সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রাণী নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ Logo কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার ক্ষোভ: এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ Logo পহেলা বৈশাখে আকাশ থাকতে পারে মেঘলা, তাপপ্রবাহ চলছে, সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা Logo পহেলা বৈশাখে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের দুটি স্টেশন Logo বিডব্লিউওটির দাবি: দেশে সক্রিয় তাপপ্রবাহ ‘দহন’ ও বৃষ্টিবলয় ‘ঝংকার’   Logo বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন Logo ইরানের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, আবার যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা Logo কুকুরকে কুমিরের মুখে ফেলে দেয়া নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর Logo বাংলা নববর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী সরকারের নানা কর্মসূচি গ্রহণ Logo জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

প্রতিশোধ না নিয়ে বিকল্প উপায়ে তুষার চিতাদের রক্ষা করছে নেপালের কৃষকরা

প্রতিশোধ না নিয়ে বিকল্প উপায়ে তুষার চিতাদের রক্ষা করছে নেপালের কৃষকরা

বাংলাদেশে প্রায়ই গ্রামগঞ্জ থেকে প্রায়ই গন্ধগোকুল, মেছো বিড়াল, শেয়াল মারার খবর আসে। ইদানীং গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারণা ও সরকারি আন্তরিকতায় বন্যপ্রাণী হত্যাকারীদের আটক-জরিমানা করা হচ্ছে। দেশের গ্রামগঞ্জে বন্যপ্রাণীদের হত্যার একটি অতি সাধারণত অজুহাত হলো এসব প্রাণীরা হাঁস-মুরগি, ছাগল, কবুতর খায়, এজন্য গ্রামবাসী ক্ষোভ থেকে তাদের হত্যা করে। অথচ বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ নেপালে হিংস্র বন্যপ্রাণীর আক্রমণ নিয়মিত হলেও মানবিক বোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার অনন্য নজীর স্থাপন করছেন নেপালিরা। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নেপালিদের ধৈর্য্য-সহিষ্ণুতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনটি বাংলায় তুলে ধরলো প্রকৃতিবার্তা:

শীতের নীরব রাতে, এক তুষার চিতা রিনচেন লামার গবাদি পশুর ঘেরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পশ্চিম নেপালের হিমালয় অঞ্চলের ডোলপা জেলায়, বড়সড় এই বিড়ালটি শিকারে বেরিয়েছিল।

পরদিন সকালে রিনচেন যা দেখলেন তা ছিল ভয়াবহ, “প্রতিটি জায়গায় রক্তমাখা উলের ছড়াছড়ি। সেদিন রাতে আমি ৩৭টি ভেড়া ও ছাগল হারিয়েছিলাম; আমার প্রায় পুরো জীবিকা।”

কয়েক মাস পর, আরও একটি আক্রমণ। এবার তুষার চিতা তার ঘোড়াটিকে হত্যা করল। “তুষার চিতা সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের মতো সম্প্রদায়ের জন্য তারা জীবনকে খুব কঠিন করে তোলে,” রিনচেন বলেন।

তুষার চিতা এশিয়ার ১২টি দেশের পর্বতমালায় বসবাস করে। সাধারণত তারা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় থাকে।

তারা খুবই বিরল এবং গোপন স্বভাবের, তাই তাদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা IUCN তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

২০১৬ সালে করা সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী তুষার চিতার সংখ্যা আনুমানিক ২,৭০০ থেকে ৩,৩০০-এর মধ্যে ছিল। তবে ধারণা করা হয়, সংখ্যাটা ৭,০০০ পর্যন্তও যেতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব ধারণাকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশ কম।

তুষার চিতার সংখ্যা হ্রাসের একটি কারণ হল, তাদের প্রধান বন্য শিকার, যেমন – নীল ভেড়া, আইবেক্স, পিকা এবং খরগোশ— এগুলো ধীরে ধীরে গবাদি পশু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ফলে তুষার চিতারা গৃহপালিত পশুকেই আক্রমণ করছে।

