সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা Logo ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে মন্ত্রিপরিষদের পরিপত্র জারি Logo যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প, গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর Logo জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার Logo নতুন বৃষ্টিবলয়ের আভাস: ২৬-২৭ এপ্রিল থেকে হতে পারে স্বস্তির বৃষ্টি Logo দেশে ‘পরিবেশ পুলিশ’ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব Logo সরকারের ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী অংশীদারিত্বের আহ্বান   Logo পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায় Logo শুক্রবার ও শনিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo ঢাকাসহ ১০ জেলায় তাপপ্রবাহ, বিস্তৃত হতে পারে

কয়েক কোটি টাকার পাখির খোঁজে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর!

কয়েক কোটি টাকার পাখির খোঁজে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর!

আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত বিরল প্রজাতির কয়েক কোটি টাকার ২৫টি পাখি বিমানবন্দর থেকে জব্দ হওয়ার দুই বছর পর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে চোরাকারবারিদের হাতে চলে গেছে। আদালতের নির্দেশে এসব পাখি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এখন কোথায় আছে এই পাখিগুলো, তার কোনো সন্ধান নেই। পাখি পাচার ঠেকাতে সারাদেশের সীমান্ত এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে কঠোর নজরদারি।

পাখি নিয়ে জাহিদুর রহমানের করা চাঞ্চল্যকর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সমকাল। সমকাল অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী:

ঘটনার শুরু ২০২৩ সালে।  সেবছরের ৩০ আগস্ট ঢাকার কাঁটাবনের প্রতিষ্ঠান কাশবি এন্টারপ্রাইজ সাইপ্রাস থেকে ৩৬টি পাখি আনে। পাখিগুলোর মধ্যে রয়েছে হাইচিন ম্যাকাও, গ্রিন ইউং ম্যাকাও, রেড ফ্রন্টেড ম্যাকাও, গোল্ডেন পার্কিট, ব্লু থ্রোটেড ম্যাকাও, মিলিটারি ম্যাকাও, স্কার্লেট ম্যাকাও, রুবালিনা ম্যাকাও এবং রেড ম্যাকাও। এর মধ্যে পাঁচটি বৈধ ছিল। বাকি ৩১টি পাখি আনা হয় বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী পাচার, আমদানি, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটিসের অনুমতি ছাড়া। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে সেগুলো আটক হয়।

 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২ সেপ্টেম্বর ‘মিসডিক্লিয়ারেশন’ প্রমাণিত হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কাশবি এন্টারপ্রাইজের মালিক কিশোর কুমার মিত্র ওঝাকে দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করে এবং পাখিগুলো বাজেয়াপ্ত করে। বন বিভাগ এই পাখিগুলো তাদের সাইটিস ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে হস্তান্তরের দাবি জানালেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠায়। ঘটনার পরপরই ওই প্রতিষ্ঠানের সব লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট বাতিল করে বন বিভাগ। পরবর্তী সময়ে চিড়িয়াখানায় মারা যায় ১১টি পাখি। বাকি ২৫টি নিয়ে শুরু হয় আইনি জটিলতা।

 

১১টি পাখি মারা যাওয়ার পর গত ১৬ এপ্রিল কিশোর মিত্র ওঝা কাস্টমস, বন বিভাগ ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করে পাখিগুলো তাঁকে হস্তান্তরের দাবি তুলে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত কাশবি এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে পাখি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদালতের রায় নিয়ে পাখি ফেরত চাইলে বন বিভাগের আপত্তির পরও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বন বিভাগকে পাশ কাটিয়ে কিশোর মিত্র ওঝাকে হস্তান্তর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরুপায় হয়ে বন বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আপিল করলে সেটি আমলে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাখিগুলো প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে হস্তান্তরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন আদালত। সেই আদেশ নিয়ে বন বিভাগ চিড়িয়াখানায় গেলে বলা হয়, পাখিগুলো হস্তান্তর হয়ে গেছে। এর পর থেকে পাখির আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি আমদানিকারক কিশোর মিত্র ওঝারও সন্ধান মিলছে না।

 

এ ঘটনায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বন বিভাগ। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চার কর্মকর্তাকে। বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এবং ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। পাচার চক্র শনাক্তে বন বিভাগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছে।

