৪৭ তম প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গেছে ভোটগ্রহণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প-কমলা হ্যারিসের মাঝে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপগুলোতেও বলা হচ্ছে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই প্রায় সমানে সমান। এই নির্বাচনে অভিবাসী, নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং জেন-জিদের পছন্দে এগিয়ে কমলা হ্যারিস, কারণ ডেমোক্র্যাটদের মনজয়ের কৌশল এই গোষ্ঠীগুলোকে প্রভাবিত করতেই ডিজাইন করা। অন্যদিকে কট্টর এবং রক্ষণশীল ঘরানার রিপাবলিকানদের হয়ে প্রেসিডেন্ট দৌড়ে থাকা ট্রাম্প দলের চেয়েও বেশি সক্রিয় এসব দিক দিয়ে। জো বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর কমলা হ্যারিস সত্যিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ান। উঠতি জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে ট্রাম্পের। এখন নির্বাচনেও যদি এই ধারা বজায় থাকে তাহলে পরাজিত হতে পারেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্প এবার আগেভাগেই নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে হুঁশিয়ার করেছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে মার্কিন ইতিহাসে ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গার মতো ঘটনার জন্ম দেওয়ার অভিযোগ থেকে রেহাই পাননি ট্রাম্প।
ক্যাপিটল হিলে দাঙার প্রায় ৪ বছর পার হতে চললেও শেষ হয়নি শঙ্কা। নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে আবারও মিলছে সহিংসতার আভাস। নির্বাচনে হারলে ট্রাম্পের ফল মানা নিয়ে মার্কিনীদের মনে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
ইউগভের জরিপ বলছে, এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশগ্রহণকারী নাগরিক মনে করেন, ভোটের ফলকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধ দেখা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। ১২ শতাংশের দাবি, ট্রাম্প হারলে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে পারেন অনেক অনুসারী। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং স্কার স্কুলের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের পরাজয়ে বড় ধরনের সহিংসতা বাধতে পারে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে।
ওহাইয়ো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল বেক বলেন, যদি ট্রাম্প হারে তাহলে সে তার পরাজয় মানবে না। হার ঠেকাতে সে সবকিছু দিয়েই চেষ্টা করবে। কিন্তু ২০২০ সালের সাথে ২০২৪ এর পার্থক্য হলো, ট্রাম্প এখন প্রেসিডেন্ট নন। তাই ক্ষমতার সর্বোচ্চটুক প্রয়োগ না করতে পারলেও সে অনেকদূর এগোতে পারে। ২০২০ কিংবা ২০২১ সালের পুনরাবৃত্তি করতে পারেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখনো বিশ্বাস করে, সেই নির্বাচনের ফল চুরি করে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, একইরকম ‘চুরি’ যেন এবার না হতে পারে, তা নিয়ে বদ্ধপরিকর রিপাবলিকান শিবির। ‘চুরি’ হলে, অর্থাৎ ট্রাম্প নির্বাচনে হারলে কীভাবে ফলাফল পাল্টাতে হবে, সেই পরিকল্পনাও করে রেখেছে ট্রাম্পের ‘চুরি থামাও’ আন্দোলন।
অনেক বিশ্লেষকের মত, পরাজয় ঠেকাতে আইনি লড়াইও চালিয়ে যেতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফলাফল নেতিবাচক দিকে যাচ্ছে বুঝলে ট্রাম্প ভোটগণনা থামাতে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করতে চাইতে পারেন। এরইমধ্যে, কয়েকটি রাজ্যের আগাম ভোটে নিয়ে অভিযোগও তুলেছেন এই রিপাবলিকান প্রার্থী।
ট্রাম্প বলেছেন, তারা এত এত অর্থ ব্যয় করে। তাও আবার এসব যন্ত্রের পেছনে। তারপরও তারা বলবে আমাদের ফলাফল নির্ধারণ করতে আরও ১২ দিন লাগবে। ডেমোক্র্যাটরা ভোটার আইডি চায় কারণ তারা জানে কারচুপি করার এটিই একমাত্র উপায়। এছাড়া আর কোনো কারণ নেই। দেশ এখন বাঁকা পথে এগোচ্ছে, আমরা তা সোজা করতে যাচ্ছি।
গত রোববার ট্রাম্প উত্তর ক্যারোলিনায় এক ভাষণে বলেছেন, আমরা পরাজিত হবো না।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















