সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইউনেস্কোর প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিবেশ মন্ত্রী Logo নানা সংকটের মাঝে পৃথিবী রক্ষার বার্তা নিয়ে আজ ‘ধরিত্রী দিবস’   Logo দেশে তাপপ্রবাহ চলমান, হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা Logo ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে মন্ত্রিপরিষদের পরিপত্র জারি Logo যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প, গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর Logo জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার Logo নতুন বৃষ্টিবলয়ের আভাস: ২৬-২৭ এপ্রিল থেকে হতে পারে স্বস্তির বৃষ্টি Logo দেশে ‘পরিবেশ পুলিশ’ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব Logo সরকারের ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী অংশীদারিত্বের আহ্বান  

নানা সংকটের মাঝে পৃথিবী রক্ষার বার্তা নিয়ে আজ ‘ধরিত্রী দিবস’  

নানা সংকটের মাঝে পৃথিবী রক্ষার বার্তা নিয়ে আজ ‘ধরিত্রী দিবস’  

বর্তমান পৃথিবী এরূপ বহুমাত্রিক পরিবেশগত সংকটে আক্রান্ত, যা মানুষের জীবন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক দূষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ভূমির অবক্ষয়, বনাঞ্চল উজাড়, পানি সংকট এবং বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ-এসব চ্যালেঞ্জ পৃথিবীর অস্তিত্বকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানীর লোভে বেপরোয়া শক্তি খেলছে যুদ্ধের খেলা। সব মিলিয়ে পৃথিবী যখন চরম সংকটে ঠিক তখন প্রতিবছরের মতো এবছরও ২২ এপ্রিল পালিত হচ্ছে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবী শুধু একটি গ্রহ নয়, এটি মানব ও অন্যান্য জীবের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। সুতরাং এই অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাসযোগ্য, প্রাণ-প্রকৃতিতে স্পন্দিত‌, দূষণমুক্ত একটি সবুজ সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।

এই সম্মিলিত দায়িত্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে বিশ্ব ধরিত্রী দিবসের এবারে প্রতিপাদ্য, “আমাদের শক্তি, আমাদের ধরিত্রী।”

এই প্রতিপাদ্যটি তুলে ধরে যে, নির্মল বায়ু, নিরাপদ পানি এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা রক্ষায় গণ-উদ্যোগ অপরিহার্য।

এবারের প্রতিপাদ্যের মূল স্তম্ভগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পরিচ্ছন্ন শক্তির ত্বরান্বিতকরণ: ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন তিনগুণ করার লক্ষ্যকে সমর্থন করা ।

গণতান্ত্রিক ও নাগরিক পদক্ষেপ: পরিবেশগত সুরক্ষাকে শক্তিশালী করতে এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ।

ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত শক্তি: পরিবেশগত অগ্রগতি কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস এবং সামাজিক আন্দোলনের ওপর ।

২০২৬ সালের বিশেষ কিছু উদ্যোগ:

দ্য ২৫% রেভোলিউশন: কীভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সামাজিক কর্মকাণ্ড বাজারের ধারা পরিবর্তন করতে পারে এবং পরিবেশ নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে তা তুলে ধরা ।

দ্য ক্যানোপি প্রজেক্ট: স্থানীয় বায়ুমান এবং জীববৈচিত্র্য উন্নত করতে বিশ্বব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো ।

প্লাস্টিক বর্জন: ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্লাস্টিক দূষণের মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করা এবং তা বন্ধ করার আন্দোলন।

 

ধরিত্রী দিবসের ইতিবৃত্ত

১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন শুরু হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ দূষণ, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন মার্কিন সিনেটর গেলর্ড নেলসন। তিনি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডির কাছে এই বিষয়টি আলাপ করার জন্য ওয়াশিংটন যান। এই বিষয়টি বেশ পছন্দ করেন কেনেডি।

এরপর ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টর একাদশ-রাষ্ট্র সংলাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু এ নিয়ে ফলপ্রসু কোনো আলোচনা হয় নি। কিন্তু প্রচারণা অব্যাহত রাখেন নেলসন। যা পরবর্তীতে বহু মানুষকে সচেতন করে তোলে। অবশেষে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ‘ধরিত্রী দিবস’ পালনের দিন হিসাবে ২২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়।