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান, সাইটিস বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বন অধিদপ্তর থেকে সাইটিসের বিধিবিধান অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনওসি ইস্যু করে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাহজালাল বিমানবন্দরে পোষা পাখি পরীক্ষা করে।

 

তিনি জানান, ওই পাখিগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট পরীক্ষা করে আটক করেছিল। বন অধিদপ্তর সব সময় সাইটিস নিয়ম অনুযায়ী আটক পাখি তার নিজ দেশে ফেরত দেওয়ার জন্য দাবি জানায়। কিন্তু কাস্টমস সেটি মানেনি। উল্টো চিড়িয়াখানার মাধ্যমে সেগুলো পাচারকারীর হাতে চলে যায়।

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, এই পোষা পাখি এখন সরকারের আমানত। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পাখিগুলো উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

 

বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাখিগুলোর দাম অন্তত পাঁচ-ছয় কোটি টাকা হতে পারে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। কাস্টমস, চিড়িয়াখানা ও বন বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি না থাকায় পাচারকারীর হাতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

কাশবি এন্টারপ্রাইজের মালিক কিশোর মিত্র ওঝা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

 

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে পাখিগুলো কাশবি এন্টারপ্রাইজের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। কাস্টমস এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত চেয়েছিল। অন্তর্বর্তী আদেশ প্রতিপালন করাই সমীচীন হবে বলে মত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এর পর কাস্টমস আর কোনো আপিল করেনি।

 

তিনি বলেন, আমি নিজেও মামলার একজন বিবাদী ছিলাম। পরবর্তীকালে কাশবি এন্টারপ্রাইজ আদালত অবমাননার আবেদন করলে কাস্টমস চিঠি দিয়ে আমাকে জানায়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী পাখি হস্তান্তর করতে হবে। আমরা হিসাব করি, ওই সময় পাখিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে চিড়িয়াখানার ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ খরচ জমা দেওয়ার পর কাস্টমস, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আমরা পাখিগুলো কাশবি এন্টারপ্রাইজের কাছে হস্তান্তর করি। হস্তান্তরের আগে বন বিভাগ ও কাস্টমসকে বারবার জানিয়েছি। তবে তখন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাখি হস্তান্তরের পর বন বিভাগ আপিল করে। আদালত পরে নির্দেশ দেন পাখিগুলো বন বিভাগের কাছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন আর সেই পাখিগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা

কয়েক কোটি টাকার পাখির খোঁজে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর!

আপডেট সময় ১২:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত বিরল প্রজাতির কয়েক কোটি টাকার ২৫টি পাখি বিমানবন্দর থেকে জব্দ হওয়ার দুই বছর পর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে চোরাকারবারিদের হাতে চলে গেছে। আদালতের নির্দেশে এসব পাখি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এখন কোথায় আছে এই পাখিগুলো, তার কোনো সন্ধান নেই। পাখি পাচার ঠেকাতে সারাদেশের সীমান্ত এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে কঠোর নজরদারি।

পাখি নিয়ে জাহিদুর রহমানের করা চাঞ্চল্যকর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সমকাল। সমকাল অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী:

ঘটনার শুরু ২০২৩ সালে।  সেবছরের ৩০ আগস্ট ঢাকার কাঁটাবনের প্রতিষ্ঠান কাশবি এন্টারপ্রাইজ সাইপ্রাস থেকে ৩৬টি পাখি আনে। পাখিগুলোর মধ্যে রয়েছে হাইচিন ম্যাকাও, গ্রিন ইউং ম্যাকাও, রেড ফ্রন্টেড ম্যাকাও, গোল্ডেন পার্কিট, ব্লু থ্রোটেড ম্যাকাও, মিলিটারি ম্যাকাও, স্কার্লেট ম্যাকাও, রুবালিনা ম্যাকাও এবং রেড ম্যাকাও। এর মধ্যে পাঁচটি বৈধ ছিল। বাকি ৩১টি পাখি আনা হয় বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী পাচার, আমদানি, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটিসের অনুমতি ছাড়া। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে সেগুলো আটক হয়।

