রাজধানীর মাতুয়াইলে বর্জ্যের ল্যান্ডফিলে জমেছে সাড়ে চার লাখ টন মিথেন গ্যাস। যা ১ কোটি ২৬ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সমান। এর ফলে প্রায় প্রতিদিনই আগুন লাগছে ল্যান্ডফিলে। ব্যাপক হুমকির মুখে সেখানকার পরিবেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান।
ইনডিপেনডেন্ট টিভির অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দিয়েছে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণে প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। যা ফেলা হয় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে। এখানে দিনে তৈরি হয় ১৫ টন মিথেন গ্যাস। জমতে জমতে মিথেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টন। এই মিথেন গ্যাসের জন্য প্রায়ই আগুন জ্বলছে ল্যান্ডফিলে। পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা দক্ষিণের সঙ্গে কাজ করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। তারা বর্জ্যকে রূপ দিতে চায় বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ পাঁচ ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাতুয়াইলে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে রাজি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি। বর্জ্যের জন্য ডিএসসিসি বছরে পাবে ১২ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড কমানোর জন্যও অনুদান মিলবে। আর সাড়ে চার বছর পর প্রকল্পের ২০ শতাংশ লভ্যাংশও পাবে ডিএসসিসি।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টন ময়লা ব্যবহার করবে, যার বিনিময়ে দৈনিক ৪ লাখ টাকা তারা রেভিনিউ হিসেবে দেবে। পাশাপাশি যেহেতু তারা জায়গাটা ব্যবহার করছে, সেহেতু তারা সেটির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া আমাদের দেবে। সুতরাং, সিটি করপোরেশনের যে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল, এটা আমাদের জন্য বোঝা নয় বরং আশীর্বাদ।
প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে ঈদুল আজহার পর। ১২ বছর পর মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 










