সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেল আরও ১৬ শিশু, মোট মৃত্যু ৫২৮ Logo কাজী নজরুলের অনন্য প্রকৃতিপ্রেম Logo ছাতিমকে কেন ‘শয়তানের গাছ’ বলে? Logo শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল Logo পাকিস্তানে সেনাসদস্যদের বহনকারী ট্রেনে শক্তিশালী গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৪ Logo বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হবে কোরবানির বর্জ্য Logo ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস আজ, কাল থেকে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু Logo ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত Logo আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ছাতিমকে কেন ‘শয়তানের গাছ’ বলে?

ছাতিমকে কেন ‘শয়তানের গাছ’ বলে?

ছাতিম গাছের ইংরেজি নাম ‘ডেভিলস ট্রি’ বা শয়তানের গাছ। আঞ্চলিকভাবেও গ্রামাঞ্চলে অনেকে একে ছাইতন, ছইতন, ছাইত্তান বা ছাইত্তান্না গাছ বলে ডাকেন। এই ‘ছাইত্তান’ শব্দটি মূলত ‘শয়তান’ শব্দেরই একটি আঞ্চলিক অপভ্রংশ বা বিকৃত রূপ, যা কালক্রমে ছাতিম নামে স্থায়িত্ব পেয়েছে।

ছাতিম ফুল সাধারণত শরৎ ও হেমন্ত ঋতুতে ফোটে। দিনের বেলা এই ফুলের গন্ধ খুব একটা বোঝা যায় না, কিন্তু রাত যত গভীর হয়, এর সুবাস তত তীব্র ও শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে ওঠে। এই তীব্র মিষ্টি গন্ধ বাতাসে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাঝরাতে এই গাছের নিচে দাঁড়ালে তীব্র সুগন্ধের কারণে মাথা ঝিমঝিম করে এবং এক ধরনের কৃত্রিম মাদকতা বা নেশার অনুভূতি তৈরি হয়।

প্রাচীনকালে মানুষ এই তীব্র গন্ধের রহস্য বুঝতে না পেরে একে শয়তানি মায়া বা জাদুটোনা মনে করত।

বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাতিম ফুলের পরাগরেণু (Pollen) বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে তা অনেকের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

হাঁপানি ও সাইনাস: এর তীব্র গন্ধ ও পরাগরেণু হাঁপানি (Asthma), ক্রনিক সর্দিকাশি এবং সাইনাসাইটিসের রোগীদের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

শারীরিক অস্বস্তি: সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে এই গন্ধের কারণে বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখের সংক্রমণ হতে পারে।

প্রাণীদের ওপর প্রভাব: শুধু মানুষই নয়, তীব্র গন্ধের কারণে গৃহপালিত পশু-পাখিরাও এই গাছের আশেপাশে অস্বস্তি বোধ করে।

বিষাক্ত সাদা কষ (Latex)ছাতিম গাছের পাতা ছিঁড়লে বা ডাল ভাঙলে দুধের মতো ঘন, সাদা এবং অত্যন্ত তেতো আঠালো কষ (Latex) বের হয়। এই কষটি বেশ বিষাক্ত। এটি ত্বকে লাগলে চুলকানি বা চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং চোখে লাগলে সাময়িক অন্ধত্ব বা তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়। এই ক্ষতিকারক বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রাচীন নৃগোষ্ঠী ও বন্য অঞ্চলের মানুষ একে ক্ষতিকর বা ‘শয়তানের উপাদান’ বলে গণ্য করত।

গ্রামীণ লোককথা ও ভূতুড়ে উপকথা

উপমহাদেশের গ্রামাঞ্চলে ছাতিম গাছ নিয়ে নানা গা ছমছমে গল্প প্রচলিত আছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বৃষ্টির দিনে ছাতিম ফুলের গন্ধে মাতাল হয়ে পরীরা এই গাছের ডালে ডানা মেলে বসে থাকে এবং কোনো একা পথচারী গেলে তাকে মোহাচ্ছন্ন করে আটকে ফেলে।

ঘন ডালপালা ও বড় আকৃতির কারণে রাতে এই গাছটি বেশ অন্ধকার ও ভয়ানক দেখায়। মানুষ বিশ্বাস করত যে, এই গাছের ওপর শয়তান বা অশুভ আত্মারা বাসা বাঁধে এবং রাতে চলাচলকারী মানুষদের পথ ভুলিয়ে দেয়।

একে শয়তানের গাছ বলা হলেও এই গাছের আরেকটি ইংরেজি নাম হলো ‘ব্ল্যাকবোর্ড ট্রি’ (Blackboard Tree) বা ‘স্কলার ট্রি’ (Scholar Tree)। এর কাঠ দিয়ে একসময় শিশুদের লেখার স্লেট, পেন্সিল এবং স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ড তৈরি হতো। এমনকি শান্তিনিকেতনের সমাবর্তনে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানসূচক এই ছাতিম গাছের পাতাই (সপ্তপর্ণী) উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া এর ছাল ম্যালেরিয়া এবং আমাশয় নিরাময়ে দারুণ ঔষধি হিসেবে কাজ করে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেল আরও ১৬ শিশু, মোট মৃত্যু ৫২৮

ছাতিমকে কেন ‘শয়তানের গাছ’ বলে?

