নিজস্ব প্রতিবেদক : পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ মায়াবী চিত্রল হরিণের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। থেমে নেই শিকারী ও পাচারকারীদের অপতৎপরতা। শিকারীদের কবলে পড়ে মারা পড়েছে অসংখ্য হরিণ।
সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘ–হরিণসহ কয়েক প্রজাতির বন্য প্রাণীর সংখ্যা কিছু বেড়েছে বলে দাবি করছে বন বিভাগ। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, হাতে গোনা কয়েকটি প্রজাতির বন্য প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু শিকারিদের অপতৎপরতার কারণে হরিণসহ অন্য বন্য প্রাণীর সংখ্যা বাড়ার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধেও আছে নানা অভিযোগ।
২০১৮ সালের শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ ও ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী রয়েছে। ২০১৮ সালে বাঘ ছিল ১১৪টি। বর্তমানে বাঘশুমারি চলছে। এবার শুমারিতে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের শুমারি অনুযায়ী বনে চিত্রা হরিণ, বন্য শূকর ও বানরের সংখ্যা বেড়েছে। বনে ২০০৪ সালে চিত্রা হরিণ ছিল ৮৩ হাজার। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টিতে। বন্য শূকর ২০০৪ সালে ছিল ২৮ হাজার, ২০২৩ সালে ছিল ৪৭ হাজার ৫১৫টিতে। ২০০৪ সালে বানর ছিল ৫১ হাজার, ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪টিতে।
বর্তমানে বনে গুইসাপ রয়েছে ২৫ হাজার ১২৪টি ও শজারু ১২ হাজার ২৪১টি। ২০২৩ সালের আগে কখনো এ দুটি প্রাণীর শুমারি হয়নি। তবে আশির দশকে মায়া হরিণ ছিল ২ হাজার ২৬৫টি। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮৭টিতে। কমেছে দুই প্রজাতির ডলফিনও। ২০০৬ সালে বনের নদীতে ছিল ৪৫১টি ইরাবতী ডলফিন ও ২২৫টি শুশুক। ২০১৯ সালে ইরাবতী ডলফিন ১১৩টি ও শুশুক ছিল ১১৮টি।

সুন্দরবনে কয়েকটি বন্য প্রাণীর সংখ্যা বাড়লেও তা শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে শিকার সহজ হওয়ায় হরিণ হলো শিকারি চক্রের প্রধান টার্গেট।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ৪০ জন শিকারিকে হরিণের মাংস–চামড়াসহ আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১২ কেজি হরিণের মাংস, একটি জবাই করা হরিণ, পাঁচটি চামড়া ও মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বনরক্ষীরা যে পরিমাণ হরিণের মাংস উদ্ধার ও শিকারিদের আটক করেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি হরিণশিকারিদের হাতে মারা গেছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন।
মাছ ধরার পাস নিয়ে বনে ঢুকে হরিণ শিকার করে একশ্রেণির অসৎ লোক। সংঘবদ্ধ শিকারিরা সুন্দরবনের গহিনে গাছের ফাঁকে ফাঁকে নাইলনের দড়ির একধরনের ফাঁদ পেতে রাখে। যাতায়াতের সময় হরিণগুলো ফাঁদে আটকে যায়। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে হরিণের মাংস অগ্রিম অর্ডারও নেয় শিকারিরা। আর তাদের আশ্রয় দেয় প্রভাশালীরা। এ কাজে যোগসাজশ আছে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরও। অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অবাধে বন্য প্রাণী হত্যার সুযোগ দিচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া শিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মাংস গায়েব করে দিচ্ছেন খোদ বন বিভাগের কর্মীরাই।
নিজস্ব সংবাদ : 













