সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইউনেস্কোর প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিবেশ মন্ত্রী Logo নানা সংকটের মাঝে পৃথিবী রক্ষার বার্তা নিয়ে আজ ‘ধরিত্রী দিবস’   Logo দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা Logo ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে মন্ত্রিপরিষদের পরিপত্র জারি Logo যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প, গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর Logo জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার Logo নতুন বৃষ্টিবলয়ের আভাস: ২৬-২৭ এপ্রিল থেকে হতে পারে স্বস্তির বৃষ্টি Logo দেশে ‘পরিবেশ পুলিশ’ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব Logo সরকারের ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী অংশীদারিত্বের আহ্বান   Logo পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায়

দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা

দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা

দেশজুড়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে উজানে বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার শঙ্কা। এতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন নগরের শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে হাওরের কৃষকরাও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এই তাপপ্রবাহ অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা এখনও সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। গত তিন বছরের তুলনায় এবারের গ্রীষ্ম তুলনামূলকভাবে কম তীব্র।

তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

গতকাল রাজধানী ঢাকায় দিনভর ছিল প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজ বুধবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাওরাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে উজানের বৃষ্টিপাত। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারতের উজান থেকে আসা বৃষ্টির পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, বাউলাইসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে কয়েক দিনের মধ্যে আগাম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গতকাল বিকেলে

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাউবো জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় কৃষকদের জন্য জরুরি বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। যেসব জমিতে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান দ্রুত কেটে ফেলতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও এর পর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

হাওরের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা হয়। এতে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, হাওরের ধান যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ সমন্বয় ও প্রস্তুতি নিতে হবে। যেখানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে, সেখানে দ্রুত কাটার জন্য পাশের এলাকা থেকে হার্ভেস্টার ও শ্রমিক আনার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি খাতে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না এবং পানি ঢোকার আগেই হাওরের সব ধান কেটে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইউনেস্কোর প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিবেশ মন্ত্রী

দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময় ১২:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে উজানে বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার শঙ্কা। এতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন নগরের শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে হাওরের কৃষকরাও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এই তাপপ্রবাহ অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা এখনও সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। গত তিন বছরের তুলনায় এবারের গ্রীষ্ম তুলনামূলকভাবে কম তীব্র।

তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

গতকাল রাজধানী ঢাকায় দিনভর ছিল প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজ বুধবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাওরাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে উজানের বৃষ্টিপাত। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারতের উজান থেকে আসা বৃষ্টির পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, বাউলাইসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে কয়েক দিনের মধ্যে আগাম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গতকাল বিকেলে

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাউবো জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় কৃষকদের জন্য জরুরি বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। যেসব জমিতে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান দ্রুত কেটে ফেলতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও এর পর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

হাওরের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা হয়। এতে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, হাওরের ধান যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ সমন্বয় ও প্রস্তুতি নিতে হবে। যেখানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে, সেখানে দ্রুত কাটার জন্য পাশের এলাকা থেকে হার্ভেস্টার ও শ্রমিক আনার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি খাতে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না এবং পানি ঢোকার আগেই হাওরের সব ধান কেটে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।