সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি Logo রাঙ্গামাটিতে পুরুষ হাতির মৃত্যু, পাশে দাঁড়িয়ে শোকাতুর সঙ্গিনী Logo মাছ বেশি ভাজলে যে যে ক্ষতি হয় Logo ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাসহ ৫ বিভাগে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা, ভারী বৃষ্টির আভাস Logo প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ঢাকা’র আয়োজনে মুকিত মজুমদার বাবুকে সংবর্ধনা Logo হোয়াইট হাউজের নৈশভোজে গুলি, তবে এতে ট্রাম্প ‘সম্মানিত’ বোধ করছেন!   Logo রংপুর বিভাগে বৃষ্টি, শীঘ্রই দেশের ৭০-৮০ শতাংশ এলাকায় মিলতে পারে একই স্বস্তি Logo উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্যের ভাগাড়!

বজ্রপাতের সময় গোসল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

বজ্রপাতের সময় গোসল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

দেশজুড়ে বাড়ছে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় ঘিরে অনেকের মধ্যেই আছে নানা ভ্রান্ত ধারণা। অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভেতরে থাকলেই বজ্রপাতের সময় পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বজ্রপাতের সময় ঘরের মধ্যে থাকলেও পানির সংস্পর্শে থাকা কার্যক্রম যেমন গোসল, থালা-বাসন ধোয়া, রান্না ইত্যাদি প্রাণঘাতী হতে পারে। এর কারণ হলো, বজ্রপাত যদি কোনো ভবনে আঘাত করে, তাহলে সেই বিদ্যুৎ ধাতব পাইপ বা ইলেকট্রিক লাইন বেয়ে পানির লাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি আধুনিক প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহৃত হলেও, নিকটবর্তী বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে ঝুঁকি একেবারে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

বজ্রপাতের সময় এড়িয়ে চলুন যেসব কাজ:

. গোসল করা ও বাথটাবে থাকা

. থালা-বাসন ধোয়া ও রান্নার কাজ করা

. টিভি, কম্পিউটার বা চার্জে থাকা যন্ত্র ব্যবহার

. তারযুক্ত (ল্যান্ড) ফোন ব্যবহার

. জানালা বা দরজার পাশে দাঁড়ানো

. গাছের নিচে দাঁড়ানো বা কংক্রিট দেয়ালে হেলান দেওয়া

. পুকুর, নদী বা সমুদ্রের পাশে অবস্থান করা

নিরাপদ থাকতে যা করবেন:

. ঝড় শুরু হলে দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিন

. ঘরে না থাকলে গাড়িতে আশ্রয় নিতে পারেন, জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন

. শেষ বজ্রপাতের শব্দ শোনার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করুন

. বাইরে থাকলে ধাতব বস্তু বা গাছ থেকে দূরে সরে যান

. নিরাপদ জায়গা না পেলে, পায়ের পাতাকে একসঙ্গে রেখে, কান ঢেকে, মাথা নিচু করে বলের মতো বসে থাকুন

বজ্রপাতে কেউ আক্রান্ত হলে করণীয়:

. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনুন

. দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন

. যদি ব্যক্তি নিঃশ্বাস না নেয় বা হার্টবিট না থাকে, তবে সিপিআর (CPR) শুরু করুন এবং চিকিৎসক আসা পর্যন্ত চালিয়ে যান

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় সচেতনতা ও প্রাথমিক প্রস্তুতি থাকলে অধিকাংশ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। প্রকৃতির এই বিপদের মুখে ভয় নয়, চাই সতর্কতা ও সঠিক তথ্য।

 

আপলোডকারীর তথ্য

বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি

বজ্রপাতের সময় গোসল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

আপডেট সময় ০৫:২৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে বাড়ছে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় ঘিরে অনেকের মধ্যেই আছে নানা ভ্রান্ত ধারণা। অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভেতরে থাকলেই বজ্রপাতের সময় পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বজ্রপাতের সময় ঘরের মধ্যে থাকলেও পানির সংস্পর্শে থাকা কার্যক্রম যেমন গোসল, থালা-বাসন ধোয়া, রান্না ইত্যাদি প্রাণঘাতী হতে পারে। এর কারণ হলো, বজ্রপাত যদি কোনো ভবনে আঘাত করে, তাহলে সেই বিদ্যুৎ ধাতব পাইপ বা ইলেকট্রিক লাইন বেয়ে পানির লাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি আধুনিক প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহৃত হলেও, নিকটবর্তী বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে ঝুঁকি একেবারে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

বজ্রপাতের সময় এড়িয়ে চলুন যেসব কাজ:

. গোসল করা ও বাথটাবে থাকা

. থালা-বাসন ধোয়া ও রান্নার কাজ করা

. টিভি, কম্পিউটার বা চার্জে থাকা যন্ত্র ব্যবহার

. তারযুক্ত (ল্যান্ড) ফোন ব্যবহার

. জানালা বা দরজার পাশে দাঁড়ানো

. গাছের নিচে দাঁড়ানো বা কংক্রিট দেয়ালে হেলান দেওয়া

. পুকুর, নদী বা সমুদ্রের পাশে অবস্থান করা

নিরাপদ থাকতে যা করবেন:

. ঝড় শুরু হলে দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিন

. ঘরে না থাকলে গাড়িতে আশ্রয় নিতে পারেন, জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন

. শেষ বজ্রপাতের শব্দ শোনার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করুন

. বাইরে থাকলে ধাতব বস্তু বা গাছ থেকে দূরে সরে যান

. নিরাপদ জায়গা না পেলে, পায়ের পাতাকে একসঙ্গে রেখে, কান ঢেকে, মাথা নিচু করে বলের মতো বসে থাকুন

বজ্রপাতে কেউ আক্রান্ত হলে করণীয়:

. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনুন

. দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন

. যদি ব্যক্তি নিঃশ্বাস না নেয় বা হার্টবিট না থাকে, তবে সিপিআর (CPR) শুরু করুন এবং চিকিৎসক আসা পর্যন্ত চালিয়ে যান

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় সচেতনতা ও প্রাথমিক প্রস্তুতি থাকলে অধিকাংশ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। প্রকৃতির এই বিপদের মুখে ভয় নয়, চাই সতর্কতা ও সঠিক তথ্য।