আপডেট সময় ০৫:২০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ছাতিম গাছের ইংরেজি নাম ‘ডেভিলস ট্রি’ বা শয়তানের গাছ। আঞ্চলিকভাবেও গ্রামাঞ্চলে অনেকে একে ছাইতন, ছইতন, ছাইত্তান বা ছাইত্তান্না গাছ বলে ডাকেন। এই ‘ছাইত্তান’ শব্দটি মূলত ‘শয়তান’ শব্দেরই একটি আঞ্চলিক অপভ্রংশ বা বিকৃত রূপ, যা কালক্রমে ছাতিম নামে স্থায়িত্ব পেয়েছে।

ছাতিম ফুল সাধারণত শরৎ ও হেমন্ত ঋতুতে ফোটে। দিনের বেলা এই ফুলের গন্ধ খুব একটা বোঝা যায় না, কিন্তু রাত যত গভীর হয়, এর সুবাস তত তীব্র ও শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে ওঠে। এই তীব্র মিষ্টি গন্ধ বাতাসে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাঝরাতে এই গাছের নিচে দাঁড়ালে তীব্র সুগন্ধের কারণে মাথা ঝিমঝিম করে এবং এক ধরনের কৃত্রিম মাদকতা বা নেশার অনুভূতি তৈরি হয়।

প্রাচীনকালে মানুষ এই তীব্র গন্ধের রহস্য বুঝতে না পেরে একে শয়তানি মায়া বা জাদুটোনা মনে করত।

বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাতিম ফুলের পরাগরেণু (Pollen) বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে তা অনেকের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

হাঁপানি ও সাইনাস: এর তীব্র গন্ধ ও পরাগরেণু হাঁপানি (Asthma), ক্রনিক সর্দিকাশি এবং সাইনাসাইটিসের রোগীদের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

শারীরিক অস্বস্তি: সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে এই গন্ধের কারণে বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখের সংক্রমণ হতে পারে।

প্রাণীদের ওপর প্রভাব: শুধু মানুষই নয়, তীব্র গন্ধের কারণে গৃহপালিত পশু-পাখিরাও এই গাছের আশেপাশে অস্বস্তি বোধ করে।

বিষাক্ত সাদা কষ (Latex)ছাতিম গাছের পাতা ছিঁড়লে বা ডাল ভাঙলে দুধের মতো ঘন, সাদা এবং অত্যন্ত তেতো আঠালো কষ (Latex) বের হয়। এই কষটি বেশ বিষাক্ত। এটি ত্বকে লাগলে চুলকানি বা চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং চোখে লাগলে সাময়িক অন্ধত্ব বা তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়। এই ক্ষতিকারক বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রাচীন নৃগোষ্ঠী ও বন্য অঞ্চলের মানুষ একে ক্ষতিকর বা ‘শয়তানের উপাদান’ বলে গণ্য করত।

গ্রামীণ লোককথা ও ভূতুড়ে উপকথা

উপমহাদেশের গ্রামাঞ্চলে ছাতিম গাছ নিয়ে নানা গা ছমছমে গল্প প্রচলিত আছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বৃষ্টির দিনে ছাতিম ফুলের গন্ধে মাতাল হয়ে পরীরা এই গাছের ডালে ডানা মেলে বসে থাকে এবং কোনো একা পথচারী গেলে তাকে মোহাচ্ছন্ন করে আটকে ফেলে।

ঘন ডালপালা ও বড় আকৃতির কারণে রাতে এই গাছটি বেশ অন্ধকার ও ভয়ানক দেখায়। মানুষ বিশ্বাস করত যে, এই গাছের ওপর শয়তান বা অশুভ আত্মারা বাসা বাঁধে এবং রাতে চলাচলকারী মানুষদের পথ ভুলিয়ে দেয়।

একে শয়তানের গাছ বলা হলেও এই গাছের আরেকটি ইংরেজি নাম হলো ‘ব্ল্যাকবোর্ড ট্রি’ (Blackboard Tree) বা ‘স্কলার ট্রি’ (Scholar Tree)। এর কাঠ দিয়ে একসময় শিশুদের লেখার স্লেট, পেন্সিল এবং স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ড তৈরি হতো। এমনকি শান্তিনিকেতনের সমাবর্তনে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানসূচক এই ছাতিম গাছের পাতাই (সপ্তপর্ণী) উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া এর ছাল ম্যালেরিয়া এবং আমাশয় নিরাময়ে দারুণ ঔষধি হিসেবে কাজ করে।