ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার

গন্ধগোকুল এশীয় তালখাটাশ, ভোন্দর, লেনজা, সাইরেল বা গাছখাটাশ নামে পরিচিত। তালের রস বা তাড়ি পান করে বলে তাড়ি বা টডি বিড়াল নামেও এটি পরিচিত। গন্ধগোকুল বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। গন্ধগোকুলের ইংরেজি নাম ‘Asian palm civet’। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Paradoxurus hermaphroditus’। এরা এশীয় তালখাটাশ, ভোন্দর, লেনজা, সাইরেল বা গাছখাটাশ নামে পরিচিত। লোকালয়ে আসা প্রাণীদের মধ্যে গন্ধগোকুল অন্যতম। রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয় এরা। মূলত তখনি নজরে পড়ে মানুষের।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুডাইচ ইউনিয়নের ফলিয়া এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ফলিয়া গ্রামের মধ্যপাড়া অঞ্চলে একটি বাগান থেকে কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়। এরপর উদ্ধারকৃত গন্ধগোকুলটি আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের অধীনে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টায় আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার শ্রীরামপুর গ্রামের একটি জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার prokritibarta

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গন্ধগোকুল নামে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণীটি শনিবার দুপুরে উপজেলার ফলিয়া এলাকার একটি মুরগির খামার থেকে মুরগি শিকার করে খাচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে প্রাণীটির ওপর হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের হাতে অসুস্থ অবস্থায় ধরা পড়ে গন্ধগোকুলটি। উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে এই প্রাণীটি। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুলের বাস। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী গন্ধগোকুল সংরক্ষিত একটি প্রজাতি। তাই এটি ধরা বা শিকার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার prokritibarta

উল্লেখ্য; গন্ধগোকুল নিশাচর প্রাণী। খাটাশের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এরাই মানুষের বেশি কাছাকাছি থাকে। দিনের বেলা বড় কোনো গাছের ভূমি সমান্তরাল ডালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে, লেজটি ঝুলে থাকে নিচের দিকে। মূলত ফলখেকো হলেও কীটপতঙ্গ, ডিম-বাচ্চা-পাখি, ছোট প্রাণী, তাল-খেজুরের রসও খায়। অন্য খাদ্যের অভাবে মুরগি-কবুতর ও ফল চুরি করে। এরা ইঁদুর ও ফল-ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। গন্ধগোকুলের ধূসর রঙের এই প্রাণীটির অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধ শুঁকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রায় পোলাও চালের মতো তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। একসময় এর শরীরের গন্ধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহূত হতো। বর্তমানে কৃত্রিম বিকল্প সুগন্ধি তৈরি হয় গন্ধগোকুল বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। পুরোনো গাছ, বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার

আপডেট সময় ০৪:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

গন্ধগোকুল এশীয় তালখাটাশ, ভোন্দর, লেনজা, সাইরেল বা গাছখাটাশ নামে পরিচিত। তালের রস বা তাড়ি পান করে বলে তাড়ি বা টডি বিড়াল নামেও এটি পরিচিত। গন্ধগোকুল বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। গন্ধগোকুলের ইংরেজি নাম ‘Asian palm civet’। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Paradoxurus hermaphroditus’। এরা এশীয় তালখাটাশ, ভোন্দর, লেনজা, সাইরেল বা গাছখাটাশ নামে পরিচিত। লোকালয়ে আসা প্রাণীদের মধ্যে গন্ধগোকুল অন্যতম। রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয় এরা। মূলত তখনি নজরে পড়ে মানুষের।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুডাইচ ইউনিয়নের ফলিয়া এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ফলিয়া গ্রামের মধ্যপাড়া অঞ্চলে একটি বাগান থেকে কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়। এরপর উদ্ধারকৃত গন্ধগোকুলটি আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের অধীনে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টায় আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার শ্রীরামপুর গ্রামের একটি জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার prokritibarta

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গন্ধগোকুল নামে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণীটি শনিবার দুপুরে উপজেলার ফলিয়া এলাকার একটি মুরগির খামার থেকে মুরগি শিকার করে খাচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে প্রাণীটির ওপর হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের হাতে অসুস্থ অবস্থায় ধরা পড়ে গন্ধগোকুলটি। উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে এই প্রাণীটি। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুলের বাস। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী গন্ধগোকুল সংরক্ষিত একটি প্রজাতি। তাই এটি ধরা বা শিকার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার prokritibarta

উল্লেখ্য; গন্ধগোকুল নিশাচর প্রাণী। খাটাশের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এরাই মানুষের বেশি কাছাকাছি থাকে। দিনের বেলা বড় কোনো গাছের ভূমি সমান্তরাল ডালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে, লেজটি ঝুলে থাকে নিচের দিকে। মূলত ফলখেকো হলেও কীটপতঙ্গ, ডিম-বাচ্চা-পাখি, ছোট প্রাণী, তাল-খেজুরের রসও খায়। অন্য খাদ্যের অভাবে মুরগি-কবুতর ও ফল চুরি করে। এরা ইঁদুর ও ফল-ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। গন্ধগোকুলের ধূসর রঙের এই প্রাণীটির অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধ শুঁকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রায় পোলাও চালের মতো তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। একসময় এর শরীরের গন্ধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহূত হতো। বর্তমানে কৃত্রিম বিকল্প সুগন্ধি তৈরি হয় গন্ধগোকুল বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। পুরোনো গাছ, বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।