শীতের প্রিয় খাবার গুড়। পিঠে, পায়েস, বা অন্য যে কোনো মিষ্টি খাবারে গুড়ের স্পর্শই বাঙালির রান্নাঘরকে করে তোলে অনন্য। গুড়ের কদর শীতকালে বাড়লেও সারা বছর বাঙালির রান্নাঘরে গুড়ের আনাগোনা চলতেই থাকে। শীতকালে আলাদা করে গুড় সংরক্ষণ করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। ঠান্ডা আবহাওয়ায় গুড় নষ্ট হয় না। কিন্তু গরমের দিনে গুড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সারা বছর গুড়ের স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি জানা জরুরি।

জেনে নিন সংরক্ষণ করার উপায়-
অনেকেই গুড় কিনে ফ্রিজে রাখেন। তবে দীর্ঘ দিন ফ্রিজে থাকলে গুড় অনেক সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফ্রিজে রাখলেও মাঝেমাঝে গুড়ের কৌটো বের করে রোদে দিন। এতে অনেক দিন পর্যন্ত গুড় ভালো থাকবে। গুড়ে ফাঙ্গাস ধরার ভয়ও থাকবে না।

পাটালি গুড়ে বাতাস লাগলে সাদা-কালো দাগ দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে গুড় ভালো থাকলেও দেখতে ভালো লাগে না। পাটালি গুড় বায়ুরোধী প্যাকেট বা পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এমন পাত্রে সংরক্ষণ করুন যাতে কোনোভাবেই বাতাস না লাগে। এয়ার টাইট কাচের পাত্র এ ক্ষেত্রে ভালো সমাধান। অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখুন। শীতকালে ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন হয় না। তবে নরম, পাতলা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখলে ভালো থাকবে।

ঝোলা গুড় রোদে দেওয়ার পাশাপাশি, কিছু দিন পরপর জ্বাল দিয়েও ভালো রাখা যাবে। এজন্য একটি পাত্রে গুড় ঢেলে হালকা আঁচে বসিয়ে রাখুন। কিছু ক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে কৌটোয় ভরে আবার ডিপ ফ্রিজে তুলে রাখুন।

গুড় ঝোলা হোক কিংবা শক্ত কোনোভাবেই যাতে পানি না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঝোলা গুড়ের ক্ষেত্রে অনেকেই চামচ ধুয়ে ভেজা চামচ দিয়ে পাত্র থেকে গুড় নেন। এটি কখনোই করা উচিত নয়। কেননা, এতে গুড়ে ছত্রাক জমা হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্লাস্টিকের বয়ামে গুড় রাখা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কেননা, কাচ বা সিলভারের জারে গুড়ের স্বাদ-ঘ্রাণ বেশি দিন অক্ষুণ্ণ থাকে।

এখন কিছু গুড়ে বাদাম, নারিকেল, ও অন্যান্য মসলাপাতি অনেক কিছু দেয়া থাকে। এমন গুড় কেনার পর দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। কেননা, এ ধরনের গুড় বেশি দিন ভালো থাকে না।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















