প্রজাতিকে রক্ষা করা যায় সে দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তবে পৃথিবীতে প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর উপর নজর দেয়নি। বিজ্ঞানীরা বলেন, জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা করতে চাইলে মানব সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওই সব প্রাণীর প্রতিবেশ সংরক্ষণ করার পাশাপাশি ওই সব প্রতিবেশের বিস্তৃতি ধীরে ধীরে বাড়ানো।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















