সংবাদ শিরোনাম ::
নাটকীয়তায় ভরা নাগলিঙ্গম  

বৃক্ষের কাণ্ডে বর্ণিল ফণা , ফল যেন কামানের গোলা!

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪
  • 218

বৃক্ষের কাণ্ডে সাপের ফণা ফুল, ফল যেন কামানের গোলা!

মাসখানেক আগে এক সহকর্মী গিয়েছিলেন গাজীপুরে, সেখানে ঘুরতে ঘুরতে দেখা পেয়েছিলেন আজব এক বৃক্ষের। মোবাইলফোনে কয়েকটা ছবি তুলে এনে রেখেছিলেন কম্পিউটার ড্রাইভে। কয়েকদিন আগে অদ্ভুত গাছগাছালির কথা উঠতেই সেই ছবিগুলো দেখালেন তিনি।  দেখলাম বৃক্ষের একেবারে মূল অংশ অর্থাৎ কাষ্ঠল বৃক্ষের কাণ্ডজুড়ে ফুটে রয়েছে লালচে  গোলাপী ফুল, সাথে একেবারে গোলাকার বাদামি বর্ণের ফল। অথচ সাধারণত গাছের শাখা-প্রশাখায় ফুল-ফল আসে। কিন্তু এখানে মোটা কাণ্ডেই ফুল-ফল! ঠিক এরকমই একটা বৃক্ষ দেখেছিলাম এই মাসের শুরুর দিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকের পাশেই। এরপর এই আজব গাছের দেখা পেলাম চারুকলায়। প্রকৃতির এই নাটকীয়তায় ভরা উদ্ভিদটির নাম নাগলিঙ্গম। নামটা কেমন তামিল-তামিল মনে হচ্ছে তাই না? অনেকে এই উদ্ভিদের আদিনিবাস দক্ষিণ ভারত বলেও মনে করেন।

উৎস 

তবে লিসাইথিডেসিয়া গোত্রের চিরসবুজ বৃক্ষটির আদিনিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম কুরুপিটা গুইয়ানেনসিস। ১৭৫৫ সালে ফ্রান্সের উদ্ভিদবিদ জে.এফ আবলেট এই নামকরণ করেছিলেন। লম্বায় এই বৃক্ষ ৩৫ মিটার বা একশ ফুটের বেশি হতে পারে।

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই উপমহাদেশে যেভাবেই এই উদ্ভিদ আসুক না কেন সেটিও কম আগেকার কথা নয়। দুই-তিন হাজার বছর আগেই ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়েছে এই উদ্ভিদ।

সম্ভবত এই উদ্ভিদের বিস্তারের সঙ্গে হাতির সম্পর্ক আছে। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় যে দেশেই হাতি ছিল বা আছে সেসব দেশে পৌঁছে গেছে এই উদ্ভিদ।

নামকরণ

নাগলিঙ্গম হাতির জোলাপ নামেও পরিচিত। নাগলিঙ্গম ফল হাতির প্রিয়। এছাড়া এই গাছের কচিপাতা হাতির পেটের পীড়া দূর করতেও কাজে আসে। তাই অনেকে একে হাতিফল নামেও ডাকে।

এছাড়াও নাগলিঙ্গম নানা জায়গায় নানা নামে পরিচিত। ভারতের তামিল নাডু অঞ্চলে এর নাম নাগলিঙ্গম। শিবমন্দিরে নাগলিঙ্গম গাছের বিশেষ কদর আছে। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শিবপূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করে। এমনকি এই গাছকে ভারতে শিব কামান নামে ডাকা হয়। বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে নাগলিঙ্গম যত্নে রোপণ করা হয়। এ কারণে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারের বৌদ্ধমন্দির প্রাঙ্গণে নাগলিঙ্গমের গাছ বেশি দেখা যায়। বাদামি ফলগুলো কামানের গোলার মতো দেখতে হওয়ায় ইংরেজিতে এর নাম ক্যাননবল ট্রি।

