হেড-স্মিথের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া!
যেখানে ভারতের সাথে খেলা হবে, আর সেখানে ট্রাভিস হেড রান করবে না, সেটা যেন দিন দিন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। সেই ধারাবাহিকতায় আরও একবার চাপের মুখে নেমে পাল্টা আক্রমণে সফরকারীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন দাপুটে এক ইনিংসে। রান খরা কাটিয়ে সিরিজে প্রথমবার হাসল স্টিভ স্মিথের ব্যাট। জাসপ্রিত বুমরাহর ফাইফারের পরও তাই প্রথম ইনিংসে ভালো অবস্থানেই চলে গেছে অজিরা।
দুই সেঞ্চুরিতে ভর করে ব্রিসবেন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান।
বৃষ্টির কারণে প্রথম দিনের খেলা সেভাবে হতেই পারেনি। লম্বা হয় তাতে দ্বিতীয় দিনের খেলা। আর সেখানে আরও একবার অস্ট্রেলিয়াররা পারেননি দলকে ভালো একটা শুরু এনে দিতে। দিনের শুরুতেই বুমরাহ ফিরিয়ে দেন উসমান খাজাকে। এক ডিজিটে ফেরেন আরেক ওপেনার ন্যাথান ম্যাকসুইনি।
মাটি কামড়ে ক্রিজে থাকার চেষ্টায় এবার আর সফল হতে পারেননি মার্নাস লাবুশেন। ৭৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ রানের মধ্যে না থাকায় তাই মূল দায়িত্বটা নিতে হত হেডকেই। আর ভারতের বিপক্ষে রান করাটা বরাবরই উপভোগ করা এই বাঁহাতি ব্যাটার সুনিপুণভাবে কাজটা করে দেখান আরও একবার।
একপ্রান্তে হেডের আগ্রাসনের মাঝে স্মিথ যথারীতি ব্যাট করেন তার চেনা গতিতেই। তবে ইনিংস যত গড়িয়েছে, তাকে ততোই দৃঢ় মনে হয়েছে উইকেটে। ট্রেডমার্ক শটে ক্রমেই মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন নিজের সেরা সময়কে। হয়ে যায় ফিফটিও।
আর হেড মাত্র ৭১ বলে পা রাখেন পঞ্চাশে। বোলারদের ওপর তিনি একপ্রান্তে চড়াও হওয়ায় অন্যপ্রান্তে স্মিথের জন্য কাজটা কিছুটা হলেও সহজ হয়ে যায়। জমে ওঠা এই জুটির হাত ধরে তাই দলীয় দুইশর পর তিনশও পার করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
আর এই পথচলায় স্মিথ করেন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৩তম সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই ফরম্যাটে তার চেয়ে বেশি শতক এখন কেবল রিকি পন্টিংয়ের (৪১টি)।
আর ভারতের বিপক্ষে যৌথভাবে এখন সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক ডানহাতি এই ব্যাটার। মাত্র ৪১ ইনিংসে তিন অঙ্কের ঘরে রান করেছেন ১০ বার। দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের জো রুটও ১০ সেঞ্চুরি করেছেন, তবে তার লেগেছে ৫৫ ইনিংস।
স্মিথের ক্লাসিক্যাল ব্যাটিংয়ে একপাশে রেখে হেড মেলে ধরেন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের আরেকটি দুর্দান্ত প্রদর্শনী, যা চাপে রাখে ভারতের বোলারদের। তিনিও তুলে নেন সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত প্রথম স্লিপে স্মিথকে ক্যাচ বানিয়ে এই জুটির ভাঙন ধরান বুমরাহ।
সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে এক ওভারে হেডের পর মিচেল মার্শকেও ফিরিয়ে দেন বুমরাহ। ১৮ বাউন্ডারিতে মাত্র ১৬০ বলে ১৫২ রান আসে হেডের ব্যাট থেকে। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর দিনের বাকি অংশে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে টেনে নেন কিপার অ্যালেক্স ক্যারি। ৪৭ বলে অপরাজিত আছেন ৪৫ রানে। বুমরাহ ৫ উইকেট নিয়েছে ৭২ রানের বিনিময়ে।
ডেস্ক রিপোর্ট 


























