সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায় Logo শুক্রবার ও শনিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo ঢাকাসহ ১০ জেলায় তাপপ্রবাহ, বিস্তৃত হতে পারে Logo সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo মাঝারি রূপ নিচ্ছে তাপপ্রবাহ,তাপমাত্রা হতে পারে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস Logo রেলমন্ত্রীর আশ্বাস: পরিবেশের ক্ষতি করে সিআরবিতে কোনো প্রকল্প নয় Logo বগুড়া সিটি করপোরেশনের নামফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, কয়েক এলাকায় ৩ মিটার পর্যন্ত সুনামির আঘাত Logo ইরানি জাহাজ জব্দ, পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত Logo সংরক্ষিত ৩৬ নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল দশার পরিণতি

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা খুঁজছে কলকাতা!

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা খুঁজছে কলকাতা!

ইঁদুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে অন্দরমহলে,রান্নাঘরে ইঁদুরের উৎপাত চরমে। এর চেয়েও শঙ্কা জাগানো কথা হলো- ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক তারের লাইন, কংক্রিটের উড়ালসেতুর ভিত খুঁড়ে ফেলেছে ইঁদুর। কলকাতার বস্তি এলাকা থেকে শুরু করে হেরিটেজ তকমা পাওয়া ভবন রেহাই পায়নি ইঁদুরের আক্রমণ থেকে। ইঁদুর মাটি আলগা করে দিচ্ছে৷ যার ফলে শহরে বড় বড় গাছ পড়ে যাচ্ছে।

কলকাতাবাসী এই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে গল্পের সেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাই যেন হন্যে হয়ে খুঁজছে। এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলছে ডয়চে ভেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা নগর কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরে ফুটপাতের ৬০- ৬২ শতাংশের অবস্থা খারাপ। এর জন্য ভূগর্ভে ইঁদুরের তাণ্ডবকে দায়ী করা হয়েছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম খাবার ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করেছিলেন যেন হোটেলের আবর্জনা, বাসি খাবার রাস্তার ধারে না ফেলা হয়। এই আবর্জনাগুলো থেকে এই ইঁদুরের উৎপাত বাড়ছে৷

পার্কস্ট্রিট, মানিকতলা, হাজরা, বড়বাজার, হাতিবাগান এলাকায় স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে অজস্র। এখানে ফুটপাত তৈরির তিন চার মাসের মধ্যেই গর্ত হয়ে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফুটপাত তৈরি করার পরও ইঁদুরের তাণ্ডবে তা নষ্ট হচ্ছে।

কেন উৎপাত করছে ইঁদুর? 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নগরায়ন বাড়তে থাকায় ইঁদুরের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে৷ নিজেদের আবাস হারিয়ে নতুন আবাসের সন্ধানে ইঁদুরেরা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শহরের বাস্তুতন্ত্রের অংশ হিসেবে ইঁদুর নিশ্চয়ই পড়ে। নগরায়নের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইঁদুরদের স্বাভাবিক  বাসস্থানগুলো অর্থাৎ পার্ক, উদ্যান, জলাশয়ের ধারের জায়গা ইত্যাদি ক্রমশ কংক্রিটের স্থাপনায় ভরে যাচ্ছে৷ ফলে ইঁদুররা যেসব জায়গায় থাকতো, সে সব জায়গা থেকে তাদের বাস্তুচ্যুতি ঘটছে৷ তাই তারা নতুন বাসস্থান খুঁজছে৷ কখনো রাস্তা বা সেতুর অগভীর ভিত্তিতে ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে৷’’

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণীচিকিৎসা বিজ্ঞান ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘কলকাতা এবং হাওড়া সংলগ্ন শহরতলিতে বর্তমান সময়ে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও এর সাথে ইঁদুরের খাবারের পর্যাপ্ত সরবরাহ।”

কলকাতার রাস্তাঘাটে জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে পরিবেশকর্মীরা চিন্তিত।  আর অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে ইঁদুরের উৎপাত- এমনটাই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশকর্মী নব দত্ত। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘কলকাতায় এই দশকের এত খারাপ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অতীতে কোন সময় আমরা দেখিনি। পুরো শহরটা একটা জঞ্জাল নগরীতে পরিণত হয়েছে।’’

 

তাহলে উপায়?