ফুল

তবে বাংলায়ও এই উদ্ভিদটির শুদ্ধ নাম নাগলিঙ্গম। আবার নাগলিঙ্গম নামটা শুনেই কেমন নাগ-নাগিনির ব্যাপার মনে হয় তাই না? আসলে এর ফুলের পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো। হয়তো এ কারণেই এর নাম নাগলিঙ্গম।

নাগলিঙ্গম ফুলের পাপড়ি, রেণু, ফুলের গঠন মোহনীয়। গাছে সারা বছর ফুল ফোটে। তবে বসন্ত ও গ্রীষ্মে ফুল ফোটে বেশি। যেসব গাছে ফল হয় না, সেসব গাছে সব সময়ই ফুল ফোটে। গ্রীষ্মকাল পাতা ঝরার সময়, কিন্তু বছরে কয়েকবারই পাতা ঝরে, পাতা গজায়। মঞ্জরিদণ্ডে একটির পর একটি ফুল ফুটতে থাকে।

নাগলিঙ্গমের ফুল গাঢ় গোলাপি, সেই সঙ্গে হালকা হলুদ রঙের মিশ্রণ। পাপড়ি ছয়টি, গোলাকার কুলি­পাকানো। যেন ফণা তোলা সাপ। ফুলগুলো বেশ বড় বড়। এক কথায় দেখতে অসাধারণ!

ফুলটির রং, মিষ্টি গন্ধ, পাপড়ির বিন্যাস মুগ্ধ করার মতো। কী দিন, কী রাত, নাগলিঙ্গম গাছের পাশ দিয়ে গেলে এর তীব্র ঘ্রাণের মাদকতা আপনাকে কাছে টানবেই। নাগলিঙ্গম ফুল সারা বছর ফুটলেও গ্রীষ্মকাল হচ্ছে নাগলিঙ্গম ফোটার আসল সময়। শীত এবং শরৎকালে গাছে কম ফুল ফোটে।

ফল

মনে পড়ে বছরখানেক আগে নাগলিঙ্গম ফুল দেখেছিলাম মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। তবে এর ফল দেখা হয়নি। সহকর্মীর মোবাইলে তোলা ছবিগুলোতে দেখলাম ওই গাছে সফেদার মতো দেখতে তবে আকারে বড় একেবারে গোল ফল ধরে আছে ফুলের পাশেই। ফল কামানের গোলার মতো বড় হয় বলেই ইংরেজিতে এর নাম হয়েছে ক্যানন বল ট্রি বা কামানের গোলার গাছ।

পড়াশোনা করে জানলাম নাগলিঙ্গম ফলে ২০০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত বীজ থাকে। ফলের ওজন প্রায় দুই কেজি। দেখতে সুন্দর হলেও ফলের স্বাদ খুবই তেতো। পশুপাখিও এ ফল খায় না।

ফলের স্বাদ যা-ই হোক, নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে ব্যাপক ওষধি গুণ। এই বৃক্ষের ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাস ও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেটের অসুখ দূরীকরণে এর জুড়ি নেই। পাতা থেকে উৎপন্ন রস ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে খুবই কার্যকর। চর্মরোগ ও কাটাছেঁড়ায় নাগলিঙ্গমের রসে উপকার পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকায় এর পাতা ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করে থাকে। ফলের শক্ত খোলস অলংকার বা বিভিন্ন দ্রব্য বহনে ব্যবহার করা হয়।

বিএসএমএমইউ সি ব্লকের পাশের নাগলিঙ্গম

ঢাকার বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, কার্জন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নটর ডেম কলেজ, কিশোরগঞ্জে আজিমুদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে, ময়মনসিংহে শশী লজে নাগলিঙ্গমের গাছ আছে। এ ছাড়া বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জলটঙ্গি পুকুরপাড়ে, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কাপাসিয়ায় এবং শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৃক্ষটি রয়েছে।

অনেকেই গাছটির ফল সংগ্রহ করে এর বীজ থেকে চারা উৎপাদনের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেভাবে সফলতা আসেনি। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় বাংলাদেশে নাগলিঙ্গমের যে কয়টি গাছ আছে সেগুলোই বা জন্মালো কিভাবে?

