নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ব্যস্ত এলাকায় সুউচ্চ ভবনে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহত ৪ জনের মধ্যে একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম। নিহত দিদারুলকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এতে বলা হয়েছে: নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ( এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন , দিদারুল বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তার দু’টি সন্তান এবং তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, তারা তৃতীয় সন্তানের প্রত্যাশায় ছিলেন।
দিদারুলের মৃত্যুর পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, আমরা তাকে যে কাজ করতে বলেছিলাম, তিনি সেই কাজটিই করছিলেন। তিনি নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন, ‘সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বেঁচে আছেন – একজন বীর।’

এদিকে ম্যানহাটন হাসপাতাল থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের মেয়র এরিক অ্যাডামস আরও বলেন, ‘তিনি জীবন রক্ষা করছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কবাসীদের রক্ষা করছিলেন। তিনি এই শহরের আসল ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।’
মেয়র জানান, হামলার পর তিনি দিদারুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি তার বাবার একমাত্র ছেলে ছিলেন। আমি আমার সন্তান জর্ডানের কথা ভাবছি…। এত বড় ক্ষতি অকল্পনীয়।’
নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে মামদানি লিখেছেন: “চার বছর আগে নিউ ইয়র্ক পুলিশে যোগদানকারী একজন বাংলাদেশি অভিবাসী, তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রী, তাদের দুই ছোট বাচ্চা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে পার্কচেস্টারে থাকতেন। যখন তিনি পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন, তখন তার মা তাকে জিজ্ঞাসা করেন কেন তিনি এত বিপজ্জনক চাকরি করবেন। জবাবে দিদারুল তার মাকে তাকে বলেছিলেন, এটি এমন একটি পরিচয় রেখে যেতে চান যা নিয়ে তার পরিবার গর্ব করতে পারে। তিনি তা করেছেন, এবং এর চেয়েও বেশি কিছু করেছেন,”
এদিকে এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেভাদার বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজন বন্দুকধারী শেন তামুরা গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেন ও পরে আত্মহত্যা করেন।

ধারণা করা হচ্ছে যে তামুরা ৩৪৫, পার্ক অ্যাভিনিউয়ের আকাশচুম্বী ভবনে প্রবেশের সময় প্রথমে দিদারুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যদের উপর আক্রমণ করেন, ভবনের ৩৩ তলায় উঠে নিজের উপর গুলি চালান।
আগের রেকর্ড বলছে, তামুরা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তবে কী কারণে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটালেন তা স্পষ্ট নয়।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















