বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনে নানা পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। পরমাণু প্রযুক্তি, সমুদ্রের স্রোত, বাঁধ দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে, জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে, সৌর প্যানেল এবং বায়ু পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক সামুদ্রিক ঝড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে চীনে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় উইন্ড টার্বাইন দিয়ে হ্যারিকেন বা সামুদ্রিক ঝড় থেকে বিদ্যুৎশক্তি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে চীনা একটি কোম্পানি। ‘ওশান এক্স’ নামের এ বিশাল প্ল্যাটফর্মটি বানিয়েছে চীনা কোম্পানি ‘মিংইয়াং স্মার্ট এনার্জি’, যা ক্যাটেগরি ৫ মাত্রার হ্যারিকেনের সময়ও বিদ্যুৎশক্তি সংগ্রহ করতে সক্ষম। সমন্বিতভাবে ১৬ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যোগান দিতে পারবে এটি।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী গুয়াংঝুতে চালু হওয়া এই টার্বাইনের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫৪ হাজার মেগাওয়াট, যা চীনের ৩০ হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মতো যথেষ্ট। ২০২০ সালে প্রথমে টার্বাইনটির ১০ ভাগের এক ভাগ আকারের একটি প্রোটোটাইপ পরীক্ষা করেছিল কোম্পানিটি। আর মূল ‘ওশেনএক্স’ প্ল্যাটফর্মটির কাজ শেষ হয়েছে এ বছরের এপ্রিলে।
টার্বাইনটিতে উল্টোভাবে ঘূর্ণায়মান রোটর আছে, যার প্রতিটিতে প্রায় ছয়শ ফুট ব্যাসের বিশাল ব্লেড রয়েছে। একে বসানো হয়েছে ভি-আকৃতির এক কাঠামোর ওপর। আল্ট্রা-হাই-পারফরম্যান্স কংক্রিট দিয়ে নির্মিত এই মেগা প্ল্যাটফর্মটির ভর প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন ও পানির নীচে এর গভীরতা ৩৫ মিটারের (১১৫ ফুটের) বেশি।

মিংইয়াং কোম্পানিটি নিজেদের ওয়েবসাইটে বলেছে, এই টার্বাইন প্ল্যাটফর্মটি ক্যাটেগরি ৫ মাত্রার হ্যারিকেনেও টিকে থাকতে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এমনকি এটি প্রতি ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ও দশ তলা সমান উঁচু ঢেউও সহ্য করতে পারবে।
এ মাত্রার হ্যারিকেন বিশাল ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবাসিক অঞ্চলে এই মাত্রার ঝড় বাড়ি, গাছ এমনকি বিদ্যুতের খুঁটিও উপড়ে ফেলতে পারে। সাধারণ বিভিন্ন উইন্ড টার্বাইন এ ধরনের রুক্ষ আবহাওয়ায় রীতিমতো লড়াই করে, যার ফলে বিদ্যুতে ওঠানামা করে ও পাওয়ার জেনারেটরও অকালে নষ্ট হয়ে যায়। নিজেদের নতুন এ নকশাকে কোম্পানিটি এমন এক ‘অভিযোজিত ব্যবস্থা’ বলে দাবি করছে, যা চরম টাইফুনের মতো পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা ও স্তিতিশীলতা নিশ্চিত করে। কোম্পানি আশা করছে, এটি ‘সমুদ্র থেকে শক্তি সংগ্রহে নতুন যুগের সূচনা’ করবে।
গুয়াংজুর মতো উপকূলীয় শহরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই টার্বাইন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেখানে নিয়মিতই শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানীভিত্তিক ঝড়ের যুগে। ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের এক-তৃতীয়াংশ নবায়নযোগ্য উৎসের মাধ্যমে সরবরাহ করার লক্ষ্য চীনের। হাজার হাজার পরিবারকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে এ উইন্ড টার্বাইন প্রায় ৫৬ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
মাসুদুর রহমান 














