বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপের আবাসস্থলে ঘূর্ণিঝড় ‘দানার’ হানা

বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপের আবাসস্থলে ঘূর্ণিঝড় ‘দানার’ হানা

প্রাকৃতিক বিপর্যয় একাধারে ডেকে আনে বহু বিপদ। মানুষের জীবন-জীবিকায় তা বড়সড় আঘাত হানে। তছনছ করে দেয় সাজানো সংসার। আর বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা ঘূর্ণিঝড়গুলোতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ উপকূল বিশেষ করে সুন্দরবন, পাশের দেশে এই সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনের অংশেও লাগে ধাক্কা।  সদ্য পশ্চিমবঙ্গ আর ওড়িশা উপকূলে তাণ্ডব দেখিয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ । এটির  ল্যান্ডফল ছিল ওড়িশার ধামরা ও ভিতরকণিকার মাঝ বরাবর। এই ভিতরকণিকা মূলত ম্যানগ্রোভ এলাকা এবং জীববৈচিত্র্যে ভরা। তা লুপ্তপ্রায় অলিভ রিডলে কচ্ছপদের বাসস্থান। ‘দানার’র ঝাপটায় গোটা এলাকাসহ তছনছ হয়েছে এই কচ্ছপের আবাসস্থলও। দুর্যোগে আরও বিপন্ন জলপাই কচ্ছপের দল। এছাড়া এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে এখানে আসা বহু পরিযায়ী পাখিরও মৃত্যু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদপ্রতিদিন’ এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উপকূলীয় বনে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানগ্রোভ অরণ্য, ভরপুর জীববৈচিত্র্যের কারণে ভিতরকণিকা ভারতের ‘মিনি আমাজন’ বলে পরিচিত। এখানকার মূল বাসিন্দা নোনা জলের কুমির আর অলিভ রিডলে কচ্ছপ – উভয়েই এখানকার বিশেষত্ব। তার মধ্যে অলিভ রিডলে কচ্ছপ এখানে প্রায় সংরক্ষিত। কারণ, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে বাঁচাতে ১৯৮৩ সাল থেকে কচ্ছপ বা তাদের ডিম সংগ্রহ, কেনাবেচা সবই নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তার পরও তাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায় প্রতি বছর কোনও না কোনও ঘূর্ণিঝড়। ফণী, অশনি, আমফান থেকে শুরু করে সর্বশেষ দানা – সব ক্ষেত্রে রিডলে কচ্ছপরা বিপদে পড়েছে।  পরিসংখ্যান বলছে, মে থেকে অগাস্ট পর্যন্ত দুর্যোগের কারণে সৈকতে কচ্ছপদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

তথ্য বলছে, অলিভ রিডলে কচ্ছপ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে সমুদ্র থেকে গাহিরমাথা সৈকতে উঠে আসে ডিম পাড়ার জন্য। গড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০,০০০ টি বাসা বাঁধে তারা। সময়সারণী লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এই সময়ে ডিম বেশিরভাগই ফুটে যায়। ফলে ‘দানা’য় ডিমের ক্ষতি তেমন হয়নি।  তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির যা খবর পাওয়া গিয়েছে, তাতে রিডলে কচ্ছপদের এই আবাসস্থল ও বাসা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভিতরকণিকার আরেক বিশেষ প্রাণী নোনা জলের কুমিরও ‘দানা’র দাপটে নিজ আশ্রয় হারিয়েছে। এমনকি এই কুমির নাকি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়া বাংলাদেশের সুন্দরবন এবং ভারতের অংশটি কয়েক মাসে দ্রুত ক্ষত সারিয়ে তোলে প্রাকৃতিকভাবে। এজন্য অবশ্যই বনসংরক্ষণে আরও সচেতন হতে হবে মানুষকেই। দানার আঘাতে ভারতের ভিতরকণিকার বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্যও দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে এই প্রত্যাশা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রক্ষা পেল তিন হাজারের বেশি গাছ

বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপের আবাসস্থলে ঘূর্ণিঝড় ‘দানার’ হানা

আপডেট সময় ০৫:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

প্রাকৃতিক বিপর্যয় একাধারে ডেকে আনে বহু বিপদ। মানুষের জীবন-জীবিকায় তা বড়সড় আঘাত হানে। তছনছ করে দেয় সাজানো সংসার। আর বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা ঘূর্ণিঝড়গুলোতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ উপকূল বিশেষ করে সুন্দরবন, পাশের দেশে এই সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনের অংশেও লাগে ধাক্কা।  সদ্য পশ্চিমবঙ্গ আর ওড়িশা উপকূলে তাণ্ডব দেখিয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ । এটির  ল্যান্ডফল ছিল ওড়িশার ধামরা ও ভিতরকণিকার মাঝ বরাবর। এই ভিতরকণিকা মূলত ম্যানগ্রোভ এলাকা এবং জীববৈচিত্র্যে ভরা। তা লুপ্তপ্রায় অলিভ রিডলে কচ্ছপদের বাসস্থান। ‘দানার’র ঝাপটায় গোটা এলাকাসহ তছনছ হয়েছে এই কচ্ছপের আবাসস্থলও। দুর্যোগে আরও বিপন্ন জলপাই কচ্ছপের দল। এছাড়া এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে এখানে আসা বহু পরিযায়ী পাখিরও মৃত্যু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদপ্রতিদিন’ এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উপকূলীয় বনে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানগ্রোভ অরণ্য, ভরপুর জীববৈচিত্র্যের কারণে ভিতরকণিকা ভারতের ‘মিনি আমাজন’ বলে পরিচিত। এখানকার মূল বাসিন্দা নোনা জলের কুমির আর অলিভ রিডলে কচ্ছপ – উভয়েই এখানকার বিশেষত্ব। তার মধ্যে অলিভ রিডলে কচ্ছপ এখানে প্রায় সংরক্ষিত। কারণ, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে বাঁচাতে ১৯৮৩ সাল থেকে কচ্ছপ বা তাদের ডিম সংগ্রহ, কেনাবেচা সবই নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তার পরও তাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায় প্রতি বছর কোনও না কোনও ঘূর্ণিঝড়। ফণী, অশনি, আমফান থেকে শুরু করে সর্বশেষ দানা – সব ক্ষেত্রে রিডলে কচ্ছপরা বিপদে পড়েছে।  পরিসংখ্যান বলছে, মে থেকে অগাস্ট পর্যন্ত দুর্যোগের কারণে সৈকতে কচ্ছপদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

তথ্য বলছে, অলিভ রিডলে কচ্ছপ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে সমুদ্র থেকে গাহিরমাথা সৈকতে উঠে আসে ডিম পাড়ার জন্য। গড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০,০০০ টি বাসা বাঁধে তারা। সময়সারণী লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এই সময়ে ডিম বেশিরভাগই ফুটে যায়। ফলে ‘দানা’য় ডিমের ক্ষতি তেমন হয়নি।  তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির যা খবর পাওয়া গিয়েছে, তাতে রিডলে কচ্ছপদের এই আবাসস্থল ও বাসা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভিতরকণিকার আরেক বিশেষ প্রাণী নোনা জলের কুমিরও ‘দানা’র দাপটে নিজ আশ্রয় হারিয়েছে। এমনকি এই কুমির নাকি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়া বাংলাদেশের সুন্দরবন এবং ভারতের অংশটি কয়েক মাসে দ্রুত ক্ষত সারিয়ে তোলে প্রাকৃতিকভাবে। এজন্য অবশ্যই বনসংরক্ষণে আরও সচেতন হতে হবে মানুষকেই। দানার আঘাতে ভারতের ভিতরকণিকার বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্যও দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে এই প্রত্যাশা।