আফ্রিকার গ্রেট গ্রিনওয়াল পুরো পৃথিবীর জন্য একটি দৃষ্টান্ত। আফ্রিকা মহাদেশের প্রস্থে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ আট হাজার কিলোমিটার অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ১৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজায়নের কাজ চলছে। এস ডি জি -এর আওতায় আফ্রিকার ২০টি দেশের অংশগ্রহণে পৃথিবীর সবচাইতে দরিদ্র এবং অনুর্বর এলাকায় চলমান এই প্রকল্পটি আফ্রিকার পশ্চিমে সেনেগাল থেকে পূর্বে জিবুতি পর্যন্ত ১১ টি দেশজুড়ে বিস্তৃত। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রায় ২০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার কথা। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে ইথিওপিয়ার মতো এমন কিছু অঞ্চল এর আওতায় আছে। ইতিমধ্যে যে সব অঞ্চলে সবুজায়ন সম্পন্ন হয়েছে সেখানে মানুষের জীবনের গতি ফিরে আসতে শুরু করেছে। এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত যে, মানুষ যদি প্রকৃতিকে ভালোবেসে প্রকৃতির সঙ্গে কাজ করে তাহলে সাহেল ও সাহারা মরুভূমির মতো প্রতিকুল পরিবেশকেও আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব।

বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষার দায়িত্ব শুধু একটি জাতি কিংবা হাতেগোনা কয়েকটি দেশের নয়, বরং এই দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ যেমন অনেক বেশি সচেতন, নিজের ব্যবহৃত পানির বোতলটি যত্রতত্র ফেলে রাখেন না। নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন এমনকি অন্যকে এই বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেন। সমাজে এর উল্টো চরিত্রের মানুষের সংখ্যা আরও বেশি। তাঁরা পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে মাথা ঘামাতে অনীহা। আগামী প্রজন্ম ঝুঁকির মধ্যে আছে এবং এর জন্য আমাদের বর্তমান প্রজন্মের বিলাসী এবং বিশৃঙ্খল জীবনযাপন দায়ী এটা মানতে রাজী না। তাঁরা বরং এই বিপর্যয়ের দায় এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষার দায়িত্ব সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়ে অর্থ সম্পদ বৃদ্ধি এবং বিলাসী জীবন নিয়ে ব্যস্ত।
পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষে মানুষে ব্যক্তি আচরণের যেমন পার্থক্য তেমনই পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলোর একই রকম আচরণের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। একজন ব্যক্তি যখন তার নিজের সুরক্ষার ব্যাপারে অসচেতন হয় তখন ক্ষতি হয় সেই ব্যক্তি এবং এর বেশি হলে তার পরিবারের। কিন্তু একজন ব্যক্তি যখন একটি রাষ্ট্রের প্রধান হয় তখন তাঁকে গোটা জাতির সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হয়। আবার প্রতিটি ব্যক্তি যেমন সমান সামর্থ্যবান নয় তেমনি সব রাষ্ট্রের দায়িত্ব সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব এবং সামর্থ্য সমান নয়। এই ক্ষেত্রে পৃথিবীর বড় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব অনেক বেশি। একটি উদাহরণ না দিলে পাঠকের কাছে বিষটি অস্পষ্ট থাকতে পারে। জার্মান ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার মতো রাষ্ট্র যদি শুধু নিজেদের দেশের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে স্বার্থপরের মতো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা বিশ্ব নেতৃত্বের প্রকাশ পায় না। তাদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা বিশ্ব।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু চুক্তিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়োপযোগী এবং গোটা বিশ্বের পরিবেশ রক্ষার কথা বিবেচনায় এনে গৃহীত সিদ্ধান্তে একমত হয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতি পূরণের জন্য তহবিলে মার্কিন সরকারের অর্থ প্রদানের কথা ছিল। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা অঙ্গীকার করে মার্কিন সরকার। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর শুধু নিজ দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং তহবিলে অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। তখন তার নিজ পরিবার এবং দেশের বিশেষজ্ঞগণ ট্রাম্পের এমন একঘুয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন না করার ব্যাপারে পরামর্শ দিলেও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি। পৃথিবীকে রক্ষা করতে চাইলে বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই এই বিষয়টি ট্রাম্প অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও যে একজন বিশ্ব নেতা হয়ে উঠতে পারেননি এবং শুধু অর্থ সম্পদ এবং ব্যবসায়িক চিন্তার মানুষ তা তিনি প্রমাণ করেছেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ডেনমার্ক সফর বাতিল করে। ডেনমার্ক সরকারের কাছে তার প্রস্তাব ছিল ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড মার্কিন সরকারের কাছে বিক্রি করার। ডেনমার্ক এই প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ট্রাম্প সফর বাতিল করেন।