পরের বছর ২২ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে ১ম ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। তখন এর নাম ছিল এনভায়রনমেন্টাল টিচ-ইন।

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাৎসরিক পঞ্জিকায় দিবসটিকে স্থান দেয় জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহকে তা পালনের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। এরপর দিবসটি ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ নামে আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় এই দিবসের গুরুত্ব আরও বেশি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

নানা সংকটের মাঝে পৃথিবী রক্ষার বার্তা নিয়ে আজ ‘ধরিত্রী দিবস’  

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান পৃথিবী এরূপ বহুমাত্রিক পরিবেশগত সংকটে আক্রান্ত, যা মানুষের জীবন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক দূষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ভূমির অবক্ষয়, বনাঞ্চল উজাড়, পানি সংকট এবং বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ-এসব চ্যালেঞ্জ পৃথিবীর অস্তিত্বকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানীর লোভে বেপরোয়া শক্তি খেলছে যুদ্ধের খেলা। সব মিলিয়ে পৃথিবী যখন চরম সংকটে ঠিক তখন প্রতিবছরের মতো এবছরও ২২ এপ্রিল পালিত হচ্ছে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবী শুধু একটি গ্রহ নয়, এটি মানব ও অন্যান্য জীবের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। সুতরাং এই অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাসযোগ্য, প্রাণ-প্রকৃতিতে স্পন্দিত‌, দূষণমুক্ত একটি সবুজ সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।

এই সম্মিলিত দায়িত্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে বিশ্ব ধরিত্রী দিবসের এবারে প্রতিপাদ্য, “আমাদের শক্তি, আমাদের ধরিত্রী।”

এই প্রতিপাদ্যটি তুলে ধরে যে, নির্মল বায়ু, নিরাপদ পানি এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা রক্ষায় গণ-উদ্যোগ অপরিহার্য।

এবারের প্রতিপাদ্যের মূল স্তম্ভগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পরিচ্ছন্ন শক্তির ত্বরান্বিতকরণ: ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন তিনগুণ করার লক্ষ্যকে সমর্থন করা ।

গণতান্ত্রিক ও নাগরিক পদক্ষেপ: পরিবেশগত সুরক্ষাকে শক্তিশালী করতে এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ।

ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত শক্তি: পরিবেশগত অগ্রগতি কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস এবং সামাজিক আন্দোলনের ওপর ।

২০২৬ সালের বিশেষ কিছু উদ্যোগ:

দ্য ২৫% রেভোলিউশন: কীভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সামাজিক কর্মকাণ্ড বাজারের ধারা পরিবর্তন করতে পারে এবং পরিবেশ নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে তা তুলে ধরা ।

দ্য ক্যানোপি প্রজেক্ট: স্থানীয় বায়ুমান এবং জীববৈচিত্র্য উন্নত করতে বিশ্বব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো ।

প্লাস্টিক বর্জন: ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্লাস্টিক দূষণের মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করা এবং তা বন্ধ করার আন্দোলন।

 

ধরিত্রী দিবসের ইতিবৃত্ত

১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন শুরু হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ দূষণ, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন মার্কিন সিনেটর গেলর্ড নেলসন। তিনি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডির কাছে এই বিষয়টি আলাপ করার জন্য ওয়াশিংটন যান। এই বিষয়টি বেশ পছন্দ করেন কেনেডি।

এরপর ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টর একাদশ-রাষ্ট্র সংলাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু এ নিয়ে ফলপ্রসু কোনো আলোচনা হয় নি। কিন্তু প্রচারণা অব্যাহত রাখেন নেলসন। যা পরবর্তীতে বহু মানুষকে সচেতন করে তোলে। অবশেষে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ‘ধরিত্রী দিবস’ পালনের দিন হিসাবে ২২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়।

পরের বছর ২২ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে ১ম ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। তখন এর নাম ছিল এনভায়রনমেন্টাল টিচ-ইন।

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাৎসরিক পঞ্জিকায় দিবসটিকে স্থান দেয় জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহকে তা পালনের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। এরপর দিবসটি ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ নামে আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় এই দিবসের গুরুত্ব আরও বেশি।