সংবাদ শিরোনাম ::
হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের ১ বছর

গাজা যেন গোরস্থান

গাজা যেন গোরস্থান

বারুদে পোড়া পিলার, স্প্লিন্টারে বিদ্ধ দেয়াল, ধসে পড়া ভবন, এসবের নিচে শত শত কিংবা হাজারো লাশ, অসংখ্য গাজাবাসী কবর পাননি, নিজের ভবনের নিচেই চাপা পড়ে আছেন, নগরীর রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানুষ, অবলা প্রাণীর কঙ্কাল। যুদ্ধ শুরু পর থেকে এক বছরে এই রূপ নিয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। টানা ১ বছর ধরে চালানো নৃশংসতায় বর্বরতার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ইসরায়েল।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। হামাসের হামলায় ১২শ ইসরায়েলি নিহত হয়। জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় আরও ২৫০ জনকে।

এর জেরে গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে তেল আবিব। এই এক বছরে ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় ছিটমহলটির প্রায় ৪২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ মানুষ।

কতটা ধ্বংস হয়েছে গাজা?

ইসরায়েলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভূখণ্ডটি। তীব্র হয়েছে খাদ্য সংকট, ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন উপত্যকার ২৩ লাখ অধিবাসীর প্রায় সবাই। এই এক বছরের আগ্রাসনে কার্যত মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য ফিলিস্তিনিরা তাদের দিন পার করছেন চরম অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে।

গাজায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দা।

এক বছরে গাজার ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আনুমানিক ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৯১টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস হয়েছে। উপত্যকার ৬৮ শতাংশ সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ১৯টি বন্ধ হয়ে গেছে; আরও ১৭টি চলছে খুঁড়িয়ে।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইসরায়েলী হামলায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছেন অন্তত ১২৮ সংবাদকর্মী। যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৪০ বছরের কম। এদের মধ্যে আবার ১১ শতাংশই নারী সাংবাদিক।

চিরাচরিত শান্তির বাণী!

গাজা যুদ্ধের এক বছরপূর্তিতে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলা ও এর জেরে গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর বর্ষপূর্তির আগের দিন এক ভিডিও বার্তায় তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি ও গোটা অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

রোববার (৬ অক্টোবর) জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে। ওই দিন যারা নিহত হয়েছেন, যারা যৌন সহিংসতাসহ বর্ণনাতীত সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের সবাইকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, আমি সব জিম্মির ‘নিঃশর্ত’ মুক্তির আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। হামাসকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে জিম্মিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। গুতেরেস আরও বলেন, এখন সময় জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার, সংঘাত বন্ধ করার ও এ অঞ্চলকে গ্রাস করা দুর্ভোগের ইতি টানার। এখন সময় শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের।’

শান্তির পক্ষে রাজপথে বিশ্ববাসী

গাজায় যুদ্ধের বছরপূর্তির প্রাক্কালে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে বিশ্ব জুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছে। গাজায়  যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে। বিক্ষোভে কোথাও পুলিশ বাধা দিয়েছে, কোথাও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ফিলিস্তিনের সমর্থনে লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিট অভিমুখে পুলিশের কড়া পাহারায় বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েক হাজার মানুষ। জার্মানির হামবুর্গ শহরে ফিলিস্তিন ও লেবাননের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ।তারা এ সময় ‘গণহত্যা বন্ধ করুন’ বলে স্লোগান দেন।

ফিলিস্তিনি ও লেবাননের নাগরিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন প্যারিসের রিপাবলিক প্লাজায়। এ সময় অনেক ফিলিস্তিনির হাতে ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘হ্যান্ডস অব লেবানন’ লেখা পোস্টার দেখা দেয়।

তবে ইতালির রোমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩০ জন ও তিনজন বিক্ষোভকারী আহত হন। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফিলিস্তিনি সমর্থকরা জড়ো হন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিতে লাল রঙ মাখিয়ে, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের পতাকা হাতে বিক্ষোভ করেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ড! জলবায়ু ঝুঁকির নতুন অধ্যায়

হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের ১ বছর

গাজা যেন গোরস্থান

আপডেট সময় ০১:০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪

বারুদে পোড়া পিলার, স্প্লিন্টারে বিদ্ধ দেয়াল, ধসে পড়া ভবন, এসবের নিচে শত শত কিংবা হাজারো লাশ, অসংখ্য গাজাবাসী কবর পাননি, নিজের ভবনের নিচেই চাপা পড়ে আছেন, নগরীর রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানুষ, অবলা প্রাণীর কঙ্কাল। যুদ্ধ শুরু পর থেকে এক বছরে এই রূপ নিয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। টানা ১ বছর ধরে চালানো নৃশংসতায় বর্বরতার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ইসরায়েল।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। হামাসের হামলায় ১২শ ইসরায়েলি নিহত হয়। জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় আরও ২৫০ জনকে।

এর জেরে গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে তেল আবিব। এই এক বছরে ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় ছিটমহলটির প্রায় ৪২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ মানুষ।

কতটা ধ্বংস হয়েছে গাজা?

ইসরায়েলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভূখণ্ডটি। তীব্র হয়েছে খাদ্য সংকট, ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন উপত্যকার ২৩ লাখ অধিবাসীর প্রায় সবাই। এই এক বছরের আগ্রাসনে কার্যত মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য ফিলিস্তিনিরা তাদের দিন পার করছেন চরম অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে।

গাজায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দা।

এক বছরে গাজার ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আনুমানিক ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৯১টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস হয়েছে। উপত্যকার ৬৮ শতাংশ সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ১৯টি বন্ধ হয়ে গেছে; আরও ১৭টি চলছে খুঁড়িয়ে।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইসরায়েলী হামলায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছেন অন্তত ১২৮ সংবাদকর্মী। যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৪০ বছরের কম। এদের মধ্যে আবার ১১ শতাংশই নারী সাংবাদিক।

চিরাচরিত শান্তির বাণী!

গাজা যুদ্ধের এক বছরপূর্তিতে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলা ও এর জেরে গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর বর্ষপূর্তির আগের দিন এক ভিডিও বার্তায় তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি ও গোটা অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

রোববার (৬ অক্টোবর) জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে। ওই দিন যারা নিহত হয়েছেন, যারা যৌন সহিংসতাসহ বর্ণনাতীত সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের সবাইকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, আমি সব জিম্মির ‘নিঃশর্ত’ মুক্তির আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। হামাসকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে জিম্মিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। গুতেরেস আরও বলেন, এখন সময় জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার, সংঘাত বন্ধ করার ও এ অঞ্চলকে গ্রাস করা দুর্ভোগের ইতি টানার। এখন সময় শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের।’

শান্তির পক্ষে রাজপথে বিশ্ববাসী

গাজায় যুদ্ধের বছরপূর্তির প্রাক্কালে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে বিশ্ব জুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছে। গাজায়  যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে। বিক্ষোভে কোথাও পুলিশ বাধা দিয়েছে, কোথাও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ফিলিস্তিনের সমর্থনে লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিট অভিমুখে পুলিশের কড়া পাহারায় বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েক হাজার মানুষ। জার্মানির হামবুর্গ শহরে ফিলিস্তিন ও লেবাননের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ।তারা এ সময় ‘গণহত্যা বন্ধ করুন’ বলে স্লোগান দেন।

ফিলিস্তিনি ও লেবাননের নাগরিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন প্যারিসের রিপাবলিক প্লাজায়। এ সময় অনেক ফিলিস্তিনির হাতে ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘হ্যান্ডস অব লেবানন’ লেখা পোস্টার দেখা দেয়।

তবে ইতালির রোমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩০ জন ও তিনজন বিক্ষোভকারী আহত হন। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফিলিস্তিনি সমর্থকরা জড়ো হন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিতে লাল রঙ মাখিয়ে, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের পতাকা হাতে বিক্ষোভ করেন তারা।