বিজু হলো বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠী, বিশেষ করে চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় বর্ষবরণ উৎসব। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন (ফুলবিজু ও মূলবিজু) এবং নতুন বছরের প্রথম দিন (গোজ্যেপোজ্যে বিজু) মিলিয়ে তিন দিন ধরে এই উৎসব চলে। এটি পাহাড়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক ।
ফুলবিজু (প্রথম দিন): ভোরে নদী বা ঝরণায় ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে ফেলার প্রার্থনা করা হয় ।
মূল বিজু (দ্বিতীয় দিন): ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঘরে ঘরে বিশেষ খাবার (পাচন) রান্না ও অতিথি আপ্যায়ন করা হয় ।
গোজ্যেপোজ্যে বিজু (তৃতীয় দিন): এই দিনে মুরুব্বিদের সম্মান প্রদর্শন, প্রার্থনা এবং আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে উৎসব শেষ হয়।
রীতি মেনে আজ ১২ এপ্রিল ভোরে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসিয়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু করেছে চাকমারা।

বিজু উৎসবে ফুল ভাসানো (ফুল বিজু) মূলত শ্রদ্ধা, পবিত্রতা এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রাচীন রীতি। এর পেছনে গভীর কিছু কারণ রয়েছে:
পুরানোকে বিদায়: নদীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে গত বছরের সব দুঃখ, গ্লানি এবং অশুভ শক্তিকে ধুয়ে মুছে ফেলার প্রতীকী প্রকাশ ঘটানো হয়।
![]()
পানির দেবী গঙ্গাকে শ্রদ্ধা: চাকমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বিশ্বাস করেন, পানির দেবী বা গঙ্গা দেবীর আশীর্বাদ ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। তাই দেবীকে তুষ্ট করতে এবং সারা বছর পানির উৎসগুলো সচল রাখতে ফুল দিয়ে পুজো দেওয়া হয়।

প্রকৃতির সাথে মিতালি: চৈত্র সংক্রান্তির এই সময়ে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। ঝরা পাতার বদলে নতুন কুঁড়ি আসে। মানুষ নিজেদেরও প্রকৃতির এই পরিবর্তনের অংশ মনে করে বুনো ফুল দিয়ে ঘর সাজায় এবং নদীতে ফুল ভাসিয়ে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।
শুভেচ্ছা বার্তা: বহমান জলে ফুল ভাসিয়ে দেওয়ার মানে হলো—শান্তি ও মৈত্রীর বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।
সহজ কথায়, এটি মানুষের সাথে প্রকৃতির আত্মিক বন্ধন দৃঢ় করার এবং নতুন বছরকে শুভ্রতার সাথে বরণ করে নেওয়ার একটি উৎ
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















