বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলেও ভৌগলিক ও অন্যান্য কারণে বহু মানুষ চরম দারিদ্রাবস্থার মধ্যে বাস করে। বিশেষ করে যারা প্রতিকুল পরিবেশ কিংবা অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল অঞ্চলে বাস করে তারা কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার অভাবে দেশের অগ্রসর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের তেমন সুযোগ পায় না। ফলে তাদের দৃশ্য ও অদৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। অনেকেই কৃষি, অকৃষি বা অন্যের বাড়িতে কাজ ও অন্যান্য দৈনিক কায়িক শ্রমে সংসার চালায়।
নিম্ন আয়ের কারণে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অভাব তাদের তুলনামূলক কম উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে যা স্থানান্তরিত হয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তৈরি হয় দীর্ঘস্থায়ী দরিদ্রের ফাঁদ, যা থেকে তারা কোনভাবেই বের হয়ে আসতে পারে না। বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৮৯ লাখেরও অধিক, যার ৮২ ভাগই গ্রামে বাস করে এবং ৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ পরিবার বাস করেন দারিদ্রসীমার নিচে।
অসহায় দরিদ্র এবং আয় স্বল্পতায় যারা রয়েছেন তাদের জীবনযাপনের জন্য নূন্যতম আয়ের উৎসগুলো খুঁজে নেয়াই হলো বিকল্প আয়মূলক কার্যক্রম। যাকে আমরা সহজ ভাবে বলে থাকি Alternative Income Generating activity-AIG । জীবিকার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কোন একটি পরিবারের আয় বাড়াতে দলগত বা একক ভাবে পরিচালিত একটি ছোট পরিসরের উদ্যোগ। এই ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করার পাশাপাশি তাদের টেকসই জীবিকা অবলম্বন করতে সহায়তা করে থাকে।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র’ বাস্তবায়িত একটি প্রকল্প হলো- “Environment Friendly Alternative Income- EFAI” বা ‘‘পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়’’ কার্যক্রম। ২০২২ সাল থেকে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবিকার মানোন্নয়ন করতে পেরেছেন ঢাকা বিভাগ, রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ডিমলা ও জলঢাকা এবং খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে সব অতিদরিদ্র ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদেরই একজন শাকিলা আক্তার।
এক সময় দারিদ্রের দুঃস্বপ্নে দিশেহারা ছিলেন শাকিলা আক্তার। তার বাবা অন্যের জমিতে কাজ করে পরিবার চালাতো। সংসারের অভাব ঘোচাতে ঢাকায় এসে একটি সেকেন্ডহ্যান্ড সেলাই মেশিন দিয়ে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। কিন্তু কয়েক মাস যাওয়ার পর সেলাই মেশিনটি বার বার নষ্ট হচ্ছিল। এতে কাজের পরিসর কমার সাথে সাথে, বাড়ছিল আর্থিক ক্ষতিরও পরিমাণ। নতুন সেলাই মেশিন কেনার মতো প্রয়োজনীয় টাকাও তখন তার কাছে ছিলো না।
তখন পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয় থেকে ঋণ নিয়ে ঢাকার মিরপুর- ১ এর ধানক্ষেতের মোড়ে ফাতেমা লেডিস টেইলার্স নামে একটি সেলাই দোকান চালু করেন তিনি। এই সেলাই মেশিন দিয়েই প্রতি মাসে তার গড় আয় হয় ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মতো। সংসারের বিভিন্ন খরচ মিটিয়ে কিস্তিও সময়মত দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মোহাম্মাদপুর মহিলা কলেজে ডিগ্রি পড়ার খরচটাও আসছে সেলাইমেশিনের কাজ থেকেই।
শাকিলা আক্তার এখন স্বাবলম্বী। রঙ-বেরঙের কাপড়ে সেলাই ফোড়ের নকশা দিয়েই বুনতে চান সুন্দর একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
নিজস্ব সংবাদ : 




















