পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। সবুজ পাহাড় আর আকাশ নীলে মন ভাসিয়ে শীত মৌসুমকে উপভোগ করতে কে না চায়। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য অবলোকন করতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নেমেছে পাহাড় ঘেরা পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে। জেলা শহরের সবচেয়ে কাছের পর্যটন স্থান নীলাচল, মেঘলা ও শৈলপ্রপাতে ঘুরে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে।
বান্দরবানের হোটেল-মোটেল আর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া পর্যটকের সমাগম হয়েছে। শীতের আমেজে পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রেই ছুটছে অসংখ্য পর্যটক।

বান্দরবানের অপরূপ নদী,পাহাড়, প্রকৃতি দেখে বিমোহিত বেড়াতে আসা মানুষগুলো। বাংলাদেশের অনেক স্থান ভ্রমণের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও একসঙ্গে পাহাড়, নদী, মেঘ আর প্রকৃতির এত আয়োজন শুধু বান্দরবানেই উপভোগ করা যায়। নগরের ব্যস্ত মানুষগুলো ছুটি পেলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বান্দরবান ছুটে আসে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনে জেলার হোটেল-মোটেল, রিসোর্টগুলো কানায় কানায় পূর্ণ এখন, আর তাদের সেবা দিতে পেরে খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বান্দরবানের আবাসিক হোটেলগুলো এবার ১৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়েছে। হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটক আসবে। বান্দরবান ভ্রমণে আসা মানুষগুলো দারুণ সব অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন আশা করছেন হোটেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বান্দরবানের আবাসিক হোটেল আরণ্যের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ১৩ থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের হোটেলের বেশিরভাগ রুম বুকিং হচ্ছে। সেই সঙ্গে থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আমাদের হোটেলে প্রচুর পর্যটকের আগমনের সাড়া পাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর বান্দরবানে পর্যটকের আগমনে আমরা খুশি আর পর্যটকদের সেবা দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অর্থ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাশ বাপ্পা বলেন, বান্দরবানে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ভ্রমণের জন্য বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের পর্যটকদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বান্দরবান জিপ-মাইক্রো-কার মালিক সমবায় সমিতির লাইন পরিচালক মো.কামাল বলেন, বান্দরবানে পর্যটকদের সেবার জন্য প্রায় ৪৫০টি চান্দের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস রয়েছে। আর এই গাড়িগুলোর চালকরা একজন দক্ষ গাইড হিসেবে পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকে।

শীতের শুরুতেই বান্দরবানে পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এটা অব্যাহত থাকলে পর্যটকরা বান্দরবান ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করবে আর পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা- এমনটাই জানালেন ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















