সাভার, নাম শুনলেই এখন চোখে ভাসে রাস্তার দুই পাশে আবর্জনার স্তুপ, পুলিশ সিটির কালভার্টের পাশে আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়ার দৃশ্য। কিংবা মনে পড়ে আবর্জনার স্তুপে বালু ফেলে তাতে গড়া তোলা রানা প্লাজার মর্মান্তিক পরিণতির কথা। অথচ একসময় সাভার ছিল সবুজে ঘেরা এক নির্মল এলাকা। এখন সাভারের নদী, খাল-বিল আর পরিবেশ আজ দখল ও দূষণে বিপন্ন। ইট-পাথরের শহরে পরিণত হওয়া এই জনপদকে রক্ষায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেছেন সাভারের সুধীজন।

সাভার নাগরিক কমিটির উদ্যোগে পরিবেশ খাতে প্রথমবারের মতো ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রাপ্তিতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবুকে এক বিশেষ নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় এবং সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু)।
অনুষ্ঠানে সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম সাভারের পরিবেশগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আপনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পরিবেশের উপরে, মানব সেবায়; এটা আরও জোরালো হোক। যতদিন বেঁচে থাকবেন, আপনার দৃষ্টান্তের পাণ্ডুলিপি আরও অনেক বড় হোক।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, সাভারের নদী, মেলা, খাল-বিল, মাটি ও পানি রক্ষায় তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মুকিত মজুমদার বাবুকে স্যালুট জানিয়ে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও সাবেক সচিব আবদুল বাকী বলেন, “স্যালুট জানাই, ৭১-এ অস্ত্র ধরেছিলেন অধিকারের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে। তারপর দেশটাকে বাসযোগ্য করার দায়িত্ব ব্রত কাঁধে তুলে নিয়েছেন।”

নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ লেনিন বলেন, “মুকিত মজুমদার বাবুর এই দ্বিতীয় যুদ্ধ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমাদের দোষ-ত্রুটি কোথায় এবং আমরা কী ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে আছি।”

সংবর্ধনার জবাবে মুকিত মজুমদার বাবু তার বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষার দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “যে কাজটি করছি এই কাজটি কিন্তু আমাদের সবার, শুধু আমার একার না। কারণ আমরাই কিন্তু এই পরিবেশকে খারাপ করছি। মাটি দূষণ করছি, পানি দূষণ করছি, আমরা বায়ু দূষণ করছি, আমরা শব্দ দূষণ করছি। দূষণে দূষণে আমরা বাংলাদেশটাকে জর্জরিত করে ফেলছি।”

তিনি সাভারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, “সাভার কিন্তু আমার কাছে একটা স্বর্গরাজ্য ছিল। সেই সাভার এখন দিন দিন ইট-পাথরের একটি শহর হয়ে গেছে। উন্নয়নের নামে আমরা পরিবেশকে ধ্বংস করছি। আমরা যদি না সচেতন হই এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ যদি না হয়, তাহলে কিন্তু এ দেশটা বাসযোগ্য থাকবে না।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু), সাভারের পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় জানান। একই সঙ্গে তাঁর সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে সাভারকে সবুজে ভরিয়ে তোলার আশ্বাস দেন।
ডা: সালাউদ্দিন, পরিবেশ সংরক্ষণে মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে নিয়মিত সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাভারবাসীকে অনুপ্রাণিত করার আহ্বান জানান।

সাভার নাগরিক কমিটির এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্বের মাধ্যমে। নাচ ও গান পরিবেশন করেন সাভারের শিশু ও তরুণরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ( অবসরপ্রাপ্ত) মো: আব্দুল মান্নানসহ সাভারের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
নাসিমুল শুভ 


















