পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক ২০২৬ অর্জন করায় প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবুকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ, প্রজাপতি পার্ক ও গবেষণা কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আমি মনে করি এই পদক দেওয়া বিষয়টি হচ্ছে যিনি এই পদিক পাওয়ার উপযুক্ত হয়ে গেছেন তিনি আসলেই সম্মানিত ব্যাক্তি। সম্মান বা পদক দেওয়াটা কেবলমাত্র একটা আনুষ্ঠানিকতা কিন্তু এর প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে আজকে যারা তার পাশে বসে শুনছেন, ভবিষ্যতে এই পদক পাওয়ার উপযুক্ত করে আপনাদেরকে তিনি গড়বেন। আমি বিশ্বাস করি কোন একদিন আমাদের মাঝে কোন একজন এই পদক পেয়ে যাবেন, সম্মানে ভূষিত হবেন।
উপাচার্য আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, মুকিত মজুমদার বাবু ভাই যে কাজটি করে যাচ্ছেন তিনি আমৃত্যু সেই কাজটি করে যাবেন। তিনি যে স্বীকৃতি পেয়েছেন, সেই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যারা তাকে অনুসরণ করে তাদের পর্যবেক্ষণ করবেন এবং উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলবেন।

শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর হয়ে গেছে। এই পঞ্চান্ন বছরে আমরা কতটুকু দেশটাকে ভালো রাখতে পেরেছি এবং এই যে দেশটাকে ভালো রাখতে পারিনি সেই ব্যর্থতা কিন্তু আমাদেরই। এই ব্যর্থতাকে যদি ধরে রাখি তাহলে দেশটা কিন্তু যে জায়গায় থাকার কথা সেখানে কোনদিনই পৌঁছতে পারবে না। যার কারনে কিন্তু আমাদের এই ব্যাপারে সজাগ হতে হবে, সচেতন হতে হবে। আজকে যদি বলি বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, মাটি দূষণ, পানি দূষণ, দূষণে দূষণে কিন্তু জর্জরিত করে ফেলেছি বাংলাদেশটাকে। প্লাস্টিক দূষণ সেটাও আছে। ইলেকট্রনিক্স বর্জ্য দূষণ সেটাও আছে। সুতরাং আমরা কিন্তু দূষণকে ত্বরান্বিত করছি নানান জিনিস দিয়ে। আর আমরা এই মানুষ আমরাই কিন্তু করছি সেটা। বাইরে কেউ এসে কিন্তু সেটা করছে না। এই জায়গাটাতে যদি আমরা এখনই সচেতন না হই তাহলে আমাদের নিজেদের কি অবস্থা হবে? ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কি অবস্থা হবে?
প্রকৃতিবন্ধু বলেন, নানা বিষয় নিয়ে আমরা নানা কথা বলি কিন্তু যে কথাটা একেবারে ছোটবেলায় বাসা থেকে শুরু হবার কথা ছিল সেটা কিন্তু হচ্ছে না। আমাদের গুরুজনরা কিংবা অভিভাবকরা আমাদেরকে শেখায় না গাছের ডালটা কেন ভাঙতে হবে না, পাখির ডিমটা কেন পাড়তে হবে না, ঘুরতে গিয়ে পাখি কেন শিকার করা যাবে না এবং ব্যাংকে শুধু শুধু ভিড় মেরে মারা যাবে না। মুকিত মজুমদার বাবু বলেন ছোট্ট করে একটি কথা বলি, আমরা দেশ সবারই কিছু, কিছু না কিছু ক্ষমতা আছে। প্রত্যেকেরই কিন্তু কিছু না কিছু ক্ষমতা আছে। তার সাথে মমতা মিশিয়ে যখনই আমরা এগিয়ে আসব তখনই আমরা ভালো থাকব। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালো থাকবে। আমাদের এই দেশটা, বাংলাদেশটা ভালো থাকবে এবং সেটাই আমাদের কাম্য।

অনুষ্ঠানে মুকিত মজুমদার বাবুকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ও উত্তরীয় পড়িয়ে দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রকৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ, প্রজাপতি পার্ক ও গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিবেশকর্মীরা জানান, মুকিত মজুমদার বাবুর কাজ তাদের অনুপ্রাণিত করে। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় পরিচালিত বৃক্ষরোপণ অভিযান, পাখি ও প্রজাপতি সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং পরিবেশ শিক্ষা ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে এসেছিলেন, মুকিত মজুমদার বাবু সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে আজীবনের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, নদী দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের সংকটের সময়ে তার মতো মানুষ দেশের জন্য অনুপ্রেরণা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ,পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
জোবায়ের আহমেদ 

















