তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান প্রতিপক্ষ ফেতুল্লাহ গুলেন মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে স্থানীয় সময় রোববার (২০ অক্টোবর) ৮৩ বছর বয়সি গুলেনের মৃত্যু হয়।
গুলেনের সংগঠন এফইটিও’র একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন গুলেনের ভাগ্নে। এতে বলা হয়, শ্বাস-জনিত সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি এরদোয়ানের এক সময়ের মিত্র ছিলেন কিন্তু হঠাৎ করেই তারা একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যান। গুলেন তুরস্ক এবং এর বাইরে একটি শক্তিশালী ইসলামী আন্দোলন ‘হিজমেত’ তৈরি করেছিলেন।
২০১৬ সালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়। যদিও এরদোয়ানের ডাকে তুর্কি জনগণ রাস্তায় নেমে আসলে ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়।

অভ্যুত্থান চেষ্টায় প্রায় ২৫২ জন প্রাণ হারায় এবং আহত হয় ২ হাজার ৭০০ মানুষ। এই অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গুলেনকে দায়ী করে তুরস্কের সরকার। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এরপর আর কখনোই দেশে ফেরা হয়নি গুলেনের। গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে বসবাস করে আসছিলেন গুলেন। সেখান থেকেই তিনি তার সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
ফেতুল্লাহ গুলেনের জন্ম ১৯৪১ সালে, তুরস্কের এরজুরুম শহরে। প্রাথমিক জীবনে তিনি ইমাম ওয়ায়েজ ও লেখক ছিলেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়ায়েজ হিসেবে বিভিন্ন শহরে ওয়াজ করে বেড়াতেন। পরবর্তীকালে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করেন। এর মাঝে তিনি বেশ কিছু ম্যাগাজিন বের করেন।

সাংগঠনিকভাবে ফেতুল্লাহ গুলেন সত্তরের দশক থেকে সংগঠন গোছানো শুরু করেন। এক শহর থেকে অন্য শহরে কিংবা গ্রাম থেকে শহরে পড়তে আসা ছাত্রদের নানা সমস্যা, বিশেষ করে আবাসন সমস্যা, সমাধানের নিমিত্তে ‘আলোকিত ঘর’ নামে ছাত্র হোস্টেল চালু করার মাধ্যমে তার সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে একটি শিক্ষা আন্দোলন হিসেবে কিংবা সমাজকল্যাণ সংস্থা হিসেবে গুলেন মুভমেন্ট পরিচিতি পায়।
পরবর্তীকালে স্কুল-কলেজ প্রকাশনা, হোস্টেলসহ নানা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা শুরু করেন। ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত নিজেদেরকে একটি ইসলামিক গ্রুপ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। নিছক ধর্মপ্রচার বা ধর্মীয় আধ্যাত্মবাদের মন্ত্র ব্যক্তি-পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া নয়, তার চোখে ছিল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হবার স্বপ্ন।
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে গুলেন নিজেকে প্রগতিশীল ইসলাম বা ইসলামের ‘উদারবাদী’ ধারার একজন প্রচারক বলে পরিচয় দিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর থেকে নিজেকে চরমপন্থী ইসলামের বিপরীতে আরো বেশি করে উদারবাদী ইসলামের অগ্রগণ্য মুখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট 










