ভারতের শিল্পজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটলো। সফল ব্যবসায়ী এবং টাটা গ্রুপের কর্ণধার রতন টাটার ৮৬ বছর বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি ঘটলো। বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন বর্ষীয়ান এই শিল্পপতি। গত সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে হঠাৎ খবর ছড়ায় রতন টাটা হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু এর কিছু পরে তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান, সেটা ভুল খবর। তিনি ঠিক আছেন। কিন্তু বুধবার আবার ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করে, রতন টাটা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এরপরেই তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবর অনুযায়ী, নিজের আয়ের ৬৫ শতাংশ মানুষের কল্যাণে দান করে যাওয়া রতন টাটার মৃত্যুতে ভারতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দেশটির শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি, আনন্দ মাহিন্দ্রা ও সার্চ ইঞ্জিন গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের মতো বহু প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শোক জানিয়েছেন।
রতন টাটার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে রতন টাটার সঙ্গে একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করে লিখেছেন,‘রতন টাটা ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যবসায়ী কর্ণধার, তার মন মমতায় পরিপূর্ণ ছিল এবং তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। ভারতের অন্যতম পুরোনো এবং অন্যতম সেরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।’
রাহুল গান্ধী এক্সে লেখেন, ‘রতন টাটা ছিলেন দূরদর্শী একজন মানুষ। ব্যবসা এবং জনহিতকর কাজ– উভয় ক্ষেত্রেই তিনি তার চিহ্ন রেখে গেছেন।’
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়
রতন টাটার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হবে, জানিয়েছেন মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তার মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে একদিনের শোক পালন করা হবে বলেও শিন্ডে ঘোষণা করেছেন।
তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এদিনের জন্য নির্ধারিত সব ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, সর্বসাধারণকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মুম্বাইয়ের নরিম্যান পয়েন্টের ন্যাশনাল সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস (এনসিপিএ) এ রতন টাটার মৃতদেহ রাখা হবে।

টাটার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “তার মধ্যে নৈতিকতা এবং উদ্যোক্তার আদর্শ সংমিশ্রণ ঘটেছিল। তিনি উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একজন অনুসরণীর ব্যক্তিত্ব, ভারতের শিল্পোন্নতির একজন প্রতীক।”
১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মানো রতন টাটা বড় হয়েছেন তাঁর দাদি ণবাজবাই টাটার কাছে। ১৯৪৮ সালে তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে তাঁর কাছেই বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন স্থাপত্যবিদ্যায় কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনার ওপর ডিগ্রি নেন। চারবার বিয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অকৃতদার এই মহিরুহ প্রেমেও পড়েছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে সে প্রেম পরিণয়ে পৌঁছায়নি ভারত-চীন যুদ্ধের কারণে। ১৯৬২ সালের সেই যুদ্ধের সময় মেয়ের পরিবার তাদের মেয়েকে ভারতে যেতে দিতে চায়নি। সমাজে অবদানের জন্য ২০০০ সালে পদ্মভূষণ ও ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হলেও তাঁর মুকুটের সবচেয়ে জ্বলজ্বলে রত্নটির নাম সম্ভবত ভারতের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