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

নাটকীয়তায় ভরা নাগলিঙ্গম  

বৃক্ষের কাণ্ডে বর্ণিল ফণা , ফল যেন কামানের গোলা!

আপডেট সময় ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪

মাসখানেক আগে এক সহকর্মী গিয়েছিলেন গাজীপুরে, সেখানে ঘুরতে ঘুরতে দেখা পেয়েছিলেন আজব এক বৃক্ষের। মোবাইলফোনে কয়েকটা ছবি তুলে এনে রেখেছিলেন কম্পিউটার ড্রাইভে। কয়েকদিন আগে অদ্ভুত গাছগাছালির কথা উঠতেই সেই ছবিগুলো দেখালেন তিনি।  দেখলাম বৃক্ষের একেবারে মূল অংশ অর্থাৎ কাষ্ঠল বৃক্ষের কাণ্ডজুড়ে ফুটে রয়েছে লালচে  গোলাপী ফুল, সাথে একেবারে গোলাকার বাদামি বর্ণের ফল। অথচ সাধারণত গাছের শাখা-প্রশাখায় ফুল-ফল আসে। কিন্তু এখানে মোটা কাণ্ডেই ফুল-ফল! ঠিক এরকমই একটা বৃক্ষ দেখেছিলাম এই মাসের শুরুর দিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকের পাশেই। এরপর এই আজব গাছের দেখা পেলাম চারুকলায়। প্রকৃতির এই নাটকীয়তায় ভরা উদ্ভিদটির নাম নাগলিঙ্গম। নামটা কেমন তামিল-তামিল মনে হচ্ছে তাই না? অনেকে এই উদ্ভিদের আদিনিবাস দক্ষিণ ভারত বলেও মনে করেন।

উৎস 

তবে লিসাইথিডেসিয়া গোত্রের চিরসবুজ বৃক্ষটির আদিনিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম কুরুপিটা গুইয়ানেনসিস। ১৭৫৫ সালে ফ্রান্সের উদ্ভিদবিদ জে.এফ আবলেট এই নামকরণ করেছিলেন। লম্বায় এই বৃক্ষ ৩৫ মিটার বা একশ ফুটের বেশি হতে পারে।

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই উপমহাদেশে যেভাবেই এই উদ্ভিদ আসুক না কেন সেটিও কম আগেকার কথা নয়। দুই-তিন হাজার বছর আগেই ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়েছে এই উদ্ভিদ।

সম্ভবত এই উদ্ভিদের বিস্তারের সঙ্গে হাতির সম্পর্ক আছে। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় যে দেশেই হাতি ছিল বা আছে সেসব দেশে পৌঁছে গেছে এই উদ্ভিদ।

নামকরণ

নাগলিঙ্গম হাতির জোলাপ নামেও পরিচিত। নাগলিঙ্গম ফল হাতির প্রিয়। এছাড়া এই গাছের কচিপাতা হাতির পেটের পীড়া দূর করতেও কাজে আসে। তাই অনেকে একে হাতিফল নামেও ডাকে।

এছাড়াও নাগলিঙ্গম নানা জায়গায় নানা নামে পরিচিত। ভারতের তামিল নাডু অঞ্চলে এর নাম নাগলিঙ্গম। শিবমন্দিরে নাগলিঙ্গম গাছের বিশেষ কদর আছে। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শিবপূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করে। এমনকি এই গাছকে ভারতে শিব কামান নামে ডাকা হয়। বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে নাগলিঙ্গম যত্নে রোপণ করা হয়। এ কারণে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারের বৌদ্ধমন্দির প্রাঙ্গণে নাগলিঙ্গমের গাছ বেশি দেখা যায়। বাদামি ফলগুলো কামানের গোলার মতো দেখতে হওয়ায় ইংরেজিতে এর নাম ক্যাননবল ট্রি।

