সংবাদ শিরোনাম ::

হারিয়ে যাচ্ছে জিরাফ!

হারিয়ে যাচ্ছে জিরাফ!

প্রকৃতির বৈচিত্র্য ভরা ভাণ্ডারে জিরাফ একটি। আশ্চর্য করা  লম্বা গলা, লম্বা লম্বা পা পা, মাথায় অদ্ভুত দর্শন শিং, গায়ে আরও বিচিত্র ছোপ, যেন বাদামি মাটি ফেটে চৌচির দাগ। বর্ণমালার বইতে জিরাফের সঙ্গে আমাদের অনেকের শিশুবয়সের পরিচয়, এরপর চিড়িয়াখানায়। সৌভাগ্যবানরা হয়তো প্রাণীটিকে দেখেছেন আফ্রিকান কোনো সাফারি পার্কে। কিন্তু ভীষণ দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, প্রকৃতির এই বিচিত্র প্রাণীটিও যুক্ত হচ্ছে বিলুপ্ত প্রাণীর তালিকায়। বর্তমানে যেভাবে জিরাফ কমছে তাতে একটা সময় হয়তো প্রজন্মকে জিরাফের ছবি-ভিডিও দেখতে হবে, জীবন্ত প্রাণীটিকে দেখা হবে না। আফ্রিকার সাভানায় জিরাফের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে।

চোরা শিকারিদের হামলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরার কারণে গুরুতর সংকটে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা প্রাণী জিরাফ। এসব কারণে এক দশক ধরেই জিরাফের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস গত ২০ নভেম্বর একটি প্রস্তাবনা ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবনায় বিপন্ন প্রজাতি আইন অনুযায়ী, জিরাফের একটি বড় অংশকে রক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রাণীটি এই আইনের আওতায় সুরক্ষা পাবে।

গবেষকেরা নর্দার্ন জিরাফের তিনটি উপপ্রজাতিকে বিপন্ন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকান, কর্ডোফান ও নুবিয়ান উপপ্রজাতি। নুবিয়ান জিরাফের জনসংখ্যার ১৯৮৫ সালের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাদের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬৫৩ থেকে কমে এসে এখন মাত্র ৫ হাজার ৯১৯। এ ছাড়া পূর্ব আফ্রিকায় দুটি উপপ্রজাতি জালিকা ও মাসাই জিরাফকে হুমকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই পদক্ষেপটি জিরাফ শিকার বন্ধ করতে সহায়তা করবে। মূলত গালিচা, গয়না এবং জুতা তৈরিতে জিরাফের দেহের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করার ফলে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে এসব পণ্য আমদানি কমে আসবে এবং জিরাফ হত্যা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের পরিচালক মার্থা উইলিয়ামস এক বিবৃতিতে বলেন, “ফেডারেল সুরক্ষা জিরাফকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। এটি একটি বিপন্ন প্রজাতিকে বাঁচাতে, জীববৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করতে, পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে, বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক নিয়মগুলো প্রচার করতে সাহায্য করবে।”

জিরাফ ১৮ ফুটেরও বেশি লম্বা হতে পারে এবং প্রাচীনকাল থেকেই প্রাণীগুলোকে নিয়ে অনেক রহস্য তৈরি হয়েছে। প্রাচীনকালে আফ্রিকানরা তাদের বিশাল পেট্রোগ্লিফে (খোদাই করা শিলা ) জিরাফের ছবি এঁকেছে। প্রাচীন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি জিরাফ রোমে নিয়ে এসেছিলেন, যেটিকে তার দেশবাসী অর্ধেক উট এবং অর্ধেক চিতাবাঘ মনে করেছিল। অভিযাত্রী ঝেং হে আরেকটি জিরাফ চীনে নিয়ে আসেন, যা তখনকার চীনা সম্রাটকে আকৃষ্ট করেছিল।

আজকের বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন,বিবর্তনের ফলে জিরাফের গলা (এবং জিভ) এরকম দীর্ঘ হয়েছে; যাতে তারা অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর নাগালের বাইরে গাছের পাতা, ফুল এবং ফল খেতে পারে।

আফ্রিকার বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন, মরুভূমি, বনাঞ্চল ও সাভানায় জিরাফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আজও প্রাণীগুলো রহস্যময়, বিশেষত গবেষকরা এখনও এই বিষয়ে আলোচনা করছেন, জিরাফ একটি প্রজাতি নাকি একাধিক প্রজাতি। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত , জিরাফ বিপদে রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

হারিয়ে যাচ্ছে জিরাফ!