 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২ সেপ্টেম্বর ‘মিসডিক্লিয়ারেশন’ প্রমাণিত হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কাশবি এন্টারপ্রাইজের মালিক কিশোর কুমার মিত্র ওঝাকে দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করে এবং পাখিগুলো বাজেয়াপ্ত করে। বন বিভাগ এই পাখিগুলো তাদের সাইটিস ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে হস্তান্তরের দাবি জানালেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠায়। ঘটনার পরপরই ওই প্রতিষ্ঠানের সব লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট বাতিল করে বন বিভাগ। পরবর্তী সময়ে চিড়িয়াখানায় মারা যায় ১১টি পাখি। বাকি ২৫টি নিয়ে শুরু হয় আইনি জটিলতা।

 

১১টি পাখি মারা যাওয়ার পর গত ১৬ এপ্রিল কিশোর মিত্র ওঝা কাস্টমস, বন বিভাগ ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করে পাখিগুলো তাঁকে হস্তান্তরের দাবি তুলে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত কাশবি এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে পাখি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদালতের রায় নিয়ে পাখি ফেরত চাইলে বন বিভাগের আপত্তির পরও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বন বিভাগকে পাশ কাটিয়ে কিশোর মিত্র ওঝাকে হস্তান্তর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরুপায় হয়ে বন বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আপিল করলে সেটি আমলে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাখিগুলো প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে হস্তান্তরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন আদালত। সেই আদেশ নিয়ে বন বিভাগ চিড়িয়াখানায় গেলে বলা হয়, পাখিগুলো হস্তান্তর হয়ে গেছে। এর পর থেকে পাখির আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি আমদানিকারক কিশোর মিত্র ওঝারও সন্ধান মিলছে না।

 

এ ঘটনায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বন বিভাগ। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চার কর্মকর্তাকে। বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এবং ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। পাচার চক্র শনাক্তে বন বিভাগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছে।

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান, সাইটিস বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বন অধিদপ্তর থেকে সাইটিসের বিধিবিধান অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনওসি ইস্যু করে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাহজালাল বিমানবন্দরে পোষা পাখি পরীক্ষা করে।

 

তিনি জানান, ওই পাখিগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট পরীক্ষা করে আটক করেছিল। বন অধিদপ্তর সব সময় সাইটিস নিয়ম অনুযায়ী আটক পাখি তার নিজ দেশে ফেরত দেওয়ার জন্য দাবি জানায়। কিন্তু কাস্টমস সেটি মানেনি। উল্টো চিড়িয়াখানার মাধ্যমে সেগুলো পাচারকারীর হাতে চলে যায়।

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, এই পোষা পাখি এখন সরকারের আমানত। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পাখিগুলো উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

 

বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাখিগুলোর দাম অন্তত পাঁচ-ছয় কোটি টাকা হতে পারে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। কাস্টমস, চিড়িয়াখানা ও বন বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি না থাকায় পাচারকারীর হাতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

কাশবি এন্টারপ্রাইজের মালিক কিশোর মিত্র ওঝা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

 

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে পাখিগুলো কাশবি এন্টারপ্রাইজের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। কাস্টমস এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত চেয়েছিল। অন্তর্বর্তী আদেশ প্রতিপালন করাই সমীচীন হবে বলে মত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এর পর কাস্টমস আর কোনো আপিল করেনি।

 

তিনি বলেন, আমি নিজেও মামলার একজন বিবাদী ছিলাম। পরবর্তীকালে কাশবি এন্টারপ্রাইজ আদালত অবমাননার আবেদন করলে কাস্টমস চিঠি দিয়ে আমাকে জানায়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী পাখি হস্তান্তর করতে হবে। আমরা হিসাব করি, ওই সময় পাখিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে চিড়িয়াখানার ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ খরচ জমা দেওয়ার পর কাস্টমস, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আমরা পাখিগুলো কাশবি এন্টারপ্রাইজের কাছে হস্তান্তর করি। হস্তান্তরের আগে বন বিভাগ ও কাস্টমসকে বারবার জানিয়েছি। তবে তখন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাখি হস্তান্তরের পর বন বিভাগ আপিল করে। আদালত পরে নির্দেশ দেন পাখিগুলো বন বিভাগের কাছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন আর সেই পাখিগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।