গবাদি পশু হারালে জীবিকা হারানোর ভয়ে কৃষকরা কখনো কখনো তুষার চিতাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ২২১ থেকে ৪৫০টি তুষার চিতা মারা যায়, যার মধ্যে ৫৫% প্রতিশোধমূলক হত্যার শিকার হয়।

তবে নেপালের এক সংরক্ষণবাদী এই মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করছেন। আর এতে সহায়তা করছেন স্থানীয় নারীরা।

নেপালি সংরক্ষণবিদ ত্শিরিং লামু লামা মনে করেন, তুষার চিতাদের হত্যার প্রবণতা কমাতে হলে প্রথমে রাতের বেলায় গবাদি পশুর গণহত্যা রোধ করতে হবে।

এর জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন কৃষককে ব্যাটারিচালিত আলোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আরও ৫০০ জনের কাছে তা পৌঁছে দিতে চান।

এই আলো রাতের বেলা তুষার চিতাদের ভয় দেখাতে বেশ কার্যকর। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়, কারণ কয়েক বছর পর তুষার চিতারা এগুলো উপেক্ষা করতে শিখে ফেলে।

রেডিও চালানো ও গোবর পোড়ানোও তুষার চিতাদের তাড়ানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো গবাদি পশুর ঘেরগুলিকে চিতা-প্রতিরোধী করে তোলা।

ডোলপা অঞ্চলে গবাদি পশুর ঘেরগুলো সাধারণত কম উঁচু দেয়ালবিশিষ্ট হয়, যা পশুগুলিকে একসঙ্গে রাখে কিন্তু তুষার চিতাদের আটকাতে পারে না।

তাই ২০২৪ সালের শুরুতে, ত্শিরিং স্থানীয় পশুপালকদের সঙ্গে মিলে ডোলপায় প্রথম চিতা-প্রতিরোধী ঘের তৈরি করেন।

ত্শিরিং বলেন, “পুরুষরা প্রায়ই গ্রাম ছেড়ে বাণিজ্য করতে চলে যায়, ফলে নারীরাই গবাদি পশুর দেখভাল করে। তাই তাদের এই প্রকল্পের অংশ হতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগে স্থানীয়রা আমাকে শত্রু ভাবত। তারা তাদের গবাদি পশু রক্ষা করছে, আমি তুষার চিতাদের। কিন্তু এখন তারা সংরক্ষণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমার লক্ষ্য দুইটি – তুষার চিতাদের রক্ষা করা এবং মানুষের জীবিকা সংরক্ষণ করা।“

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রাণী নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ

প্রতিশোধ না নিয়ে বিকল্প উপায়ে তুষার চিতাদের রক্ষা করছে নেপালের কৃষকরা

আপডেট সময় ০৭:১৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশে প্রায়ই গ্রামগঞ্জ থেকে প্রায়ই গন্ধগোকুল, মেছো বিড়াল, শেয়াল মারার খবর আসে। ইদানীং গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারণা ও সরকারি আন্তরিকতায় বন্যপ্রাণী হত্যাকারীদের আটক-জরিমানা করা হচ্ছে। দেশের গ্রামগঞ্জে বন্যপ্রাণীদের হত্যার একটি অতি সাধারণত অজুহাত হলো এসব প্রাণীরা হাঁস-মুরগি, ছাগল, কবুতর খায়, এজন্য গ্রামবাসী ক্ষোভ থেকে তাদের হত্যা করে। অথচ বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ নেপালে হিংস্র বন্যপ্রাণীর আক্রমণ নিয়মিত হলেও মানবিক বোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার অনন্য নজীর স্থাপন করছেন নেপালিরা। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নেপালিদের ধৈর্য্য-সহিষ্ণুতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনটি বাংলায় তুলে ধরলো প্রকৃতিবার্তা:

শীতের নীরব রাতে, এক তুষার চিতা রিনচেন লামার গবাদি পশুর ঘেরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পশ্চিম নেপালের হিমালয় অঞ্চলের ডোলপা জেলায়, বড়সড় এই বিড়ালটি শিকারে বেরিয়েছিল।

