ফুসফুস সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে কিছু নির্দিষ্ট যোগাসন ও প্রণায়াম দারুণ কাজে আসে। নিয়মিত করলে শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়ে, অক্সিজেন গ্রহণ উন্নত হয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে যোগাসন অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ করার পাশাপাশি শরীরের রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। যারা হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভুগছেন তারা নিয়মিত কয়েকটি আসন অনুশীলন করতে পারেন। যোগব্যায়ামের শ্বাস-প্রশ্বাসভিত্তিক অনুশীলন শরীরের ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করে। এতে স্ট্রেস হরমোন কমে। মন স্থির হয়, স্নায়ু শান্ত থাকে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।
যে যোগাসন ফুসফুসের জন্য উপকারী
ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ): পেটের ওপর শুয়ে পড়ুন। হাত দুটি কাঁধের নিচে রাখুন। অর্থাৎ উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালু বুকের দুই পাশে রেখে ধীরে ধীরে শরীরের ওপরের অংশ উপরে তুলুন। শ্বাস নিতে নিতে ধীরে ধীরে বুকে ভর দিয়ে শরীর তুলুন। কাঁধ নিচে রাখুন, গলা লম্বা রাখুন। ১৫-২০ সেকেন্ড ধরে রাখতে পারেন। এ ইয়োগা বুকের খাঁচা খুলে দেয়। এটি করলে ফুসফুসে বেশি বাতাস ঢোকে এবং এটি ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়।
তাড়াসন: দুই পা একসঙ্গে, হাত দুই পাশে নামিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। গভীর শ্বাস নিয়ে হাত মাথার ওপর তুলুন। লম্বা হয়ে ১০-১৫ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে শ্বাস নিন। এ যোগ ফুসফুস পুরোপুরি প্রসারিত করতে সাহায্য করে ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
মৎস্যাসন (ফিশ পোজ): পা ছড়িয়ে বা পদ্মাসনে পিঠের ওপর শুয়ে পড়ুন। বুকে ভর দিয়ে শরীর তুলে গলা পেছনে নিন। বুক ফুলিয়ে গভীর শ্বাস নিন। চিৎ হয়ে শুয়ে বুক ও মাথা উপরে তুলে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে দিন, যাতে মাথার তালু মাটি স্পর্শ করে। শ্বাস ১৫-৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এ যোগাসনে বুকের অংশ পুরো খুলে যায়, গভীর শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। শ্বাসনালীর পথ পরিষ্কার রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা কমাতে সহায়ক।
ধনুরাসন (বো পোজ): পেটের ওপর শুয়ে পা দুটো ভাঁজ করুন। হাতে পায়ের গোড়ালি ধরুন। শ্বাস নিয়ে বুক ও পা দুটো ওপরে তুলুন। উপুড় হয়ে শুয়ে দুই পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে দুই হাত দিয়ে গোড়ালি ধরুন এবং শরীরকে ধনুকের মতো টানটান করুন। শরীর ধনুকের মতো আকৃতি নেবে। ১০-১৫ সেকেন্ড রাখুন। এটি করলে ডায়াফ্রাম ও ফুসফুসে জায়গা তৈরি হয়।
উষ্ট্রাসন (ক্যামেল পোজ): হাঁটু গেড়ে দাঁড়ান। পেছনে ঝুঁকে দুই হাতে দুই গোড়ালি ধরুন। বুক সামনে ঠেলে দিন। গভীর শ্বাস নিন। ১০-২০ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
প্রাণায়াম (শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম):
যোগাসনের পাশাপাশি প্রাণায়াম ফুসফুসের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে।
কপালভাতি: ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দিতে সাহায্য করে।
অনুলোম-বিলোম: শরীরের নাড়ি শুদ্ধ করে এবং মানসিক চাপ কমায়।
আপনার যদি আগে থেকে কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে বিশেষজ্ঞ বা যোগব্যায়াম প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে এই আসনগুলো শুরু করা ভালো।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 

