যেখানে গোটা বিশ্ব দ্রুত গতিতে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশেষভাবে চিন্তিত সেখানে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রাপ্তির ব্যাপারে এতো আগ্রহের কারণ কী? গবেষণায় দেখা গেছে ৮০ ভাগ বরফাচ্ছাদিত গ্রিনল্যান্ড বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। লোহা, আকরিক, সিসা, দস্তা, হিরা, সোনা, ইউরেনিয়াম, তেলসহ অনেক মূল্যবান খনিজ সম্পদ লুকিয়ে আছে এই অঞ্চলটিতে। ট্রাম্প তথা তৎকালীন মার্কিন সরকার এই সম্পদের মালিকানা পেতে চেয়েছিল। অথচ গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়া নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা ছিল না।
তবে আশার কথা হচ্ছে মার্কিন সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ভেঙে যায়নি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জার্মান চীন। বৈশ্বিক উষ্ণতার বর্তমান দৃশ্যমান প্রভাব লক্ষ্য করে সেই সময় খুব বেশি দূরে নয় মার্কিন সরকারকে বাধ্য হয়েই আবার চুক্তিতে ফিরে আসতে হবে। কারণ অর্থ সম্পদের বিনিময়ে সাময়িক ভোগ বিলাস আর প্রভাব প্রদর্শন করা গেলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব না। এই কথাটি সত্যি প্রমাণ করলেন জো বাইডেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের দূরদর্শী প্রেসিডেন্ট।

সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজনে আগুন লেগে বিশাল অংশ ধ্বংস হওয়ার পেছনে ব্রাজিলের দুর্বল নীতি কারণ বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। পৃথিবীর ফুসফুস নামে পরিচিত এই বনাঞ্চল পৃথিবীর বিশ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং পঁচিশ শতাংশ কার্বন শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখছে। আমাজন বনাঞ্চলের ষাট শতাংশ ব্রাজিলে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের বোলসোনারো বনাঞ্চল ক্ষতির জন্য জরিমানা কমানো এবং পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর ক্ষমতা হ্রাসের মতো বিধ্বংসী প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ব্রাজিল সরকার কৃষি এবং বন মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করে। অনেকের অভিমত ব্রাজিল সরকারের এমন নীতিই বনভূমি ধ্বংসের জন্য দায়ী। প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার হুমকি দিয়ে আসা এই মানুষটিও ট্রাম্পের মতো পরিবেশ বিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। আমাজন ধ্বংস হলে এর আঘাত যে ব্রাজিল থেকেই শুরু হবে এমনকি এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমেরিকাও মুক্তি পাবে না এটা বুঝতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সে বছর আগস্ট মাসে দক্ষিণ মেরু থেকে আসা ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে যোগ হয় আমাজনে লাগা আগুনের ধোঁয়া, এর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহর সাও পাওলোতে সন্ধ্যা নামার দুই ঘণ্টা আগেই অন্ধকারে ঢেকে যায় গোটা শহর। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত আমেরিকা আর ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর চোখ খুলতে সময় লাগে বেশি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেই গ্রিনল্যান্ডের মালিকানার জন্য উদগ্রীব ছিলেন সেই গ্রিনল্যান্ড ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে একদিনে ১ হাজার ১০০ কোটি টন বরফ গলে বিগত সময়ের রেকর্ড ভঙ্গ করে ইতিহাসে ভয়ংকর দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয় সেদিকে দৃষ্টি ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। বিজ্ঞানীরা বলছেন গত ৬০ বছরের ইতিহাসে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি বরফ গলে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। এর ফলে মাত্র এক মাসে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১ মিলিমিটার বা ০.০২ ইঞ্চি।

সে বছর সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ডোরিয়ানের তাÐবে আবাকস ও গ্রান্ড বাহামা দ্বীপ লণ্ডভণ্ড করে যায়। অন্তত ৫০ জন নিহত এবং এক হাজার ৩০০ ব্যক্তি নিখোঁজ হয়। মার্কিন কোস্ট গার্ড বিধ্বস্ত এলাকায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যখন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল এমন সময় খবর আসে একই অঞ্চলে ধেয়ে আসছে আরেকটি শক্তিশালী হারিকেন। অথচ মার্কিন সরকার তখনো পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণগুলোর বিষয়ে উদাসীন! ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ইউরোপ এবং আমেরিকায় ইতিহাসের সবচাইতে অধিক উষ্ণতম মাস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম না হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই মাত্রা প্রতি বছর ক্রমাগত বাড়ার আশংকা আছে। এমন এক ভয়াবহ পূর্বাভাস দেয়ার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের উদাসীনতা বিশ্ববাসীর জন্য চিন্তার কারণ ছিল।
