আম একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল যা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে খাওয়া হয়। এটি স্বাদে মিষ্টি, ঘ্রাণে এবং রঙে আকর্ষণীয়। এটি অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণের কারণে প্রশংসিত। ‘ফলের রাজা’ আমকে ভালোবাসার বিভিন্ন কারণ আছে। অ্যালেক্সান্ডার থেকে শুরু করে মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীর- সকলেরই আমপ্রীতির গল্প আমরা কিছু না কিছু শুনে এসেছি।
আম সম্পর্কে কয়েকটা তথ্যে নিচে উল্লেখ করা হল যা প্রত্যেকের জানা প্রয়োজন:
উৎপত্তিস্থলঃ আম ভারতের অন্যতম প্রাচীন ফল। অনেকেই দাবী করেন পাঁচ হাজার বছর আগে ভারতে প্রথম আম উৎপাদন হয়। প্রায়ই শোনা যায়, মায়ানমার সংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বের পার্বত্য অঞ্চল আমের প্রধান উৎসস্থল।

“ম্যাঙ্গো” শব্দটির উৎপত্তি ভারতে: ইংরেজিতে ম্যাঙ্গো শব্দটি সম্ভবত তামিল ‘ম্যানকেই’ কিংবা তামিল ‘মানগা’ শব্দ থেকে এসেছে। দক্ষিণ ভারতে তামিল ভাষায় আমকে আম-কায় নামে অভিহিত করা হত। পরবর্তীকালে তা মাম-কায় নামে পরিচিত হয়। তারপর তার নাম হয় মাঙ্গা। পর্তুগীজরা শেষমেশ ‘ম্যাঙ্গো’ নামকরণ করে যা পরবর্তীকালে বিখ্যাত হয়। যখন পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ ভারতে বসতি স্থাপন করে, তারা নাম হিসেবে ‘ম্যাংগা’ শব্দটি গ্রহণ করে। আর যখন ব্রিটিশরা ১৫শ এবং ১৬শ শতকের দিকে ভারতে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে ব্যবসা শুরু করে, তখন ‘ম্যাঙ্গো’ শব্দটির জন্ম।
তিনটি দেশের জাতীয় ফল আম: পৃথিবীর তিনটি দেশের জাতীয় ফল আম। পাকিস্তান, ভারত আর ফিলিপাইনের জাতীয় ফল আম। আর বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হলো আম গাছ।
রাজা-বাদশাদের প্রিয় ফল ছিলো আমঃ মুগল সাম্রাজ্যে আম শুধুমাত্র রাজ পরিবারের বাগানেই চাষ করার অনুমতি ছিল। তারপর শাহজাহান রাজ পরিবারের বাইরে আমের চাষ করার অনুমতি দেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও জানা গেছে জাহাঙ্গীর আমের অত্যন্ত ভক্ত ছিলেন। প্রাচীন ভারতে আমকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসাবে মনে করা হত। ফলে রাজা বাদশারা রাস্তার ধারে ধারে আম গাছ লাগাতেন বলে পরিব্রাজক হিউ-এন-সাং-এর লেখা থেকে জানা গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আম উৎপন্ন হয় ভারতে: দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে বছরে ১৮মিলিয়ন টন আম উৎপন্ন হয়- যা কিনা বিশ্বের মোট আম উৎপাদনের ৪০%। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যে এক শতাংশেরও কম আম তারা যোগান দেয়, বেশিরভাগ দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদাতেই লেগে যায়। আম উৎপাদনের দিক থেকে এরপরেই চীর এবং থাইল্যান্ডের অবস্থান।
সবচেয়ে প্রাচীন আম গাছটি বেঁচে আছে শতাব্দী পর শতাব্দী জুড়ে: সবচেয়ে প্রাচীন যে আম গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে সেটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। মধ্য ভারতের পূর্ব কান্দেশে আছে গাছটি, আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে প্রাচীনতম গাছটিতে ফল দিচ্ছে!
কাজু বাদাম এবং পেস্তা বাদামের সাথে আমের মিল রয়েছে: আম ড্রুপ জাতীয় ফল। এ ধরনের ফল রসালো এবং পাতলা আবরণ যুক্ত হয়, এর মধ্যভাগে থাকে শক্ত যাকে বলে এন্ডোক্রাপ যেখানে ফলটির বীজ থাকে। জলপাই, খেজুর এবং চেরিও ড্রুপ জাতীয়। এমনকি যতই বাদাম বলা হোক- কাজু এবং পেস্তাও এই ড্রুপ জাতীয়ই, তাদের কে আমের দু:সম্পর্কের আত্মীয় বলা যায়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্যে আম গাছ খুব পবিত্র: বৌদ্ধদের কাছে আম গাছ পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। বলা হয়, বুদ্ধ তাঁর সঙ্গী সন্ন্যাসীদের নিয়ে এক শান্তিময় আম বাগানে বসে ধ্যানরত ছিলেন এবং সেখানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।

স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই উপকারী: এক কাপ আমে থাকে ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯ থেকে ৬৪ বছরের পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকায় যা ৬০ মিলিগ্রাম। আমে রয়েছে ২০ টি ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ, যার মধ্যে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি এর একটি উপাদান ফোলাইট থাকে। আর আছে প্রচুর আঁশ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আম: গিনেস বুক এর বিশ্ব রেকর্ড বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমটির ওজন ৩.৪৩৫ কেজি আর দৈর্ঘ্য ৩০.৪৮ সেন্টি মিটার, পরিধি ৪৯.৫৩ সেমি এবং প্রস্থ ছিল ১৭.১৮ সেমি। ২০০৯ সালে ফিলিপাইনের সার্জিও ও মারিয়া সিকোরো বোডিওনগানের বাগানে আমটি হয়েছিল।
নিজস্ব সংবাদ : 




