ফুল

তবে বাংলায়ও এই উদ্ভিদটির শুদ্ধ নাম নাগলিঙ্গম। আবার নাগলিঙ্গম নামটা শুনেই কেমন নাগ-নাগিনির ব্যাপার মনে হয় তাই না? আসলে এর ফুলের পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো। হয়তো এ কারণেই এর নাম নাগলিঙ্গম।

নাগলিঙ্গম ফুলের পাপড়ি, রেণু, ফুলের গঠন মোহনীয়। গাছে সারা বছর ফুল ফোটে। তবে বসন্ত ও গ্রীষ্মে ফুল ফোটে বেশি। যেসব গাছে ফল হয় না, সেসব গাছে সব সময়ই ফুল ফোটে। গ্রীষ্মকাল পাতা ঝরার সময়, কিন্তু বছরে কয়েকবারই পাতা ঝরে, পাতা গজায়। মঞ্জরিদণ্ডে একটির পর একটি ফুল ফুটতে থাকে।

নাগলিঙ্গমের ফুল গাঢ় গোলাপি, সেই সঙ্গে হালকা হলুদ রঙের মিশ্রণ। পাপড়ি ছয়টি, গোলাকার কুলি­পাকানো। যেন ফণা তোলা সাপ। ফুলগুলো বেশ বড় বড়। এক কথায় দেখতে অসাধারণ!

ফুলটির রং, মিষ্টি গন্ধ, পাপড়ির বিন্যাস মুগ্ধ করার মতো। কী দিন, কী রাত, নাগলিঙ্গম গাছের পাশ দিয়ে গেলে এর তীব্র ঘ্রাণের মাদকতা আপনাকে কাছে টানবেই। নাগলিঙ্গম ফুল সারা বছর ফুটলেও গ্রীষ্মকাল হচ্ছে নাগলিঙ্গম ফোটার আসল সময়। শীত এবং শরৎকালে গাছে কম ফুল ফোটে।

ফল

মনে পড়ে বছরখানেক আগে নাগলিঙ্গম ফুল দেখেছিলাম মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। তবে এর ফল দেখা হয়নি। সহকর্মীর মোবাইলে তোলা ছবিগুলোতে দেখলাম ওই গাছে সফেদার মতো দেখতে তবে আকারে বড় একেবারে গোল ফল ধরে আছে ফুলের পাশেই। ফল কামানের গোলার মতো বড় হয় বলেই ইংরেজিতে এর নাম হয়েছে ক্যানন বল ট্রি বা কামানের গোলার গাছ।

পড়াশোনা করে জানলাম নাগলিঙ্গম ফলে ২০০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত বীজ থাকে। ফলের ওজন প্রায় দুই কেজি। দেখতে সুন্দর হলেও ফলের স্বাদ খুবই তেতো। পশুপাখিও এ ফল খায় না।

ফলের স্বাদ যা-ই হোক, নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে ব্যাপক ওষধি গুণ। এই বৃক্ষের ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাস ও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেটের অসুখ দূরীকরণে এর জুড়ি নেই। পাতা থেকে উৎপন্ন রস ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে খুবই কার্যকর। চর্মরোগ ও কাটাছেঁড়ায় নাগলিঙ্গমের রসে উপকার পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকায় এর পাতা ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করে থাকে। ফলের শক্ত খোলস অলংকার বা বিভিন্ন দ্রব্য বহনে ব্যবহার করা হয়।

বিএসএমএমইউ সি ব্লকের পাশের নাগলিঙ্গম

ঢাকার বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, কার্জন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নটর ডেম কলেজ, কিশোরগঞ্জে আজিমুদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে, ময়মনসিংহে শশী লজে নাগলিঙ্গমের গাছ আছে। এ ছাড়া বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জলটঙ্গি পুকুরপাড়ে, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কাপাসিয়ায় এবং শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৃক্ষটি রয়েছে।

অনেকেই গাছটির ফল সংগ্রহ করে এর বীজ থেকে চারা উৎপাদনের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেভাবে সফলতা আসেনি। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় বাংলাদেশে নাগলিঙ্গমের যে কয়টি গাছ আছে সেগুলোই বা জন্মালো কিভাবে?