সেই অশ্বত্থই আজ পরিচিত রমনা বটমূল নামে, যেখানে বাংলা নববর্ষের প্রথম সকাল শুরু ছায়ানটের গানে গানে

‘আইলো, আইলো, আইলোরে, রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলোরে’, লোকজসুরের এই বৈশাখের গানের মতোই রঙিন হয়ে শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ এর প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ।

ঐতিহ্য- উৎসবে রাজধানী রেঙেছে বর্ণিল মানুষ, রঙিন মুখোশ,মোটিফ আর নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে।

রমনা, টিএসসি, চারুকলা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে মুখর ছিল ঢাকাবাসী।

প্রথম প্রহরে সকাল ৬টায় রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে সূচনা হয় নতুন বছরের। এই ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’।

ভোরের প্রথম সূর্যকিরণে শুরু হওয়া এই আয়োজনে পরিবেশিত হয় ২৪টি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এর মধ্যে ছিল ৯টি সম্মেলক গান, ১২টি একক সংগীত এবং ৩টি আবৃত্তি। শিল্পীরা মেরুন পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা, এবং নারীরা মেরুন পাড়ের অফ-হোয়াইট শাড়িতে সজ্জিত ছিলেন। এই রঙের সাথেই মিল রেখে সাজানো হয়েছিল মঞ্চ। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ছায়ানটের ইউটিউব ও ফেসবুক পেজ ছাড়াও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শিল্পী ও দর্শনার্থীরা। ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বলেন, ‘গাজার শিশু হত্যা ও মানবতার বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানাই। তাদের স্মরণে আমরা এক মিনিট নীরবতা পালন করছি।’ এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। যে আয়োজন ১৯৬৭ সাল থেকে হয়ে আসছে।

ছায়ানটের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বাংলা ১৩৭৪ সনের পহেলা বৈশাখে রমনার অশ্বত্থ গাছের নিচে হয়েছিল তাদের প্রথম বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। পরে শব্দের মাধুর্য বিবেচনায় ‘অশ্বত্থ’ শব্দটির বদলে ‘বটমূল’ শব্দটির ব্যবহার করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

দেশে দেখা যায় যত রকমের শালিক

সেই অশ্বত্থই আজ পরিচিত রমনা বটমূল নামে, যেখানে বাংলা নববর্ষের প্রথম সকাল শুরু ছায়ানটের গানে গানে

আপডেট সময় ০৩:২০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

‘আইলো, আইলো, আইলোরে, রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলোরে’, লোকজসুরের এই বৈশাখের গানের মতোই রঙিন হয়ে শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ এর প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ।

ঐতিহ্য- উৎসবে রাজধানী রেঙেছে বর্ণিল মানুষ, রঙিন মুখোশ,মোটিফ আর নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে।

রমনা, টিএসসি, চারুকলা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে মুখর ছিল ঢাকাবাসী।

প্রথম প্রহরে সকাল ৬টায় রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে সূচনা হয় নতুন বছরের। এই ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’।

ভোরের প্রথম সূর্যকিরণে শুরু হওয়া এই আয়োজনে পরিবেশিত হয় ২৪টি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এর মধ্যে ছিল ৯টি সম্মেলক গান, ১২টি একক সংগীত এবং ৩টি আবৃত্তি। শিল্পীরা মেরুন পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা, এবং নারীরা মেরুন পাড়ের অফ-হোয়াইট শাড়িতে সজ্জিত ছিলেন। এই রঙের সাথেই মিল রেখে সাজানো হয়েছিল মঞ্চ। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ছায়ানটের ইউটিউব ও ফেসবুক পেজ ছাড়াও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শিল্পী ও দর্শনার্থীরা। ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বলেন, ‘গাজার শিশু হত্যা ও মানবতার বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানাই। তাদের স্মরণে আমরা এক মিনিট নীরবতা পালন করছি।’ এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। যে আয়োজন ১৯৬৭ সাল থেকে হয়ে আসছে।

ছায়ানটের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বাংলা ১৩৭৪ সনের পহেলা বৈশাখে রমনার অশ্বত্থ গাছের নিচে হয়েছিল তাদের প্রথম বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। পরে শব্দের মাধুর্য বিবেচনায় ‘অশ্বত্থ’ শব্দটির বদলে ‘বটমূল’ শব্দটির ব্যবহার করা হয়।