পরদিন সকালে রিনচেন যা দেখলেন তা ছিল ভয়াবহ, “প্রতিটি জায়গায় রক্তমাখা উলের ছড়াছড়ি। সেদিন রাতে আমি ৩৭টি ভেড়া ও ছাগল হারিয়েছিলাম; আমার প্রায় পুরো জীবিকা।”

কয়েক মাস পর, আরও একটি আক্রমণ। এবার তুষার চিতা তার ঘোড়াটিকে হত্যা করল। “তুষার চিতা সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের মতো সম্প্রদায়ের জন্য তারা জীবনকে খুব কঠিন করে তোলে,” রিনচেন বলেন।

তুষার চিতা এশিয়ার ১২টি দেশের পর্বতমালায় বসবাস করে। সাধারণত তারা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় থাকে।

তারা খুবই বিরল এবং গোপন স্বভাবের, তাই তাদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা IUCN তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

২০১৬ সালে করা সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী তুষার চিতার সংখ্যা আনুমানিক ২,৭০০ থেকে ৩,৩০০-এর মধ্যে ছিল। তবে ধারণা করা হয়, সংখ্যাটা ৭,০০০ পর্যন্তও যেতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব ধারণাকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশ কম।

তুষার চিতার সংখ্যা হ্রাসের একটি কারণ হল, তাদের প্রধান বন্য শিকার, যেমন – নীল ভেড়া, আইবেক্স, পিকা এবং খরগোশ— এগুলো ধীরে ধীরে গবাদি পশু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ফলে তুষার চিতারা গৃহপালিত পশুকেই আক্রমণ করছে।

গবাদি পশু হারালে জীবিকা হারানোর ভয়ে কৃষকরা কখনো কখনো তুষার চিতাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ২২১ থেকে ৪৫০টি তুষার চিতা মারা যায়, যার মধ্যে ৫৫% প্রতিশোধমূলক হত্যার শিকার হয়।

তবে নেপালের এক সংরক্ষণবাদী এই মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করছেন। আর এতে সহায়তা করছেন স্থানীয় নারীরা।

নেপালি সংরক্ষণবিদ ত্শিরিং লামু লামা মনে করেন, তুষার চিতাদের হত্যার প্রবণতা কমাতে হলে প্রথমে রাতের বেলায় গবাদি পশুর গণহত্যা রোধ করতে হবে।

এর জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন কৃষককে ব্যাটারিচালিত আলোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আরও ৫০০ জনের কাছে তা পৌঁছে দিতে চান।

এই আলো রাতের বেলা তুষার চিতাদের ভয় দেখাতে বেশ কার্যকর। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়, কারণ কয়েক বছর পর তুষার চিতারা এগুলো উপেক্ষা করতে শিখে ফেলে।

রেডিও চালানো ও গোবর পোড়ানোও তুষার চিতাদের তাড়ানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো গবাদি পশুর ঘেরগুলিকে চিতা-প্রতিরোধী করে তোলা।

ডোলপা অঞ্চলে গবাদি পশুর ঘেরগুলো সাধারণত কম উঁচু দেয়ালবিশিষ্ট হয়, যা পশুগুলিকে একসঙ্গে রাখে কিন্তু তুষার চিতাদের আটকাতে পারে না।

তাই ২০২৪ সালের শুরুতে, ত্শিরিং স্থানীয় পশুপালকদের সঙ্গে মিলে ডোলপায় প্রথম চিতা-প্রতিরোধী ঘের তৈরি করেন।

ত্শিরিং বলেন, “পুরুষরা প্রায়ই গ্রাম ছেড়ে বাণিজ্য করতে চলে যায়, ফলে নারীরাই গবাদি পশুর দেখভাল করে। তাই তাদের এই প্রকল্পের অংশ হতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগে স্থানীয়রা আমাকে শত্রু ভাবত। তারা তাদের গবাদি পশু রক্ষা করছে, আমি তুষার চিতাদের। কিন্তু এখন তারা সংরক্ষণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমার লক্ষ্য দুইটি – তুষার চিতাদের রক্ষা করা এবং মানুষের জীবিকা সংরক্ষণ করা।“