সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্ক যোগ দিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’!

সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্ক যোগ দিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’!

প্রাথমিক সম্ভাব্যতা শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই। কাতারে ইসরায়েলের হামলায় নড়েচড়ে বসে আরব উপসাগরের দেশগুলো। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর আরব ন্যাটো অথবা মুসলিম ন্যাটোর ধারণা নিয়ে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়। এবার শোনা যাচ্ছে পাকিস্তান-সৌদি আরবের নিরাপত্তা চুক্তির সম্প্রসারণ হতে চলেছে, এতে যোগ দিচ্ছে সামরিক শিল্পে শক্তিশালী তুরস্ক। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, ন্যাটোর আদলে জোট শরিকদের নিরাপত্তা বলয় গড়তে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

 

এই প্রস্তাবিত জোট ন্যাটোর ৫ নং অনুচ্ছেদের মতো একটি বিবৃতি অনুসরণ করছে, যেখানে বলা হয়েছে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ‘যে কোনো আগ্রাসনকে’ সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে।

 

প্রথমে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি হলেও এখন আঙ্কারাকে এর অংশ করতে আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে।

 

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জোটে সৌদি আরব অর্থনৈতিক সহায়তা, পাকিস্তান পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জনবল যোগ করবে, আর তুরস্ক সরবরাহ করবে সামরিক দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা।

 

আঙ্কারার থিংক ট্যাংক ‘টেপাভে’র কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের স্বার্থ ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন আঞ্চলিক দেশগুলো নতুন নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

 

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কৌশলগত স্বার্থ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অংশে ক্রমেই সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছে। এর ফলে এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট গঠন স্বাভাবিক ও যৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

এই তিন দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রথম যৌথ নৌবাহিনী বৈঠকেও এ সংযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।

 

তুরস্কের বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে এই জোটে। কারণ, তুরস্ক শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সদস্য এবং ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত।

 

এই জোট বাস্তবে আসলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চেয়ে ভারতের মাথাব্যথা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্ক যোগ দিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’!

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

প্রাথমিক সম্ভাব্যতা শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই। কাতারে ইসরায়েলের হামলায় নড়েচড়ে বসে আরব উপসাগরের দেশগুলো। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর আরব ন্যাটো অথবা মুসলিম ন্যাটোর ধারণা নিয়ে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়। এবার শোনা যাচ্ছে পাকিস্তান-সৌদি আরবের নিরাপত্তা চুক্তির সম্প্রসারণ হতে চলেছে, এতে যোগ দিচ্ছে সামরিক শিল্পে শক্তিশালী তুরস্ক। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, ন্যাটোর আদলে জোট শরিকদের নিরাপত্তা বলয় গড়তে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

 

এই প্রস্তাবিত জোট ন্যাটোর ৫ নং অনুচ্ছেদের মতো একটি বিবৃতি অনুসরণ করছে, যেখানে বলা হয়েছে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ‘যে কোনো আগ্রাসনকে’ সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে।

 

প্রথমে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি হলেও এখন আঙ্কারাকে এর অংশ করতে আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে।

 

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জোটে সৌদি আরব অর্থনৈতিক সহায়তা, পাকিস্তান পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জনবল যোগ করবে, আর তুরস্ক সরবরাহ করবে সামরিক দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা।

 

আঙ্কারার থিংক ট্যাংক ‘টেপাভে’র কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের স্বার্থ ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন আঞ্চলিক দেশগুলো নতুন নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

 

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কৌশলগত স্বার্থ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অংশে ক্রমেই সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছে। এর ফলে এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট গঠন স্বাভাবিক ও যৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

এই তিন দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রথম যৌথ নৌবাহিনী বৈঠকেও এ সংযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।

 

তুরস্কের বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে এই জোটে। কারণ, তুরস্ক শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সদস্য এবং ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত।

 

এই জোট বাস্তবে আসলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চেয়ে ভারতের মাথাব্যথা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।