গ্রামাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে ইঁদুর বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের ফলেই কমে যায়। সেখানে সাপ, চিল, পেঁচা ইত্যাদি প্রাণী ইঁদুর খেয়ে পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখে৷ কিন্তু শহরাঞ্চলে সেই সম্ভাবনা কম।

এই পরিস্থিতিতে ইঁদুরের সমস্যা থেকে ফুটপাতের সুরক্ষার জন্য কাঁচের গুঁড়োকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মেয়র। ইতোমধ্যে এই কৌশলে ফুটপাত তৈরি হচ্ছে। ফুটপাত তৈরির সময় মেশানো হয় কাঁচের গুঁড়ো।

অধ্যাপক জোয়ারদার বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদের স্বার্থেই ইঁদুরের সংখ্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ ইঁদুরের গর্তের মুখে কাঁচ, পেরেক জাতীয়  সামগ্রী ছড়িয়ে কাজ না হলে ‘ট্র্যাপার’ দিয়ে ইঁদুর ধরে জঙ্গলে (তাদের অপরিচিত জায়গায়) ছেড়ে দিতে হবে, যাতে তা অন্য বন্যপ্রাণী ও সাপের খাদ্য হয়ে ওঠে৷ এই কাজটা বছরে দু’বার অর্থাৎ শীতের আগে ও পরে নগর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে করলে ফল পাওয়া যাবে৷’’

এদিকে অধ্যাপক বিশ্বাস বলেন, ‘‘ইঁদুর যে কারণে তার স্বাভাবিক জায়গাগুলো থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, পৌর কর্তৃপক্ষকে এই জায়গাটিতে নজর দিতে হবে। যেভাবে দ্রুত জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ কাজ চলছে, সেটি ঠেকাতে হবে। মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার ইঁদুর খায়। রাস্তার ধারের খাবার দোকান যদি ঠিকঠাক ভাবে পরিষ্কার না হয়, তাহলে দোকানের আশেপাশের রাস্তার ইমারত, বাড়িতে ইঁদুরের বাসা বাঁধার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পৌর কর্তৃপক্ষ ইঁদুরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেদের মুখটা যেন আয়নায় দেখেন।’

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

পৃথিবীর অষ্টম জীববৈচিত্র্যময় দেশটিতেই কেবল এই বন্যপ্রাণীগুলো দেখা যায়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল দশার পরিণতি

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা খুঁজছে কলকাতা!

আপডেট সময় ০৬:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪

ইঁদুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে অন্দরমহলে,রান্নাঘরে ইঁদুরের উৎপাত চরমে। এর চেয়েও শঙ্কা জাগানো কথা হলো- ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক তারের লাইন, কংক্রিটের উড়ালসেতুর ভিত খুঁড়ে ফেলেছে ইঁদুর। কলকাতার বস্তি এলাকা থেকে শুরু করে হেরিটেজ তকমা পাওয়া ভবন রেহাই পায়নি ইঁদুরের আক্রমণ থেকে। ইঁদুর মাটি আলগা করে দিচ্ছে৷ যার ফলে শহরে বড় বড় গাছ পড়ে যাচ্ছে।

কলকাতাবাসী এই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে গল্পের সেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাই যেন হন্যে হয়ে খুঁজছে। এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলছে ডয়চে ভেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা নগর কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরে ফুটপাতের ৬০- ৬২ শতাংশের অবস্থা খারাপ। এর জন্য ভূগর্ভে ইঁদুরের তাণ্ডবকে দায়ী করা হয়েছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম খাবার ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করেছিলেন যেন হোটেলের আবর্জনা, বাসি খাবার রাস্তার ধারে না ফেলা হয়। এই আবর্জনাগুলো থেকে এই ইঁদুরের উৎপাত বাড়ছে৷

