পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি ট্রেনে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির ধাক্কায় ২৪ জন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে ট্রেনের দুটি বগি উল্টে যায় এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।
রোববার (২৪ মে) সকালে বেলুচিস্তানের কুয়েটায় সামরিক কর্মীদের বহনকারী একটি ট্রেনকে লক্ষ্য করে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের মধ্যে অনেক সেনা সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন, যারা মূলত পেশোয়ার যাচ্ছিলেন। সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, তারা মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঈদের ছুটি উদযাপন করতে যাচ্ছিলেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত ও উল্টে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়। রেললাইন থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিটার দূরে পার্ক করা অনেক গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পাশাপাশি একটি বহুতল ভবনেরও ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
![]()
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
বিএলএ তাদের এক বিবৃতিতে জানায়: “রোববার সকালে, বেলুচ লিবারেশন আর্মির ফিদায়ী (আত্মত্যাগী) ইউনিট মজিদ ব্রিগেড একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিদায়ী হামলায় কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখলদার বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। বেলুচ লিবারেশন আর্মি এই অভিযানের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছে।”
বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, এই অভিযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং এর ফলে প্রতিপক্ষের সুনির্দিষ্ট বস্তুগত ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ শীঘ্রই গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণত সব সময় মোতায়েন থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন-বিধ্বস্ত বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী হলো কোয়েটা। বছরের পর বছর ধরে বিএলএ-র মতো স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলো ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি অবকাঠামো এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর সাথে যুক্ত প্রকল্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। অন্যদিকে বেলুচিস্তানের বেসামরিক অসংখ্য মানুষকে হত্যা ও গুমের অভিযোগ রয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















