বছর ঘুরে এসেছে রমজান, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সিয়াম সাধনা-সংযমের মাস। কিন্তু এই মাসে কিছু কিছু অতি উৎসাহ সংযমের ঠিক বিপরীত হিসেবে দৃষ্টিকটু হয়ে সামনে আসে। যেগুলোর একটি হলো ইফতার মাহফিলের নামে যত্রতত্র দলবেধে খেয়েদেয়ে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের গ্লাস-প্লেট-কাপ ফেলে দেয়া। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ভেতরের সবুজ আঙিনাটা রমজান মাসে তথাকথিত শিক্ষিতদের ইফতার মাহফিলের পর ফেলে দেয়া সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক, কাগজ, পলিথিনে সয়লাব হয়ে যায়। সময় এসে অভ্যাস পরিবর্তনের, নিজেদের পরিবর্তনের। এবার তাই হোক গ্রিন ইফতার অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব ইফতার।
এজন্য যা করা যেতে পারে:
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেট বা স্ট্র ব্যবহার না করে সিরামিক, কাঁচ বা ধাতব বাসনপত্র ব্যবহার করুন। বড় পরিসরে আয়োজনের ক্ষেত্রে মাটির তৈরি পাত্র বা কলার পাতা একটি চমৎকার পরিবেশবান্ধব বিকল্প হতে পারে। বাজেট বেশি থাকলে সুপারির খোল দিয়ে তৈরি প্লেট-বাটি ব্যবহার করুন।
খাবার অপচয় রোধ: অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী খাবারের পরিমাপ করুন এবং বুফে সিস্টেম চালু করতে পারেন যাতে সবাই প্রয়োজনমতো নিতে পারে। অতিরিক্ত খাবার বেঁচে গেলে তা ফেলে না দিয়ে অভাবী মানুষদের মাঝে বিতরণ করুন।
ডিজিটাল আমন্ত্রণপত্র: কাগজের কার্ড ছাপানোর বদলে ইমেইল, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল ইনভাইটেশন কার্ড পাঠান। এতে কাগজ সাশ্রয় হয় এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে।
প্রাকৃতিক সজ্জা: কৃত্রিম প্লাস্টিকের ফুল বা বেলুনের বদলে তাজা ফুল, ইনডোর প্ল্যান্ট এবং প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন। হালকা রঙের কাপড় বা পাটের তৈরি পণ্য দিয়ে টেবিল সাজালে পরিবেশটি আরামদায়ক ও নান্দনিক হয়।
স্বাস্থ্যকর ও স্থানীয় খাবার: প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারের বদলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তাজা ফলমূল ও ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার মেনুতে রাখুন । এটি প্যাকেজিং বর্জ্য কমাতে সাহায্য করে।
যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্যের জন্য আলাদা ডাস্টবিনের ব্যবস্থা রাখুন যাতে ময়লাগুলো সহজে রিসাইকেল বা ডাম্পিং করা যায় ।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