পার্কস্ট্রিট, মানিকতলা, হাজরা, বড়বাজার, হাতিবাগান এলাকায় স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে অজস্র। এখানে ফুটপাত তৈরির তিন চার মাসের মধ্যেই গর্ত হয়ে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফুটপাত তৈরি করার পরও ইঁদুরের তাণ্ডবে তা নষ্ট হচ্ছে।

কেন উৎপাত করছে ইঁদুর? 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নগরায়ন বাড়তে থাকায় ইঁদুরের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে৷ নিজেদের আবাস হারিয়ে নতুন আবাসের সন্ধানে ইঁদুরেরা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শহরের বাস্তুতন্ত্রের অংশ হিসেবে ইঁদুর নিশ্চয়ই পড়ে। নগরায়নের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইঁদুরদের স্বাভাবিক  বাসস্থানগুলো অর্থাৎ পার্ক, উদ্যান, জলাশয়ের ধারের জায়গা ইত্যাদি ক্রমশ কংক্রিটের স্থাপনায় ভরে যাচ্ছে৷ ফলে ইঁদুররা যেসব জায়গায় থাকতো, সে সব জায়গা থেকে তাদের বাস্তুচ্যুতি ঘটছে৷ তাই তারা নতুন বাসস্থান খুঁজছে৷ কখনো রাস্তা বা সেতুর অগভীর ভিত্তিতে ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে৷’’

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণীচিকিৎসা বিজ্ঞান ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘কলকাতা এবং হাওড়া সংলগ্ন শহরতলিতে বর্তমান সময়ে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও এর সাথে ইঁদুরের খাবারের পর্যাপ্ত সরবরাহ।”

কলকাতার রাস্তাঘাটে জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে পরিবেশকর্মীরা চিন্তিত।  আর অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে ইঁদুরের উৎপাত- এমনটাই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশকর্মী নব দত্ত। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘কলকাতায় এই দশকের এত খারাপ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অতীতে কোন সময় আমরা দেখিনি। পুরো শহরটা একটা জঞ্জাল নগরীতে পরিণত হয়েছে।’’

 

তাহলে উপায়?

গ্রামাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে ইঁদুর বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের ফলেই কমে যায়। সেখানে সাপ, চিল, পেঁচা ইত্যাদি প্রাণী ইঁদুর খেয়ে পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখে৷ কিন্তু শহরাঞ্চলে সেই সম্ভাবনা কম।

এই পরিস্থিতিতে ইঁদুরের সমস্যা থেকে ফুটপাতের সুরক্ষার জন্য কাঁচের গুঁড়োকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মেয়র। ইতোমধ্যে এই কৌশলে ফুটপাত তৈরি হচ্ছে। ফুটপাত তৈরির সময় মেশানো হয় কাঁচের গুঁড়ো।

অধ্যাপক জোয়ারদার বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদের স্বার্থেই ইঁদুরের সংখ্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ ইঁদুরের গর্তের মুখে কাঁচ, পেরেক জাতীয়  সামগ্রী ছড়িয়ে কাজ না হলে ‘ট্র্যাপার’ দিয়ে ইঁদুর ধরে জঙ্গলে (তাদের অপরিচিত জায়গায়) ছেড়ে দিতে হবে, যাতে তা অন্য বন্যপ্রাণী ও সাপের খাদ্য হয়ে ওঠে৷ এই কাজটা বছরে দু’বার অর্থাৎ শীতের আগে ও পরে নগর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে করলে ফল পাওয়া যাবে৷’’

এদিকে অধ্যাপক বিশ্বাস বলেন, ‘‘ইঁদুর যে কারণে তার স্বাভাবিক জায়গাগুলো থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, পৌর কর্তৃপক্ষকে এই জায়গাটিতে নজর দিতে হবে। যেভাবে দ্রুত জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ কাজ চলছে, সেটি ঠেকাতে হবে। মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার ইঁদুর খায়। রাস্তার ধারের খাবার দোকান যদি ঠিকঠাক ভাবে পরিষ্কার না হয়, তাহলে দোকানের আশেপাশের রাস্তার ইমারত, বাড়িতে ইঁদুরের বাসা বাঁধার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পৌর কর্তৃপক্ষ ইঁদুরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেদের মুখটা যেন আয়নায় দেখেন।’