দখল-দূষণ, বাড়তি লবণাক্ততা ও জলবায়ু অভিঘাতে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্য নগর সম্মেলন হয়েছে ।
প্রথম দিন, আলোচনায় সুন্দরবন ও আশাপাশের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি করণীয় নির্ধারণে কার্যকর রূপরেখা উঠে আসে।

সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নির্বিচার দখল-দূষণ ও জলবায়ু অভিঘাতে ধুঁকছে ধরিত্রী। ঘুর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো সুন্দরবন এবং উপকূলীয় জনপদের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীবন-জীবিকায় পড়ছে বিরূপ প্রভাব।

শুধু দূষণই নয়, সুন্দরবনসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীগুলোতে লবণাক্ততা বেড়ে হুমকিতে বাস্তুতন্ত্র। পরিস্থিতি উন্নয়নে মোংলায় সুন্দরবনে উপকূলীয় ন্যায্য নগর বিষয়ক সম্মেলন। বৈঠকি আয়োজনে উঠে আসে, সঙ্কটের গভীর চিত্র ও উত্তরণের রূপরেখা।
দেশের ফুসফুস খ্যাত সুন্দরবনে, লবণাক্ততা ও দূষণে হুমকিতে থাকা উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সার্বিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগে গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, সুন্দরবনের সুন্দরী গাছগুলোর আগাগুলো মরে যাচ্ছে, একে বলা হচ্ছে আগামরা রোগ। সুন্দরবনের নদী দূষিত হচ্ছে, এই দূষণ গড়াচ্ছে সমুদ্র পর্যন্ত। এই দূষণ বনের জন্য অন্যতম হুমকি। পশুর নদীর আশপাশে বড় বড় মেগাশিল্প গড়ে উঠেছে। এগুলো বনের জন্য হুমকি।
এসময় সুন্দবনে সাম্প্রতিক সময়ে তেল নিঃসরণের বিপর্যয়ের দুঃসহ স্মৃতির কথাও মনে করিয়ে দেন ড. কিবরিয়া।

গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে শুধু জীবন-জীবিকা আর জীববৈচিত্র্যই হুমকিতে না, বরং নানা রোগের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি ব্যাপক প্রভাব ফেলছে অভিঘাতগ্রস্ত জনপদের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে।
যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল, আরডিআরসি, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন, বেলা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনসহ ৭ টি সংগঠন।
আলীম আল রাজী 




