তবে আশার কথা হচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার এবং সাধারণ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় অবিচলিত। নানা মতে বিভক্ত জাতি শুধু একটি জায়গাতে একমত, এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে হবে। যুক্তরাজ্যের প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ৮৫ ভাগ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সচেতন। সুইডেনের গ্রেটা থানবার্গ নামে স্কুল পড়–য়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিদ্যালয়ের ক্লাস বর্জন শুরু করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের দেশে দেশে স্কুল শিক্ষার্থী এবং পরিবেশবাদীদের আন্দোলন শুরু হয়। এরপর যুক্তরাজ্য সরকার পূর্বের আইন সংশোধন করে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সে বছর স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষার দাবিতে ক্লাস বর্জন আন্দোলন অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ১০০ টি দেশে ছড়িয়ে যায়।
বছর দুই আগে আইসল্যান্ডে ৭০০ বছরের পুরনো একটি হিমবাহকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহটি গলে এতোটাই নিচু হয়ে যায় যে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এটি যে আগামীর পৃথিবীর জন্য এক ভয়াবহ বার্তা তা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয়ার জন্য একটি ফলক স্থাপন করে একটি চিঠি জুড়ে দেয়া হয়। ফলক স্থাপন অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন। চিঠিতে লেখা আছে – ওকজোকুল আইসল্যান্ডের প্রথম হিমবাহ মারা যাওয়ায় এটি হিমবাহের মর্যাদা হারিয়েছে। আগামী ২০০ বছরের মধ্যে আমাদের বাকি সব বড় হিমবাহগুলোরও একই পরিণতি হবে। আমাদের চারপাশে কী হচ্ছে এবং কী করা উচিত, তা সম্পর্কে যেন আমরা সচেতন থাকি। সেই উদ্দেশেই এই ফলক স্থাপন।
আফ্রিকার গ্রেট গ্রিনওয়াল পুরো পৃথিবীর জন্য একটি দৃষ্টান্ত। আফ্রিকা মহাদেশের প্রস্থে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ আট হাজার কিলোমিটার অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ১৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজায়নের কাজ চলছে। এস ডি জি – এর আওতায় আফ্রিকার ২০টি দেশের অংশগ্রহণে পৃথিবীর সবচাইতে দরিদ্র এবং অনুর্বর এলাকায় চলমান এই প্রকল্পটি আফ্রিকার পশ্চিমে সেনেগাল থেকে পূর্বে জিবুতি পর্যন্ত ১১ টি দেশজুড়ে বিস্তৃত। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রায় ২০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার কথা। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে ইথিওপিয়ার মতো এমন কিছু অঞ্চল এর আওতায় আছে। ইতিমধ্যে যে সব অঞ্চলে সবুজায়ন সম্পন্ন হয়েছে সেখানে মানুষের জীবনের গতি ফিরে আসতে শুরু করেছে। এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত যে, মানুষ যদি প্রকৃতিকে ভালোবেসে প্রকৃতির সঙ্গে কাজ করে তাহলে সাহেল ও সাহারা মরুভূমির মতো প্রতিকুল পরিবেশকেও আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব।

জলাবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় মোকাবেলায় শুধু কয়েকটি রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। বরং এই ক্ষেত্রে আফ্রিকা এবং যুক্তরাজ্যের প্রচেষ্টা এবং পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলোর একমত হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখা উচিত মনুষ্যসৃষ্ট কার্যকলাপের কুফল এই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। আমাদের আয়েশি জীবনযাপনের মূল্য আমাদের অনাগত সন্তানেরা ভোগ করবে এটা কোনো জাতিই চায় না। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য এবং নিরাপদ পৃথিবীর জন্য বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের যেমন এক হওয়া জরুরি ঠিক তেমনি প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা সমানভাবে জরুরি। পরিবেশ রক্ষার যুদ্ধে পৃথিবীর সব দেশ জাতি ধর্ম বর্ণ ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে মতভেদ ভুলে, ব্যক্তি গোষ্ঠী কিংবা রাষ্ট্রের একপেশে স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে এক হয়ে কাজ করলেই কেবল জয়ী হওয়া সম্ভব। সেই সঙ্গে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রতিটি দেশে স্কুল কলেজের পাঠ্য পুস্তকে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। তবেই আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়া সম্ভব।
লেখক: কথাসাহিত্যিক
মোজাম্মেল কবির 
