আপডেট সময় ০৭:১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

প্রকৃতির বৈচিত্র্য ভরা ভাণ্ডারে জিরাফ একটি। আশ্চর্য করা  লম্বা গলা, লম্বা লম্বা পা পা, মাথায় অদ্ভুত দর্শন শিং, গায়ে আরও বিচিত্র ছোপ, যেন বাদামি মাটি ফেটে চৌচির দাগ। বর্ণমালার বইতে জিরাফের সঙ্গে আমাদের অনেকের শিশুবয়সের পরিচয়, এরপর চিড়িয়াখানায়। সৌভাগ্যবানরা হয়তো প্রাণীটিকে দেখেছেন আফ্রিকান কোনো সাফারি পার্কে। কিন্তু ভীষণ দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, প্রকৃতির এই বিচিত্র প্রাণীটিও যুক্ত হচ্ছে বিলুপ্ত প্রাণীর তালিকায়। বর্তমানে যেভাবে জিরাফ কমছে তাতে একটা সময় হয়তো প্রজন্মকে জিরাফের ছবি-ভিডিও দেখতে হবে, জীবন্ত প্রাণীটিকে দেখা হবে না। আফ্রিকার সাভানায় জিরাফের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে।

চোরা শিকারিদের হামলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরার কারণে গুরুতর সংকটে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা প্রাণী জিরাফ। এসব কারণে এক দশক ধরেই জিরাফের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস গত ২০ নভেম্বর একটি প্রস্তাবনা ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবনায় বিপন্ন প্রজাতি আইন অনুযায়ী, জিরাফের একটি বড় অংশকে রক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রাণীটি এই আইনের আওতায় সুরক্ষা পাবে।

গবেষকেরা নর্দার্ন জিরাফের তিনটি উপপ্রজাতিকে বিপন্ন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকান, কর্ডোফান ও নুবিয়ান উপপ্রজাতি। নুবিয়ান জিরাফের জনসংখ্যার ১৯৮৫ সালের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাদের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬৫৩ থেকে কমে এসে এখন মাত্র ৫ হাজার ৯১৯। এ ছাড়া পূর্ব আফ্রিকায় দুটি উপপ্রজাতি জালিকা ও মাসাই জিরাফকে হুমকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই পদক্ষেপটি জিরাফ শিকার বন্ধ করতে সহায়তা করবে। মূলত গালিচা, গয়না এবং জুতা তৈরিতে জিরাফের দেহের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করার ফলে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে এসব পণ্য আমদানি কমে আসবে এবং জিরাফ হত্যা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের পরিচালক মার্থা উইলিয়ামস এক বিবৃতিতে বলেন, “ফেডারেল সুরক্ষা জিরাফকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। এটি একটি বিপন্ন প্রজাতিকে বাঁচাতে, জীববৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করতে, পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে, বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক নিয়মগুলো প্রচার করতে সাহায্য করবে।”

জিরাফ ১৮ ফুটেরও বেশি লম্বা হতে পারে এবং প্রাচীনকাল থেকেই প্রাণীগুলোকে নিয়ে অনেক রহস্য তৈরি হয়েছে। প্রাচীনকালে আফ্রিকানরা তাদের বিশাল পেট্রোগ্লিফে (খোদাই করা শিলা ) জিরাফের ছবি এঁকেছে। প্রাচীন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি জিরাফ রোমে নিয়ে এসেছিলেন, যেটিকে তার দেশবাসী অর্ধেক উট এবং অর্ধেক চিতাবাঘ মনে করেছিল। অভিযাত্রী ঝেং হে আরেকটি জিরাফ চীনে নিয়ে আসেন, যা তখনকার চীনা সম্রাটকে আকৃষ্ট করেছিল।

আজকের বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন,বিবর্তনের ফলে জিরাফের গলা (এবং জিভ) এরকম দীর্ঘ হয়েছে; যাতে তারা অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর নাগালের বাইরে গাছের পাতা, ফুল এবং ফল খেতে পারে।

আফ্রিকার বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন, মরুভূমি, বনাঞ্চল ও সাভানায় জিরাফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আজও প্রাণীগুলো রহস্যময়, বিশেষত গবেষকরা এখনও এই বিষয়ে আলোচনা করছেন, জিরাফ একটি প্রজাতি নাকি একাধিক প্রজাতি। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত , জিরাফ বিপদে রয়েছে।